গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার মোট ১১টি কমিশন এবং বেশকিছু টাস্কফোর্স ও কমিটি গঠন করেছিল। এর মধ্যে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের বেশকিছু সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে যে বৈষম্যমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা শেখ হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ আরো বাড়িয়েছিল, সেই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারে সরকার কী করছে তা স্পষ্ট নয়।
অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনৈতিক সংস্কার বিষয়ে কোনো কমিশন গঠন করেনি। বিগত সরকারের সময়কার অনিয়ম-দুর্নীতি উদ্ঘাটনে একটি শ্বেতপত্র কমিটি এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক কৌশল নির্ধারণের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছিল। এর মধ্যে শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়েছে ২০২৪-এর ১ ডিসেম্বর আর টাস্কফোর্স প্রতিবেদন জমা পড়েছে ২০২৫-এর ৩০ জানুয়ারি।
শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের লুটপাট, অর্থ পাচার, ব্যাংক খাতের অনিয়ম, বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতিসহ নানা ধরনের অনিয়ম উঠে এসেছে। পাশাপাশি অর্থনীতির সংস্কারে বিভিন্ন সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে। অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে অর্থনীতি ও আর্থসামাজিক বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা চালু করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পরোক্ষ কর আদায়ের চেয়ে ধনীদের কাছ থেকে প্রত্যক্ষ কর বেশি আদায় করা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইত্যাদি।
প্রত্যাশা ছিল অন্তর্বর্তী সরকার সীমিত সময়ের মধ্যে অর্থনীতির সার্বিক পরিবর্তন ঘটাতে না পারলেও কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা অন্তত করবে। আর এ সূচনাটি ঘটানো যেত অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত বাজেটের মাধ্যমে। কিন্তু আমরা দেখলাম বিগত সরকারের মতোই গতানুগতিক বাজেট প্রদান করা হলো যেখানে সরকারের নিজের গঠিত কমিটি, কমিশন ও টাস্কফোর্সের সুপারিশেরও কোনো ছাপ নেই।
বাজেটে কর, শুল্ক ও ভ্যাটের হ্রাস-বৃদ্ধি করা হলেও সামগ্রিকভাবে পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরশীলতা আগের মতোই রাখা হয়েছে, যেখানে মোট রাজস্বের ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ সাধারণ মানুষের ভ্যাট ও শুল্ক থেকে আসবে; গত বাজেটে এ হার ছিল ৬৩ দশমিক ৪ শতাংশ। স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের ১৫ শতাংশ বরাদ্দের সুপারিশের বিপরীতে বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ টাকার অংকে কিছুটা বাড়লেও জিডিপির অনুপাতে তা আরো কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৫৩ শতাংশে, যা বিগত অর্থবছরে ছিল ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ; অথচ ইউনেস্কোর পরামর্শ জিডিপির ৪-৬ শতাংশ। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কিছু ভাতা যেমন বয়স্ক ও বিধবা ভাতা সামান্য বাড়ানো হলেও তা দারিদ্র্যসীমার আয়ের তুলনায় নগণ্য, আর বরাদ্দ ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি থেকে কমিয়ে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটিতে করা হয়েছে, যা জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বরাবরের মতোই সরকারি কর্মচারীদের পেনশন, কৃষি ভর্তুকি, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণের মতো খাতগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
দুই.
