বাংলাদেশের কৃষি খাত স্বাধীনতার পর থেকে কীভাবে অগ্রসর হয়েছে? সেই যাত্রাপথে আপনার মূল্যায়ন কী?

স্বাধীনতার পর সাড়ে সাত কোটি মানুষ ছিল। এখন প্রায় ১৮ কোটি। আগে যেভাবে খাদ্যের ঘাটতি ছিল তার চাইতে আমরা এখন অনেক স্বাবলম্বী। ১৯৭৪ সালে একটা বড় দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। রাস্তা দিয়ে হাঁটলে, গ্রামে গেলে হাড্ডিসার বাচ্চা দেখা যেত, এখন আফ্রিকাতে যেটা দেখা যায়। এখন সারা দেশে এমন বাচ্চা একটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। হয়তো খাওয়ার মান কেমন, পুষ্টিকর স্বাস্থ্যসমৃদ্ধ খাবার তারা পাচ্ছে কিনা—সেটা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। এ নিয়ে বিতর্কের দাবিও থাকতে পারে। তাহলে বলা যায়, আমরা অনেক কিছুতেই উন্নতি অর্জন করেছি। সেখানে কৃষক, আমাদের বিজ্ঞানী, বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবনীর সম্প্রসারণ, বিভিন্ন রকমের ডেভেলপিং পার্টনারস এবং সরকারের নানামুখী পলিসি কার্যক্রম প্রকল্প—সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ খাদ্য ঘাটতি কমেছে। এ নিয়ে আমাদের মূল্যায়ন হলো আমাদেরকে আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। এর চেয়ে আরো ভালো করার সুযোগ হয়তো ছিল।

বর্তমানে আমাদের কৃষি খাতের সবচেয়ে বড় শক্তি ও দুর্বলতাগুলো কী কী?

আমাদের শক্তি হলো আমাদের কৃষি বিশেষজ্ঞ হয়েছে; রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ১৭টি নার্স (ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ সিস্টেম) প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত—এগুলো আমাদের শক্তি। হাইব্রিডসহ বিভিন্ন উদ্ভাবন খাদ্য উৎপাদনে অগ্রগতি দিয়েছে। আমাদের কৃষক হলো মূলশক্তি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারের বিভিন্ন রকম পলিসি। সব মিলিয়ে আমাদের আজকের এ অগ্রগতি। অন্যদিকে দুর্বলতা বলতে আসলে আমরা বলতে পারি, আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। এর মধ্যে আমাদের কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয় ও বন্যা মোকাবেলা করতে হয়। বিভিন্ন রকমের কীটনাশক ব্যবহারের ফলে রাসায়নিক প্রভাব, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়েস্ট—এগুলোর প্রভাব ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এগুলো হলো আমাদের সার্বিক দুর্বলতা।

এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে কি কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে?

হ্যাঁ। সেটা নিয়ে অনেক কাজ চলছে। আমাদের কিছু কাজ হচ্ছে মন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক। আবার আরো কিছু কাজ হচ্ছে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের অধীনে। এর সঙ্গে মানুষের সচেতনতা দরকার। এই যে শিল্পের বর্জ্যের মাধ্যমে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, গাছপালা নষ্ট হচ্ছে। এগুলোতে সরাসরি আমাদের হাত নেই। কিন্তু আমরা বিভিন্ন রকম প্রকল্পের মাধ্যমে সচেতন করার চেষ্টা করছি। সারের ব্যবহার কমানো হচ্ছে। কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর জন্য আমরা নীতিমালা করছি। আমরা আরো অনেক উদ্যোগের মধ্যে আছি। সেগুলো করতে পারলে সমস্যা বা দুর্বলতাগুলো কমবে বলে আমরা আশা করি, সেভাবেই অগ্রসর হচ্ছি।

সবুজ বিপ্লব, হাইব্রিড প্রযুক্তি বা সেচ সম্প্রসারণ—এই অর্জনগুলোর মধ্যে কোনটি কৃষি খাতকে সবচেয়ে বেশি বদলে দিয়েছে বলে মনে করেন?

এগুলো আসলে সমন্বিত প্রয়াস। আমি কোনোটাকে একক বা আলাদাভাবে দেখব না। সবুজ বিপ্লব যেমন আছে, হাইব্রিডও আছে। প্রাইভেট সেক্টরও কাজ করছে। আমাদের ইনব্রিডগুলো বিভিন্নভাবে ভালো করছে। সেগুলোকে আমরা প্রচার-প্রসার করার চেষ্টা করছি। সেচ সম্প্রসারণ নিয়ে বিএডিসি, বিএমডিএ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করছি। এগুলোর সম্প্রসারণ নিয়ে আমাদের এখন ভাবতে হবে। ভূগর্ভস্থ পানি দিয়ে অনেক কৃষি কাজ করা হয়। আমরা এরই মধ্যে দেখতে পেয়েছি যে, আটটি উপজেলায় ভূগর্ভস্থ পানি খুবই বিপদজনক স্তরে চলে গেছে। এগুলোকে আমাদের মাথায় নিতে হবে। আমরা শুধু ইরিগেশনের ওপর ডিপেন্ডেন্ট হব না। ন্যূনতম সেচের মাধ্যমে কীভাবে আমরা বিকল্প পণ্য পেতে পারি সেজন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং আমাদের হটস্পটগুলো বিভিন্ন ক্লাস্টার ভাগ করে দেখা হচ্ছে, কোথায় কোন এলাকায় কোন ধরনের ফসল কোন সময়ে উপযোগী হবে। সেখানে ন্যূনতম পানি দিয়ে কোন ধরনের ফসল করা যায়। এগুলো জনপ্রিয় করার জন্য আমাদের বিভিন্ন প্রক্রিয়া ও কার্যক্রম চলমান। ভবিষ্যতে এ বিষয়গুলো মাথায় নিয়ে আমরা প্রকল্প হাতে নেব এবং সেটা নিয়েই কাজ করছি। সেচ সম্প্রসারণে ব্যাপারে আমরা এখন মূলত সারফেস ওয়াটার (ভূপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া পানি) নিশ্চিত করতে চাচ্ছি। এটি কম খরচে করার চেষ্টা করছি। যাতে পানির খরচ কম হয় সেজন্য বাড়ির পাইপ দিয়ে আমরা অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কাজ করছি। এটা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বিএডিসি ও বিএমডিএ করছে।

প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ ছাড়া এ ‍যুগে বেশি উৎপাদন ও প্রয়োজনীয় খরচ কমানো কঠিন বলেই সবাই মনে করেন। কিন্তু কৃষির যান্ত্রিকীকরণে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে। এ ক্ষেত্রে আপনাদের ভাবনা কী?

কৃষির যান্ত্রিকীকরণে আমরা খুব অল্প সময়ে কিন্তু অনেক দূর এগিয়েছি। ১০ বছর আগে কত শতাংশ ট্রাক্টর ব্যবহার করা হতো—এটা দেখা দরকার। গরু ও প্রচলিত লাঙ্গল দিয়ে আমাদের চাষাবাদ ছিল। এখন ৯৯ শতাংশ চাষ হয় ট্রাক্টরের মাধ্যমে। এরপর কৃষিকাজে হারভেস্টার ও ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনও এখন কমন। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের আরেকটা দিক হলো টেকনোলজি ট্রান্সফার হচ্ছে, ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে। সেটা আমরা বিভিন্নভাবে অনেক প্রকল্পের মাধ্যমে দিচ্ছি। আমরা এখন চাচ্ছি যে সিকোয়েন্সিয়ালি কাজ করতে। হাজার কোটি টাকার একটা বড় প্রজেক্ট ছিল। সেখানে অনেক যান্ত্রিকীকরণের বিষয় ছিল। এটাকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক অস্বাভাবিকতা দেখতে পেয়েছি। হঠাৎ করে একটা নতুন মেজর শিফট হলে তখন কিন্তু মানুষের জন্য নানা রকমের সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ থাকে। এটাকে টেকসই করতে চাই। মানুষকে আগে প্রস্তুত করতে চাই। সেভাবেই আমরা কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। যেমন বড় বড় কমবাইন্ড হারভেস্ট মেশিন আনা হলো। এটা কিন্তু সব জায়গায় ব্যবহার করার মতো বাস্তবতা নেই। আমাদের ল্যান্ডস্কেপ কিন্তু অন্যরকম। জমির আয়তন ছোট। সুতরাং আমাদের কোন ধরনের প্রযুক্তি লাগবে, সেটা কতটুকু কোনভাবে দেয়া উচিত, তৃণমূলে কোন ধরনের টেকনোলজি কৃষকদের জন্য সহজলভ্য হবে—সেটা করছি। সুতরাং আমরা কৃষকদের উন্নত ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করাতে চাই, প্রশিক্ষণ দিতে চাই। বাস্তবতা নিরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা পর্যায়ক্রমে এগিয়ে যেতে চাই। তা না হলে আমাদের কৃষি শ্রমিক যারা আছেন, যারা টেকনোলজি জানেন না, হঠাৎ করে তাদের একটা বড় অংশ বেকার হয়ে পড়বে। বেকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ব্যবস্থা না থাকলে যান্ত্রিকীকরণে আরেক ধরনের সমস্যা তৈরি হবে। যেসব দেশ এ টেকনোলজিকে নিয়েছে, ব্যবহার করছে—তাদের চ্যালেঞ্জগুলো কি আছে, তাদের অভিজ্ঞতা জেনে আগাব।

