দেশে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ সুগম করতে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব আমরা দেয়ার চেষ্টা করেছি। এ প্রস্তাবের আরো একটি লক্ষ্য হলো গণতন্ত্রে উত্তরণের পথ প্রশস্ত করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল নির্বাচন ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে কী কী বিষয়ে আমাদের অগ্রাধিকার দেয়া দরকার। এ নিয়ে আমরা অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছি। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জাতীয়ভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধি, সমাজের বিশিষ্টজন এবং পেশাজীবী বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে আমরা কথা বলেছি।
বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনার ফলে আরো উপলব্ধি হয়েছিল যে শুধু নির্বাচনী অঙ্গন না, আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনকেও দুর্বৃত্তমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনকে পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি টাকার খেলা অর্থাৎ মনোনয়ন-বাণিজ্য থেকে শুরু করে ভোট কেনাবেচার দিকেও আমাদের মনোযোগ দিতে হবে।
এদিকে নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটিকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে যাতে তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমাদের নির্বাচন কমিশনগুলো নানা কারণে ব্যর্থ। তাই নির্বাচন কমিশনকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানোকে আরেকটা অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে আমরা চিহ্নিত করেছি। যার মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী এবং কার্যকর করতে হবে।
কমিশনের অগ্রাধিকারের আরেকটি বিষয় হলো নির্বাচন কমিশন। আমাদের দেশে দুর্ভাগ্যবশত নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে না। অনেকগুলো কারণ আছে যেমন তাদের পক্ষপাতদুষ্টতা, তাদের যোগ্যতার অভাব ইত্যাদি। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রভাব হলো তাদের ওপর সরকারের প্রভাব। নির্বাচনকালীন সরকার। আমাদের দেশের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, নির্বাচনকালীন সরকার যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হয় তাহলে কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। তাই নির্বাচনকালীন একটা নিরপেক্ষ সরকার থাকা, যেটা আমাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল, এ রকম একটি সরকার ফিরিয়ে আনা দরকার।
মোটা দাগে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার দরকার। সুতরাং এ কনসেপচুয়াল ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে আমরা আমাদের সুপারিশগুলো সাজিয়েছি। আনন্দের সঙ্গে বলব আমাদের সুপারিশগুলো ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এগুলো যদি বাস্তবায়িত হয় তাহলে আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থাটা পরিচ্ছন্ন হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচ্ছন্ন হওয়ার পথ প্রশস্ত হবে। উল্লেখ্য, রাজনীতিতে টাকার খেলা পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না, কারণ টাকার খেলা অদৃশ্যভাবে হয়ে থাকে। আর যেটা অদৃশ্য তার ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা দুরূহ। তবুও আমরা কিছু কিছু প্রস্তাব করেছি, যার মাধ্যমে টাকার খেলার ওপর এর বিরূপ প্রভাব প্রশমিত করা যাবে।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা সুপারিশ করেছি। যার মধ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক দলগুলোকে জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আসা, ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টি করা, নাগরিক সমাজ এবং অন্যান্য জনগণকে সচেতন করাসহ অন্যান্য। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসবেই। এ ব্যাপারে আমরা কিছু সুপারিশ করেছি। এছাড়া নজরদারিত্বের কাঠামোটাকে শক্তিশালী করতে কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়টিও আমাদের প্রস্তাবে উঠে এসেছে।