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে দেশের অর্থনীতির বিপর্যয়ের একটি কারণ ছিল বিদেশী ঋণনির্ভর মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল অর্থ অপচয়, লুণ্ঠন ও পাচার এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থার আধিপত্য। প্রত্যাশা ছিল অন্তর্বর্তী সরকার এ প্রবণতার বাইরে গিয়ে জাতীয় অর্থনীতি স্বাধীন বিকাশের পদক্ষেপ নেবে, বিগত সরকারের আমলে নেয়া দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য বিপর্যয়কর মেগা প্রকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়ন করবে এবং নতুন করে এ ধরনের প্রকল্প নেয়া থেকে বিরত থাকবে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) প্রথম সভায় সরকারের পক্ষ থেকে মেগা প্রকল্প না নিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ ছোট প্রকল্প নেয়ার কথা বলাও হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল আগের মতোই বিদেশী ঋণনির্ভর মেগা প্রকল্প গ্রহণ অব্যাহত আছে। যেমন জাইকার ঋণে কিমিপ্রতি ৪৭৬ কোটি টাকা হারে মোট ১২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৭ দশমিক ২ কিমি দৈর্ঘ্যের কক্সবাজার-মাতারবাড়ী সড়ক নির্মাণ প্রকল্প (কক্সবাজার-মাতারবাড়ী: সড়কটি যেন ‘সোনা দিয়ে মোড়ানো’ হবে, প্রথম আলো, ১৩ মার্চ ২০২৫), বিশ্বব্যাংকের ঋণনির্ভর ১৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকার ‘বে-টার্মিনাল মেরিন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট, পিপিপি পদ্ধতিতে ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ভোলা-বরিশালে ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ প্রকল্প, দক্ষিণ কোরিয়ার ঋণনির্ভর ১১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার কালুরঘাট রেল কাম রোড সেতু নির্মাণ প্রকল্প ইত্যাদি। (বড় প্রকল্পে না হাঁটার অঙ্গীকার করলেও সে পথেই অন্তর্বর্তী সরকার, বণিক বার্তা, ১৮ মে ২০২৫)
দেখা গেল দেশের অর্থনীতির ওপর বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিদেশীদের প্রভাব কমেনি। দেশের বাজেট, মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতিতে রয়েছে আইএমএফের শর্তের ছাপ। বিদেশীদের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে আগের মতোই লুকোচুরি করা হয়েছে। জনগণকে অন্ধকারে রেখেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক বিষয়ে দরকষাকষি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশী কোম্পানির কাছে ইজারা দিতে সরকার আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিকতাই রক্ষা করছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীর কাছে বন্দরকে আকর্ষণীয় করতে বন্দরের ট্যারিফ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তিন.
অন্তর্বর্তী সরকার যখন দায়িত্ব নেয় তখন দেশের অর্থনীতি ছিল ভঙ্গুর অবস্থায়। এর অন্যতম কারণ ছিল দেশের ব্যাংক খাতে ঋণের নামে অবাধ লুণ্ঠন ও অর্থ পাচার। অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ব্যাংক খাতের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্তৃত্ব বৃদ্ধি করতে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করেছে। ব্যাংক খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করতে বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদও পুনর্গঠন করেছে। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসছে; যদিও খেলাপি ঋণ উদ্ধারে অগ্রগতি হয়নি, দায়ী ব্যাংক কর্মকর্তা ও গ্রাহকদেরও শাস্তি হয়নি। উল্টো বিগত সরকারের মতোই বড় ঋণখেলাপিদের সহজ শর্তে ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৮০টি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে আরো এক হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনর্গঠনের আবেদন।
সাধারণত ঋণখেলাপি হলে সর্বনিম্ন সাড়ে ৪ শতাংশ এককালীন জমা দিয়ে ঋণ পুনর্গঠন করা যায়। এতে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড ও সর্বোচ্চ সাত বছর সময় পাওয়া যায়। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের দেয়া বিশেষ সুবিধা অনুসারে বাছাই করা ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলো মাত্র ১ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ পাচ্ছে। এ ব্যবস্থায় ঋণ পরিশোধে তিন বছর গ্রেস পিরিয়ড এবং পাঁচ থেকে ১৫ বছরের সময় দেয়া হচ্ছে। এ সুবিধা দেয়ার যুক্তি হিসেবে করোনাভাইরাস, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক কারণে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার যুক্তি দেয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির মতো পুরনো ইস্যুতে ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা প্রদান কতটা যৌক্তিক সে প্রশ্ন উঠেছে। তাছাড়া এমন কিছু প্রতিষ্ঠান ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা পাচ্ছে যাদের নামে বিগত সরকার আমলে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ আছে এবং যারা এর আগেও বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া এ ধরনের সুবিধা পেয়েছে। (বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ছাড়ে ২৮০ খেলাপি প্রতিষ্ঠান সুবিধা পেল, প্রথম আলো, ১৩ আগস্ট ২০২৫) ফলে এ সুবিধা বিগত সরকার আমলের মতোই খেলাপি ঋণকে উৎসাহিত করবে কিনা সে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুধু খেলাপি ঋণ পুনর্গঠন সুবিধাই না, আগের মতোই টাকা ছাপিয়ে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সহায়তা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনায় বিভিন্ন রকম উদ্যোগ নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
চার.
