২০১০ থেকে আমি এখানে কাজ করছি। রোগীদের কাউন্সেলিং পার্টটা আমি দেখি। ২০১৩ সাল থেকে আমার কাউন্সেলিং পার্টটা শুরু হয়। কাউন্সেলিং করতে গেলে অনেক ইমোশনাল হয়ে যেতে হয়। যত উচ্চ পর্যায়ের মানুষ আসেন না কেন তারা এখানে এসে ইমোশনাল হয়ে যান। অনেক ব্যক্তিগত ছোট ছোট বিষয় যখন তারা বলেন, যেমন অনেকে গায়ে হলুদে যেতে পারেন না, আপন ভাইয়ের গায়ে হলুদ দিতে পারেন না, বলে যে ১৭ বছর ধরে বাচ্চা হয়নি, ১৮ বছর ধরে বাচ্চা হয়নি, কেন গায়ে হলুদ দেবে তাহলে অনুষ্ঠানটা হবে না এমন অনেক হৃদয়বিদারক বিষয় আছে, যেগুলো আমি নিজেই শুনলে অনেক ইমোশনাল হয়ে যাই বা কেঁদে ফেলি। এ রকম ছোট ঘটনার মধ্যে দুইটা ঘটনা আপনাকে বলি। একটা রিসেন্ট এখানে হয়েছে। উনি আমাদের এখানে এসেছিলেন সিজোফ্রেনিক পেশেন্ট হিসেবে। অনেক দিন ধরে উনার বেবি হচ্ছে না। তারপর ম্যাডামের কাছে এলেন। মেডিসিনগুলো তো আমাদের অফ করে দেয়া লাগবে। নাহলে আইভিএফটা শুরু করতে পারব না। এক নম্বর প্রতিদিন নিয়মিত আসতে হবে। কমপক্ষে ১৫ দিন। এর মধ্যে ১০-১৫ দিন ইনজেকশন দিতে হবে, প্রতিদিন। এটা একটু হৃদয়বিদারক। অনেকে অফিস করেন। তারা একটু মেইনটেইন করে আসেন এবং সকালে আসতে হয়। এটা একটা ব্যাপার আছে। ফ্যামিলিতে অনেকে জানাতে পারেন না, এটাও একটা ব্যাপার আছে। ফ্যামিলিতে আমরা জানাতে পারছি না অনেক পেশেন্ট এ চিন্তা মাথায় নিয়ে ঘোরেন। ওদের হাইড করে আসতে হয়। পুরান ঢাকার কিছু পেশেন্ট আছেন। উনারা কিন্তু পারেন না। এমন যে, সরাসরি বলে আসবেন তেমনও না। তো আমি রিসেন্ট যেটা সিজোফ্রেনিক পেশেন্ট ওনার কথা বলতে পারি। উনি দেখা গেল রিসেন্ট আসছেন। উনি ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলার পর আমার কাছে পাঠিয়ে দেয়া হলো। ম্যাডাম কী কী দেবেন ম্যাডামই সিলেক্ট করে দেন। দেয়ার পরে আমি কথা বলতে গিয়ে দেখলাম, যখন মেডিসিনগুলো অফ করে দিচ্ছি, এমন সিনও হয়েছে তখন উনি ওনার হাজব্যান্ডকে ধরে জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলছে, ওনাকে আঘাত করছে। কিন্তু হাজব্যান্ডেরও অনেক ধৈর্য আছে। উনিও মেইনটেইন করছেন। উনি আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। ওনার ওয়াইফও অনেক কিছু শেয়ার করেছেন। অবশেষে ওনার বেবি হয়েছে। উনি এখন মেডিসিন ছাড়াই পুরোপুরি ঠিক আছেন। আমাদের বাইরেরও কিছু রোগী রয়েছেন। অনেক পেশেন্ট আছেন কানাডা থেকে আসছেন। কিংবা চলে যাবেন। ওনারা এখানে এসছেন, আসার পরে এখানে আইভিএফের ট্রিটমেন্টটা শুরু হলো। এমএইচ অনেকই কম। দুয়েক জায়গায় ওনাদের রেখে এসছেন যে আইভিএফ করবেন কি করবেন না, সেগুলো আসলে করা যাচ্ছিল না। তারপর এখানে এলেন। ম্যাডামের সঙ্গে কথা বললেন। অনেক দিন ঘুরলেন। বসে থাকেননি তিনি। এসে গল্প করে যান আমার সঙ্গে। এরপর ওনার ট্রিটমেন্ট শুরুর পরই এমব্রায়ো রেডি হলো। তখন ওনার স্বামী এসে আমাদের প্রশ্ন করলেন, আমরা বাংলাদেশের অনেক জায়গায় এমব্রায়ো করেছি। মোটামুটি সব সেন্টারে করেছি। লাস্ট আমরা সিঙ্গাপুরে করে এসেছি। আমাদের একটা এমব্রায়ো তৈরি হয়েছিল, কিন্তু তা পজিটিভ আসেনি। তারপর ওনার তিনটি এমব্রায়ো তৈরি হয়েছিল আমাদের এখানে। তো দুইটা ট্রান্সফার করা হয়েছিল। এখনো আমার সঙ্গে ওনার দেখা হয়। ধানমন্ডিতে যখন আমার ছেলেকে হারফিতে নিয়ে যাই তখন দেখা হয়, ওনার হাজবেন্ড বলছেন, আমি জাস্ট বিশ্বাস করতে এসেছি। স্কয়ারে যে আইভিএফ হয় ওনারা জানতেন না। আসলে অনেক আগে থেকেই স্কয়ারে আইভিএফ হয়। ২০০৭ সাল থেকে। আমরা বলি, আপনারা বিশ্বাস করে আসছেন ঠিক আছে, শুরু করে তারপর দেখেন। এখানে ১০০ ভাগ পেশেন্ট স্যাটিসফায়েড হয়ে যান।

ডা. পারিজা জামান

সিনিয়র ক্লিনিক্যাল স্টাফ-আইভিএফ

স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড