দেশের বীমা খাতে গত এক বছরে কী ধরনের সংস্কার হয়েছে?

আমাদের প্রধান দায়িত্বই হলো সংস্কার করা। সংস্কারের জন্যই এখানে দায়িত্ব নিয়েছি। অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমরা ব্যাপকভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের মূল সংস্কার কার্যক্রমগুলোকে আমরা তিন ভাগে ভাগ করতে পারি। আইনগত সংস্কার, ডিজিটাল সংস্কার ও ক্যাপাসিটি বিল্ডিং বা প্রশাসনিক সংস্কার।

আইনগত সংস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে বীমা আইন, বীমাকারীর রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন আইন এবং কর্তৃপক্ষ আইন। এ চারটা আইন বীমা শিল্পের মেরুদণ্ড। এগুলোর খসড়া করে ওয়েবসাইটে দিয়েছি, অংশীজনদের মতামত নিচ্ছি। মূল আইনগুলোর বাইরেও আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধিবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। যেমন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধান, ২০১২। এ মুহূর্তে ১৯টি কোম্পানিতে সিইও নেই। আমরা একটি সিইও পুল তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম, সেখানেও আমরা পর্যাপ্ত আবেদন পাইনি। যে আবেদনগুলো পেয়েছি তার মধ্যে নন-লাইফে মাত্র একজনকে পুলভুক্ত করতে পেরেছি। আর লাইফে ১৬টি আবেদনের মধ্যে মাত্র চারজনকে পুলভুক্ত করতে পেরেছি। যেখানে পদ খালি আছে অনেক বেশি।

জীবন বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে এজেন্ট নিয়োগ ও নবায়ন বড় সমস্যা। এটা সমাধানে প্রবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি। বীমা জরিপকারী নিয়োগ নন-লাইফের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এটারও খুবই বাজে অবস্থা। এটারও আমরা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। তারপর লাইফ ও নন-লাইফে উভয় ক্ষেত্রে দাবি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য যে কমিটি রয়েছে, সে কমিটির প্রবিধানেও সমস্যা রয়েছে। আমরা এটারও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। ২০১০ সালে বীমা আইন হলেও বীমা কোম্পানিগুলোর সলভেন্সি মার্জিনের ওপর রেগুলেশন ছিল না, আমরা উদ্যোগ নিয়ে এরই মধ্যে সেটি সম্পন্ন করেছি।

মেটলাইফ পুরোপুরি বিদেশী মালিকানায় এবং এলআইসি ৬০ শতাংশ মালিকানায় বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ কোম্পানিগুলোর মুনাফা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের জটিলতা রয়েছে, যেটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য আলোচনায়ও প্রভাব রেখেছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্যও আমরা কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছি। ব্যাংকাসুরেন্স ও ইন্স্যুরটেকের জন্য গাইডলাইন থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়, আমরা সেটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। করপোরেট এজেন্ট গাইডলাইনস তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য বিভিন্ন ধরনের ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল তৈরি করা সম্ভব হবে। মোটামুটি এগুলো হলো আমাদের আইনগত সংস্কার।

ডিজিটাল সংস্কারের মধ্যে রয়েছে ইউনিফায়েড মেসেজিং প্লাটফর্মের (ইউএমপি) রূপান্তর। ইউএমপি আগে থেকেই থাকলেও এটা কার্যকর ছিল না। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর এটিকে পরিবর্তন করে ইন্স্যুরেন্স ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইআইএমএস) করা হয়েছে। এখানে শুধু নামের পরিবর্তন নয় কাজের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে এটি শুধু মেসেজিং সার্ভিস ছিল, বর্তমানে এখানে ১০টি সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এসএমএস, ই-মেইল নোটিফিকেশন, সেন্ট্রাল ডাটা ওয়্যারহাউজ, ই-রিসিপ্ট, পলিসিহোল্ডার পোর্টাল, মোবাইল অ্যাপ, এজেন্ট লাইসেন্সিং অনলাইন, ই-কেওয়াইসি, ইলেকট্রনিক রিপোর্ট ভেরিফিকেশন ও বিজনেস ইন্টেলিজেন্স মডিউল। এভাবে ইউএমপিকে আমরা আইএমএসে রূপান্তর করেছি। তবে এটি নতুন যুগের বীমা শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত নয়। সেজন্য ভবিষ্যতে আমরা ন্যাশনাল কোর ইন্স্যুরেন্স সলিউশন সিস্টেম চালু করতে চাই। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো মাল্টিপল ডাটাবেজ ব্যবহার করছে বলে জানা যায়। কোম্পানিগুলো আইডিআরএকে যেসব ডাটা দিচ্ছে, সেগুলোর অথেনটিসিটি ও ইন্টিগ্রিটি নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে ন্যাশনাল কোর ইন্স্যুরেন্স সলিউশন সিস্টেমের দিকে যেতে হবে, যার আওতায় সম্পূর্ণ ডাটাবেজ আমাদের হাতে থাকবে।

এছাড়া ডিজিটাল সংস্কারের আওতায় আইডিআরএর অভ্যন্তরীণ কাজ একটি এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্লানিংয়ের মাধ্যমে করার জন্য দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা ১৪টি মডিউল বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব। এছাড়া রেগুলেটরি টেকনোলজি সলিউশনের আটটি মডিউল বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি, যার মাধ্যমে আমরা বীমা কোম্পানিগুলোকে ডিজিটাল রেগুলেটরি সার্ভিস দিতে পারব। সুপারভাইজরি টেকনোলজি সলিউশনের আওতায় সাতটি মডিউল রয়েছে। এর মাধ্যমে বীমা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিপোর্ট পেয়ে যাব। পাশাপাশি এর মাধ্যমে ফ্রড ডিটেকশনও করা যাবে।

প্রশাসনিক সংস্কারের মধ্যে বীমা খাতের মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ চার্টার্ড ইন্স্যুরেন্স ইনস্টিটিউট তৈরির জন্য আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্স্যুরেন্স ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বীমা খাতে ব্যাপকভাবে দক্ষতার সংকট রয়েছে। দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিআইএম প্রতিষ্ঠা করা হবে। বাংলাদেশ অ্যাকচুরিয়াল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বীমা খাতে মনিটরিং, সুপারভাইজিং ও গাইডেন্স বাড়ানোর জন্য বিদ্যমান জনবল তিন গুণ বাড়াতে চাইছি। পাশাপাশি আমাদের কর্মীদের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এসব সংস্কার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

আইডিআরএর তথ্যানুসারে, দেশের বীমা খাতের ৪৭টি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে উচ্চ ও মধ্যম পর্যায়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

আমরা রিস্ক বেজড অ্যাপ্রোচের দিকে যাচ্ছি। ঝুঁকির ক্ষেত্রে আমরা সাতটি মানদণ্ড চিহ্নিত করেছি, যার ভিত্তিতে কোম্পানিগুলোকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে প্রিমিয়ামের প্রবৃদ্ধির হার কেমন, লাইফের ক্ষেত্রে পলিসি নবায়নের অনুপাত ও নন-লাইফের ক্ষেত্রে দাবির অনুপাত, মেয়াদোত্তীর্ণ দাবি ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা, ব্যবস্থাপনা ব্যয়, শীর্ষ কর্মকর্তাদের পেশাগত যোগ্যতা এবং আইন ও বিধিবিধান পরিপালন। এ মানদণ্ডগুলোর ওপর ভিত্তি করে আমরা মূল্যায়ন করছি একটি প্রতিষ্ঠান কতটুকু ঝুঁকিতে রয়েছে। এক্ষেত্রে যেসব বীমাকারী প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আমরা মনে করছি, এরই মধ্যে সেগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কী কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকিতে পড়েছে, কারা এজন্য দায়ী, সেগুলো নিরীক্ষায় চিহ্নিত করা হবে। চিহ্নিত করার পর তাদের বিষয়ে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক্ষেত্রে যেসব প্রতিষ্ঠান উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে এবং অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, নিরীক্ষায় উঠে আসার বিষয়ে বীমাকারীর রেজল্যুশন অধ্যাদেশ অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ অধ্যাদেশ অনুসারে অকার্যকর হয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিগ্রহণ, একীভূতকরণ, রূপান্তরের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা হবে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রয়োজন হবে, যা বিদ্যমান ও নতুন শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে নেয়া হবে। হয়তো সরকারের কাছ থেকেও আমরা আর্থিক সহায়তা চাইব। অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো কার্যকর কিন্তু অব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমরা যেসব আইনি সংস্কার করছি তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করব। আমরা আশাবাদী যারা অফ ট্র্যাকে চলে যাবে তাদের অন ট্র্যাকে নিয়ে আসতে পারব।

বীমা দাবির টাকা পরিশোধ না করা দেশের বীমা খাতের বহু পুরেনো সমস্যা। ফলে খাতটির প্রতি গ্রাহকের আস্থা তলানিতে এসে ঠেকেছে। এ খাতে আস্থা সংকট দূর করতে আপনারা কী উদ্যোগ নিয়েছেন?

আস্থার সংকট বীমা খাতের প্রধান সমস্যা। দীর্ঘদিনের সুশাসনের অভাবে এটি তৈরি হয়েছে। রাতারাতি এটা থেকে উত্তরণ করা যাবে না। এর সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য আইনগত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। বিগত সময়ে আইডিআরএ যথাযথভাবে বীমা কোম্পানিগুলোকে তদারকি বা সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে পারেনি। কারণ বীমা আইন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ক্ষমতায়িত করা হয়নি। নিয়ন্ত্রক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাখা হয়েছে। অপরাধীদের শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে জরিমানা করা ছাড়া তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। জরিমানার টাকাটাও খুব সামান্য। একটা কোম্পানির পর্ষদ খারাপ কাজ করে যাচ্ছে অথচ সে পর্ষদকে আমরা অপসারণ করতে পারি না। যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের কাছে পর্ষদ অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে। বীমা কোম্পানির চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন, পর্ষদে কারা আসছেন, এসব বিষয়ে আইডিআরএর অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু ব্যাংকের ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব না। দুর্নীতি, অনিয়ম বহু কিছু হচ্ছে, কিন্তু আমরা কিছু করতে পারছি না, আইডিআরএ কিছু করতে পারছে না। এভাবে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আইডিআরএ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। ফলে আজকে এ অবস্থার তৈরি হয়েছে। এটা থেকে বের হতে হলে প্রথমত আইনগত সংস্কার করে আইডিআরএকে ক্ষমতায়িত করতে হবে। দ্বিতীয়ত জনবল ও সম্পদ বাড়াতে হবে। আইডিআরএকে যে শুধু আইনগতভাবে পঙ্গু করা হয়েছে, তা নয় আর্থিকভাবেও পঙ্গু করা হয়েছে। কোম্পানির নিবন্ধন নবায়ন ফির ক্ষেত্রে শতকরা ৩৫ পয়সা আইডিআরএকে দিতে হতো, সেটি কমিয়ে ১০ পয়সা করা হয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করতে হবে। তাছাড়া কোম্পানিগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশের মধ্যে আইন না মানার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এজন্য ব্যাপকভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং বীমাকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমেও ভূমিকা রয়েছে। সবাই মিলে এটা করতে হবে। আইডিআরএর একার পক্ষে সম্ভব হবে না। আস্থার সংকট দূর না হলে বীমা খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সবাই মিলে চেষ্টা করতে হবে।

সংস্কারের ক্ষেত্রে কোনগুলো আপনারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে চাইছেন?

সব সংস্কারই আমরা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে চাই, বিশেষ করে নিয়ন্ত্রণ কাঠামোসংক্রান্ত সংস্কারগুলো। ডিজিটাল অবকাঠামোও এ সময়ের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ন্যাশনাল কোর ইন্স্যুরেন্স সলিউশন সিস্টেম ডিসেম্বরের মধ্যে সম্ভব নয়, এটি ২০২৬ সালের মধ্যে করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাইভেট রিইন্স্যুরার তৈরি করা, বিদেশী কোম্পানিকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার মতো কাজগুলো আগামী বছরের মধ্যে করতে চাই।

আপনি বীমা কোম্পানির একীভূতকরণের কথা বলছিলেন। এটি কখন বাস্তবায়ন করতে চাইছেন?

একীভূতকরণের জন্য আগে আমাদের বীমাকারীর রেজল্যুশন অধ্যাদেশ প্রণয়ন করতে হবে। এটি আমরা এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করব। তারপর সামনের বছর এ রেজল্যুশনের ভিত্তিতে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা শুরু হবে। রেজল্যুশন প্রণয়ন করার আগে একীভূতকরণের জন্য আমাদের কাছে নিয়ন্ত্রক ক্ষমতাই নেই। তাই এটি আগে করা প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যবীমা ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশে এটি তেমন সাড়া পাচ্ছে না। স্বাস্থ্যবীমার পরিধি বিস্তৃত করতে আপনাদের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি?

স্বাস্থ্যবীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বীমা খাতের নতুন সীমান্ত হচ্ছে স্বাস্থ্যবীমা। এখানে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। গ্রুপ স্বাস্থ্যবীমা ও একক স্বাস্থ্যবীমা দুটোর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে গ্রুপ স্বাস্থ্যবীমা মোটামুটি প্রচলিত আছে। তবে একক স্বাস্থ্যবীমার প্রচলন খুব বেশি নেই। এক্ষেত্রেও ঘুরেফিরে আস্থা সংকটের কারণে মানুষ আগ্রহী হচ্ছে না। আবার বীমা কোম্পানিগুলোও একক স্বাস্থ্যবীমার প্রসারে আগ্রহ দেখায় না। এক্ষেত্রে আমরা যদি স্বাস্থ্য খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিলে একটি কাঠামো দাঁড় করাতে পারি, তাহলে এখানে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সেগুলো দূর করা সম্ভব। ইন্স্যুরটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাস্থ্যবীমা বাজারজাত করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। মাইক্রো ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রেও কোনো নিয়ন্ত্রক কাঠামো নেই। মাইক্রো ইন্স্যুরেন্স বীমা কোম্পানির জন্য নতুন একটি বাজার হিসেবে অপেক্ষা করছে। নন-লাইফ বীমা খাত বাধ্যতামূলক অগ্নি ও নৌবীমার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বিনাশ্রমেই এটি পাওয়া যায়। অথচ আবাসিক ও প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেরই অগ্নি বীমার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু কেউ এটি করার জন্য বীমা কোম্পানিগুলোর দিক থেকে কোনো চেষ্টা নেই। বিআইকে সঙ্গে নিয়ে বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন পণ্য চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান পণ্যের বাজার বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।