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান, অনেকগুলো অংশীজন থাকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হলো নির্বাচন কমিশন। তাদের দায়িত্ব সাংবিধানিক। তারপর হলো সরকার। সরকার মানে সরকারি কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন রাজনৈতিক দল এবং তাদের নেতাকর্মী একই সঙ্গে তারা যাদের মনোনয়ন দেয় তারা। সেই সঙ্গে নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম এরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন কর। এসব অংশীজন যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে তাহলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে। কিন্তু এখানে রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থীরা যদি ছলে-বলে-কৌশলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চায় তাহলে কারো পক্ষেই কিন্তু সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। অর্থাৎ আমি বলব না সম্ভব নয়। তবে তা দুরূহ, যদি রাজনৈতিক দলগুলো সদাচরণ না করে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ করার প্রস্তাব আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশে রেখেছি।
রাজনৈতিক দলের সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে আরো একটি হলো দলের প্রতিটি কমিটি নির্বাচিত হবে রাজনৈতিক দলের সদস্যদের গোপন ভোটের মাধ্যমে। তারা স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং রাজনৈতিক দলে দুর্বৃত্তরা যাতে কোনোভাবেই সদস্য হতে না পারে এবং নেতৃত্বে না আসতে পারে।
দলগুলোর স্বচ্ছতার ব্যাপারে আমরা প্রস্তাব করেছি যে রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয় এগুলো হিসাব যেন বিস্তারিত প্রকাশ করে। এগুলো যেন নির্বাচন কমিশনে তারা জমা দেয় এবং নির্বাচন কমিশন যেন অডিট করার সুযোগ পায়। অডিট করে।
আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ হলো রাজনৈতিক দলগুলোকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনা। কারণ রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সংবিধানস্বীকৃত প্রতিষ্ঠান। তাই দেশে প্রচলিত আইন তাদের বেলা প্রযোজ্য হওয়া দরকার। তাদের তথ্য অধিকার আইনের অধীনে আনার প্রস্তাব করেছি। রাজনৈতিক দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যেমন ছাত্রসংগঠন, শিক্ষক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, বিদেশী সংগঠন এগুলো বিলুপ্তির আমরা প্রস্তাব করেছি। কারণ ছাত্রদের সংগঠনের মাধ্যমে ছাত্রদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক দলগুলো। এ প্রসঙ্গে বিদ্যমান যে আইন রয়েছে সেটি নির্বাচন কমিশন কঠোরভাবে প্রয়োগ করবে বলে আশা করি।
দলগুলোর নিবন্ধনের শর্তে আমরা উল্লেখ করেছি, রাজনৈতিক দলকে গণতান্ত্রিকভাবে স্বচ্ছ করার জন্য রাজনৈতিক দলের প্রতিটি আসনের মনোনয়ন হবে স্থানীয় পর্যায় থেকে। স্থানীয় পর্যায় থেকে একটি প্যানেল তৈরি করা হবে। তিনজনের একটা প্যানেল তৈরি করবে। সেই প্যানেল থেকে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড মনোনয়ন দেবে, যাতে দলের সদস্যদের মতামত প্রতিফলিত হয়। আর টাকার খেলা বন্ধ করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছি। টাকার খেলাটা বন্ধ করা জরুরি, কিন্তু দুরূহ। কারণ টাকার খেলা অদৃশ্যভাবে টেবিলের নিচে দিয়ে, পর্দার অন্তরালে হয়; যে জিনিস দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আমরা বলেছি রাজনৈতিক দলের আয়ের হিসাব দিতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনে যারা প্রার্থী হবে হলফনামার মাধ্যমে তাদের সম্পদের আয়ের হিসাব দিতে হবে। এগুলো জনগণের মধ্যে বিতরণ করতে হবে, যাতে জনগণ তথ্যের ভিত্তিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। তথ্যের দ্বারা ক্ষমতায়িত হয়ে এবং একই সঙ্গে নির্বাচনী ব্যয়টাকে নিরীক্ষণ করতে হবে গভীরভাবে। নির্বাচনী ব্যয়ের যে তথ্য দেয়া হবে নির্বাচন কমিশন যেন তা খতিয়ে দেখে। কেউ যদি ভুল তথ্য দেয়, তথ্য গোপন করে তাদের নির্বাচন বাতিল করে দেয়া হবে। ফলে রাজনৈতিক দলের সংস্কার যেমন টাকার খেলা বন্ধ করা, নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কলুষমুক্ত করার জন্য আমরা অনেকগুলো সুপারিশ করেছি।
অতীতে দেখা গেছে প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং তারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় থাকবে, নির্বাহী বিভাগের ওই ব্যক্তিরা যেন নির্বাচন কমিশন নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত না থাকে। এটা যেন রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে এবং আমাদের সরকারের যে তিনটা বিভাগ আছে তাদের প্রতিনিধিরা একত্র হয়ে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দেবে। এ বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যাতে ভবিষ্যতে দলীয় ও পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিরা নিয়োগ না পান। এ ব্যাপারে আমরা প্রস্তাব করেছি, সুপারিশ করেছি। আমরা আশা করি যে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ করার ব্যাপারে যে সমস্যা অর্থাৎ সৎ, যোগ্য এবং সুনামসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে সেই সমস্যাটার সমাধান হবে।
