দেশের ভোজ্যতেল ও খাদ্যপণ্যের বাজারে বড় অংশীদার টি কে গ্রুপ। খাদ্য সরবরাহ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় কোন বিষয়ে জোর দিচ্ছে টি কে গ্রুপ?

গুণগত মান বজায় রেখে সঠিক সময়ে বাজারে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত রাখাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে টি. কে. গ্রুপ।

দেশের তেল কিংবা ভোগ্যপণ্যের বাজারে প্রায়ই সংকট দেখা দেয়। অনেকে এ সংকটকে কৃত্রিম বলে দাবি করেন। এক্ষেত্রে সাপ্লাই চেইনের প্রধান দুর্বলতা কোথায় বলে আপনি মনে করেন?

মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো প্রকার সুযোগ মিল মালিকদের নেই। তবে মধ্যস্বত্বভোগী ও মজুদদারদের প্রভাবে অনেক সময় কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে দেখা যায়।

বাজারে সাপ্লাই ঠিক রাখতে হলে ডিলার ও বাজারে সবসময় পর্যাপ্ত পণ্য মজুদ রাখতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে বিভিন্ন কারণে সক্ষম ডিলার ও বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য মজুদ রাখা সম্ভব হয় না। ফলে মিল থেকে পাঁচ-সাত দিন সরবরাহ কিছু কম হলেই বাজারে তার প্রভাব পড়ে।

বিশ্ববাজারে দামের ওঠানামা সরাসরি দেশে প্রভাব ফেলে। আপনারা কীভাবে ঝুঁকি মোকাবেলা করেন? খাদ্যনিরাপত্তার জন্য সরকারের নীতিমালা কতটা সহায়ক বলে মনে করেন?

ভোগ্যপণ্যগুলো মূলত কৃষিপণ্য, এগুলোর উৎপাদন অনেকটাই প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। কোনো বছর উৎপাদন বেশি হয় আবার কোনো বছর উৎপাদন কম হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের অস্তিরতা তৈরি হয়। বর্তমান বিশ্বে ভোগ্যপণ্যের বাজারে প্রায়ই অস্থিরতা বিরাজ করে। এ অস্থিরতা থেকে ঝুঁকিমুক্ত রাখার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে কমোডিটি মার্কেট চালু হয়েছে, যা কার্যকর করা জরুরি। খাদ্যনিরাপত্তার জন্য উৎপাদনের পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে সময়ভিত্তিক নীতিসহায়তা দরকার। তাছাড়া মুক্তবাজার অর্থনীতি বাজারে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করবে। পণ্যের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ না করে বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া অতীব জরুরি।

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাত ও সরকারের মধ্যে কোন ধরনের সমন্বয় সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করেন?

খাদ্যনিরাপত্তায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক মান বজায় রেখে সরবরাহ নিশ্চিত রাখা। আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় বাধা হলো আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতা। যেমন বলা যেতে পারে বিএসটিআই নীতির সঙ্গে পিউর ফুডের অনেক নীতির মিল নেই। আবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়মনীতির সঙ্গেও সমন্বয়হীনতা আছে, যা উৎপাদন ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সমন্বয়হীনতা দূর করা জরুরি।

সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ খাতে কী কী পদক্ষেপ নেয়া উচিত সরকারের?

এই মুহূর্তে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতা দূর করা প্রথম ও প্রধান কাজ। যেমন ভোক্তা অধিদপ্তর, বিএসটিআই, সিটি করপোরেশন, পিউর ফুড, ফুড সেইফটি অথরিটিসহ সবার উচিত একক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক একক নীতির মাধ্যমে ব্যবসাকে পরিচালিত করা।