সার, বীজ ও সেচের ক্ষেত্রে সরকার নানা সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু এগুলো আরো টেকসইভাবে কৃষকদের জন্য সহজলভ্য করতে কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

তিনটা বিষয় নিয়েই ব্যাপক কাজ করছি। সার নিয়ে কিন্তু সরকার একটা বড় ভর্তুকি দেয়। আমাদের মোট বাজেটের ৭০ শতাংশ সারে খরচ হয়। আমাদের ডিএপি একটা সার আছে, যেখানে সারে ২২-২৫ শতাংশ নাইট্রোজেন থাকে। এটা ইউরিয়ার বিকল্প। কিন্তু কৃষকরা এটা না বোঝার কারণে ইউরিয়া এবং ডিএপি দুটাই দিচ্ছে। এতে অর্থের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আমি গত সপ্তাহে রাজশাহীতে গিয়েছিলাম। রাজশাহী জেলায় ১০০-১৫০ বিঘা জমির বিভিন্ন ব্লক আছে। খামারি অ্যাপসের মাধ্যমে যে পরিমাণ সার লাগবে—সেটা দিয়ে ব্লকগুলো করা হয়েছে। আমি তিনটা ভিজিট করেছি। ফলাফল আগের চাইতে অনেক ভালো। সেখানে ৪০ শতাংশ সারের টাকা সেভ হয়েছে। শুধু সারের সঠিক মাত্রার ব্যবহার যদি আমরা করতে পারি, বছরে প্রায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সেভ করতে পারব।

আমরা ইনব্রিড-হাইব্রিড মিলে কোন ধরনের বীজ কোথা থেকে আনলে সত্যিকার অর্থে উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং আমাদের কৃষকদের জন্য সে সহজ হবে—এগুলো নিয়ে খুব সিরিয়াসলি ভাবছি। আমরা যথাযথ উন্নত মানের বীজ চাচ্ছি। কৃষকরা যে বীজগুলো করেন সেগুলোয় যাতে একটা নিয়মতান্ত্রিক হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে আমরা একটা সংযোগ করার চেষ্টা করছি। আমাদের নিজস্ব উৎপাদিত বীজ, সেগুলোর সঙ্গে প্রাইভেট সেক্টরগুলোর সমন্বয় করে মাঠে নিয়ে যেতে চাই। যাতে বীজ সহজলভ্য হয় এবং কৃষকরা সেটা স্বল্পমূল্যে পান।

আর সেচের ব্যাপারে সারফেস ওয়াটারকে আমরা নিশ্চিত করতে চাই। ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার যত কমানো যায়। আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয় সংলাপ করছি। সব মিলিয়ে আমরা চাচ্ছি সেচ ব্যবস্থাপনাটা যেন যথাযথ হয়। সেটার জন্য একটা সমন্বিত উদ্যোগ আমাদের নিতে হবে। আমাদের মূল লক্ষ হচ্ছে ২০৫০ সালের মধ্যে বছর প্রতি যে পরিমাণ খাদ্য মানুষের লাগবে, তার চাহিদা নির্ধারণ করে খাদ্য নিশ্চয়তার ব্যবস্থা করা। এটার জন্য আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে।

প্রান্তিক কৃষকের আয়ের সুরক্ষা ও ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বা নেবে?