আমাদের প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর মধ্যে কতগুলো প্রস্তাব অধ্যাদেশের মাধ্যমে কিংবা সরকারের নির্বাহী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তেমনই একটি আশু করণীয় তালিকা প্রস্তুত করে আমরা সরকারকে দিয়েছি। সরকার এগুলো নির্বাচন কমিশন অধ্যাদেশের মাধ্যমে কিংবা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারে। এ ধরনের সংস্কারে কোনো সংবিধান সংশোধন লাগবে না। এগুলোয় রাজনৈতিক দলগুলো বিরোধিতা করে বলে মনে হয় না। আর কতগুলো সংস্কার, যেখানে রাজনৈতিক ঐকমত্য সৃষ্টি হওয়া দরকার এবং সংবিধান সংশোধন দরকার; এ ধরনের প্রস্তাবগুলোর জন্য ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে অধ্যাপক আলী রীয়াজকে সহসভাপতি করে ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়।
সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ থেকে ১৬৬টি সুপারিশকে পৃথক করে আমরা স্প্রেডশিট তৈরি করেছি। সেটি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে বিতরণ করেছি। তাদের মতামত নিয়েছি। তারা কোন কোন ক্ষেত্রে একমত; কোন কোন ক্ষেত্রে একমত নয়; কোন কোন ক্ষেত্রে আংশিকভাবে একমত। ৩২টি রাজনৈতিক দল থেকে আমরা তাদের মতামত পেয়েছি। যার মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রায় সব দলই আমাদের এ মতামত দিয়েছে। এরপরই আমাদের দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু হয়। এ ধাপে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আমরা ব্যক্তিগতভাবে আমাদের ছয়জন সংস্কার কমিশনের সদস্য আমরা ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি দলের সঙ্গে বসেছি। ১৯টির ক্ষেত্রে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি।
একটি জুলাই জাতীয় সনদ আমরা প্রণয়ন করেছি। জুলাই জাতীয় সনদের ভূমিকা এবং শেষের অঙ্গীকার কী কী হবে এর ড্রাফট রাজনৈতিক দলকে দিয়েছি। আমরা আশা করছি এর মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ শুধু প্রণীতই নয়, এটা স্বাক্ষরিত হবে। যেটা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটা লিখিত চুক্তি। এগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। এখন প্রশ্ন আসে কখন ও কীভাবে বাস্তবায়িত হবে। যদিও এটা ঐক্যমাত্রা কমিশনের যে ম্যান্ডেট এই ম্যান্ডেটের মধ্যে ছিল না কীভাবে বাস্তবায়িত হবে। এক্ষেত্রে আমরা সহায়ক ভূমিকা অর্থাৎ অনুঘটকের ভূমিকা পালন করব।
এরই মধ্যে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব যে ব্যাপারে ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে, এর মাধ্যমে আমরা আশা করছি যে এটা জুলাই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত হবে। এটা স্বাক্ষরিত হবে। কিন্তু এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলো যেন কথা রাখে, বাস্তবায়ন করে সেজন্য জনগণকে জাগ্রত থাকতে হবে। জনগণকে সচেতন করতে হবে। জনগণকে সোচ্চার করতে হবে।
সেই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য নাগরিকদের সক্রিয় ও সংগঠিত করতে হবে। এজন্য নাগরিক সমাজ যেটাকে সিভিল সোসাইটি বলে তারা যেন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, শক্তিশালী হতে পারে, মানুষকে সচেতন সোচ্চার করতে পারে সেই নাগরিক সমাজের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে।
ঐকমত্য কমিশনের এ সুপারিশগুলো আগামী দিনে বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করতে চাই। আশাবাদী না হলে সবই হবে পণ্ডশ্রম। জাতিসংঘের হিসেবে, এক হাজার চার শতাধিক ব্যক্তি প্রাণ দিয়েছে। ২০ হাজারের অধিক মানুষ আহত হয়েছে। তারা অনেকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। এ আত্মত্যাগ আমরা বৃথা যেতে দিতে পারি না। তাদের রক্তের সঙ্গে আমরা বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি না। আমি আশাবাদী যে আমাদের রাজনীতিবিদরা এদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন। তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে যেসব বিষয়ে তারা ঐকমত্য হয়েছে, যেগুলোয় অঙ্গীকারবদ্ধ হবে তা বাস্তবায়ন করবে। আমি আশা করি যে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সদিচ্ছা প্রদর্শন করবে এবং আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে, যাতে আমাদের এ বীর সেনাদের আত্মত্যাগ বৃথা না যায়।
বদিউল আলম মজুমদার: নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও সদস্য, ঐকমত্য কমিশন