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রেমিট্যান্স ও বিদেশী ঋণ বৃদ্ধি এবং সেই তুলনায় আমদানি না বাড়ার কারণে বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি গত বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে, যদিও তা মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি। তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে অর্থনীতির গতি মন্থর হয়েছে, বিনিয়োগ স্থবিরতায় কর্মসংস্থান কমে গেছে, বেড়েছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা। দারিদ্র্য বাড়া সত্ত্বেও ভর্তুকি দামে খাদ্যপণ্য বিক্রি-সরবরাহ কমেছে।
গণ-অভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছিল শ্রমজীবী মানুষ। কিন্তু অভ্যুত্থানের পর তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। গণ-অভ্যুত্থানের সূত্রপাত কর্মসংস্থানের ইস্যুকে কেন্দ্র করে ঘটলেও অন্তর্বর্তী সরকারের দিক থেকে বেকারত্ব দূরীকরণে গুরুত্ব দিতে দেখা যায়নি। বিগত সরকার আমলে বন্ধ হওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ও চিনিকলগুলো চালু করা কিংবা অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলো চালু করার ব্যাপারে জোরালো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বন্ধ ছয়টি চিনিকলের মধ্যে দুটি চিনিকল চালুর জন্য এ বছর আখ রোপণের খরচ বাবদ মাত্র ১২ কোটি ও পরবর্তী দুই বছরের জন্য আরো ১০৬ কোটি টাকা চাওয়া হলেও বরাদ্দ করা হয়নি। অভ্যুত্থানের পর শুধু গাজীপুরেই ছোট-বড় মিলিয়ে ১০৬টি শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে প্রায় ৭৩ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। এদের কেউ কেউ আগের চেয়ে কম বেতনে চাকরি পেলেও হাজার হাজার শ্রমিক এখনো বেকার। অনেকেই চাকরি না পেয়ে অটোরিকশা চালানো, সবজি বিক্রি, ফেরি করে পণ্য বিক্রি ইত্যাদি অনানুষ্ঠানিক পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। (চাকরি পাচ্ছেন না গাজীপুরের কাজ হারানো শ্রমিকরা, কী করছেন তারা, প্রথম আলো, ৯ আগস্ট ২০২৫) অন্তর্বর্তী সরকার এ শ্রমিকদের কোনো খবর রাখেনি। বরং বকেয়া মজুরির দাবিতে আন্দোলনে নামা শ্রমিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ব্যাটারিচালিত রিকশা জব্দ করে দুমড়ে-মুচড়ে ডাম্পিং করা হয়েছে। আন্দোলনের মুখে কেবল পোশাক শ্রমিকদের বার্ষিক মজুরি (ইনক্রিমেন্ট) ৫ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করা হয়, যা মূল্যস্ফীতির তুলনায় যথেষ্ট নয়। অন্য খাতের শ্রমিকরা বাড়তি কিছু পাননি। শ্রম সংস্কারের সুপারিশ বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেই, উদ্যোগ নেই জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের।
অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দেশের সবচেয়ে বড় উদ্যোক্তা শ্রেণী কৃষকের স্বার্থ তেমন গুরুত্ব পায়নি। কৃষি খাত সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কৃষকের সার-বীজের দাম ও প্রাপ্যতা, সেচের পানি কিংবা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিয়ে যে সংকট তার সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে বরাবরের মতো কৃষক সার ও সেচের সংকটে পড়েছে, আলু-পেঁয়াজের মতো ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
পাঁচ.
দীর্ঘ স্বৈরশাসনে সৃষ্ট সংকট শুধু রাজনৈতিক-প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে সমাধান করা যায় না। অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যবস্থা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে অর্থনীতির মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া রাজনৈতিক সংস্কার টেকসই হয় না। ইতিহাস সাক্ষী, কাগজে-কলমে উৎকৃষ্ট সংবিধানও যদি মানুষের জীবন-জীবিকার সংকটের সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তা সহজেই ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং স্বৈরতন্ত্র আবারো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আজ বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অনুশীলন চলছে, মৌলিক অর্থনৈতিক সংস্কার ছাড়া তার কতটুকু বাস্তবায়ন করা যাবে এবং বাস্তবায়ন করা গেলেও তার কতটুকু টেকসই হবে—সেই প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।
কল্লোল মোস্তফা: বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ ও উন্নয়ন
অর্থনীতিবিষয়ক লেখক