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জও। এখন এটা নিয়ে কাজ করছি। এবার আলুর দাম অনেক কমে গেছে। পেঁয়াজের দামও কমে গিয়েছিল। এটা আবার ঠিক হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে একটা বড় পার্থক্য রয়েছে। ফসল উৎপাদন কম হলে দাম বেড়ে যায়। পরের বছর উৎপাদন বেশি হলে দাম কমে যাচ্ছে। এখন আমাদের সঠিক পরিসংখ্যান করতে হবে কী পরিমাণ পণ্য আছে আর কী পরিমাণ লাগবে। এটা ২৫ বছরের জন্য করা হবে। তখন আমরা বুঝতে পারব কোন পণ্য কী পরিমাণ উৎপাদন করতে হবে। তখন পলিসি দিতে পারব। এখানে কৃষকদের সুবিধা দিতে হবে। কেউ পাঁচ হাজার হেক্টর আলু চাষ করলে তাকে বলব, আপনি অর্ধেক পেঁয়াজ বা অন্য ফসল করেন। তাহলে আপনাকে সুবিধা দেয়া হবে। তখন কৃষক লাভবান হলো, সুবিধাও পেল।

আরেকটি বিষয়, আলুর দাম ১৪ টাকা ছিল। আমরা কিন্তু চলমান বাজার ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে আলুর ২২ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছি। আবার সরকার সরাসরি কৃষক ও কোল্ডস্টোর থেকে আলু কেনার উদ্যোগ নিয়েছে।

চাষীদের পেঁয়াজ সংরক্ষণ সমস্যা ছিল। আমরা লাকসই প্রজেক্টে দুইটা প্রকল্প থেকে আট হাজার এয়ারফ্লো মেশিন দিচ্ছি। এর মাধ্যমে প্রত্যেকটা কৃষক কিন্তু তাদের নিজের ঘরের মধ্যেই পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারছে। এয়ারফ্লো মেশিনের মাধ্যমে পেঁয়াজ ছয়-সাত মাস ভালো থাকে। একেকজন কৃষক পাঁচ-১০ টন পেঁয়াজ রাখতে পারছে। এভাবে অনেক পেঁয়াজ সংরক্ষণ হচ্ছে। মাঝখানে পেঁয়াজের দাম কিছু বেড়ে গিয়েছিল। সেখানে আমরা মাত্র ছয় হাজার টন আমদানির অনুমতি দিয়েছি। তাতেই বাজার ঠিক হয়ে গেছে।

এছাড়াও যেখানে এ রকম সমস্যা দেখবে, ব্যবস্থা নেব। কৃষকদের স্বার্থ দেখা আমাদের দায়িত্বের অংশ। কারণ কৃষক ন্যায্য দাম না পেলে পরের বছর ফসল ফলাবে না। তাতে উৎপাদনের ওপর চাপ পড়বে। তাই আমরা ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে চাই।

ভবিষ্যতে কৃষি খাতকে টেকসই করতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় কোন দিকগুলোকে আপনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন?

কৃষি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করতে হলে পরিবেশ, আবহাওয়া ও মানুষের তৈরি সমস্যা- সব একসঙ্গে দেখতে হবে। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বিষয়গুলোকে সমন্বয় করে কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। আমাদের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে। সেগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। এর মধ্যে আমরা কৃষি উন্নয়নের ওপর ২৬৪ জনকে বাইরের উন্নত রাষ্ট্রে পিএইচডি করতে পাঠিয়েছি। গবেষণা উৎসাহ দেয়ার জন্য এটা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সংযোগ, সহযোগিতা করা হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে আমরা গবেষণার প্রায়োগিক বিষয়টাও দেখছি। আর আমাদের যদি অগ্রসর হতে হয় তাহলে চিরাচরিত পদ্ধতিতে থাকলে হবে না, অবশ্যই উদ্ভাবন করতে হবে। সেখানে যেটা দরকার আমরা তা করব।

বহুমুখী বা নতুন ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে কী কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে?

জমি কিন্তু বসে নেই। এক ফসলের জায়গায় দুই থেকে তিন-চার ফসল করা হচ্ছে। এটা কিছু সমস্যাও আছে। এর মধ্যে জমি রেস্ট পাচ্ছে না। প্রচুর সার ব্যবহার হচ্ছে। আবার মূল মালিকরা জমি বর্গা দিয়ে দিচ্ছেন। এগুলো কীভাবে ব্যালেন্স করা যায়—সেটা দেখতে হবে। মাটির স্বাস্থ্য এবং পানির মিতব্যয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুইটা বিষয় নিয়ে আমরা খুবই চিন্তা করছি। আমাদের অংশটা আমরা করছি। অন্যদেরও এগিয়ে আসতে হবে। সমন্বিত প্রয়াস লাগবে। নইলে পুরোপুরি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করা কঠিন। গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব আছে প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা। আশা করছি আপনারা তা করবেন। তাহলে হয়তো মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হবে। তাহলে আমাদের কৃষি ক্ষেত্রে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ আসবে।