পাকিস্তান আমলে ১৯৭০-এর নির্বাচনের মূল বিষয় ছিল পূর্ব-পাকিস্তানের জন্য অর্থবহ স্বায়ত্তশাসন তথা রাষ্ট্রনৈতিক সংস্কার। সে চাওয়া দমাতে গণহত্যা চাপিয়ে দেয়া হলে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তার ১১-১২ বছর পর ১৯৮৩ থেকে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন এবং নব্বইয়ের ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের ভিত্তি ছিল সংগ্রাম পরিষদের ‘দশ দফা’। সেখানেও ছিল মূলত শিক্ষা খাতসহ দশের রাষ্ট্রনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা।

চব্বিশের গণ-আন্দোলন এবং তার আগে ২০১৮-এর ছাত্র আন্দোলনও সংস্কারমূলক দাবি-দাওয়া নিয়ে শুরু হয় এবং ধাপে ধাপে এগিয়ে ব্যাপকভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে ’৩৬ জুলাই’ এসে থামে। গত ৫৫ বছরের তিনটি প্রধান রাজনৈতিক ঘটনার ভেতরকার জন-আকাঙ্ক্ষা কিন্তু একটাই।

সংস্কার প্রশ্নে এবারের গণ-অভ্যুত্থানের বড় ধরনের প্রকাশ ঘটে দেশজুড়ে আঁকা গ্রাফিতিসমগ্রে। অনেকেই অভ্যুত্থান-উত্তর গ্রাফিতিচর্চাকে আর্টকালচারের ব্যাপার হিসেবে প্রচার করে এর রাজনৈতিক আবেদন ও তাৎপর্য হালকা করতে চেয়েছেন। কিন্তু আসলে চব্বিশের গ্রাফিতিসমগ্র ছিল সর্বশেষ গণ-অভ্যুত্থানের ইশতেহার। একে প্রকৃত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ও বলা যায়।

অন্তর্বর্তী সরকারও শুরুতে ওই জন-আকাঙ্ক্ষা বুঝতে পেরেই সংস্কারকাজ এগিয়ে নেয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অনেকগুলো সংস্কার কমিশন ও টাস্কফোর্স গঠন করে। তার ফল হিসেবে গত এক বছরে অন্তত ১৩টি বিশদ প্রতিবেদনও সরকারের কাছে জমা পড়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তিতে সংগত কারণেই প্রশ্ন উঠেছে, সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে। কতটুকু বাস্তবায়ন হলো সেসব প্রতিবেদন এবং কোন পথ ও পদ্ধতিতে তার বাস্তবায়ন সম্ভব?

অন্তর্বর্তী সরকার যেসব সংস্কার কমিশন করেছিল তার একটা ছিল প্রশাসনিক সংস্কারের লক্ষ্যে। বাংলাদেশের একটা গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে এটা সবচেয়ে জরুরি ছিল। এখানে প্রশাসনিক সংস্কার জরুরি এ কারণে যে ১৯৪৭ ও ১৯৭১ দুবার স্বাধীনতার পরও বাস্তবে বাংলাদেশের মানুষ এখনো আইনগত ও প্রশাসনিকভাবে পরাধীনতার সংস্কৃতিতেই রয়ে গেছে।

রাষ্ট্রের প্রধান এক ভিত্তি হলো আইন এবং বাংলাদেশের আইনসমগ্রের প্রায় সবই ঔপনিবেশিক আমলে তৈরি। পরবর্তীকালে যেসব আইন ও তার সংশোধনী এসেছে তার প্রায় সবই ঔপনিবেশিক আইনি কাঠামোর অধীনে।

ঔপনিবেশিক আমলে সংগত কারণেই আইন হয়েছে দখলদারদের স্বার্থে এবং স্থানীয় সমাজকে দমিত রাখার প্রয়োজনে। অথচ সে আইনই চলছে ১৯৪৭-এর পর এবং ১৯৭১-এর পরও। আবার ১৭৯২-৯৩ সালে কর্নওয়ালিস ব্রিটিশ ভারতে যে শাসন কাঠামো গড়তে শুরু করেন সেটাও ছিল স্থানীয় সমাজকে নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে। গ্রামাঞ্চলে নিজস্ব পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সে সময় গোড়াপত্তন হয় দারোগা ব্যবস্থার। পুরো সমাজকে টুকরা টুকরা করে ‘থানা’ তথা পুলিশি এলাকায় ভাগ করা হয়। আর দারোগার ওপর কর্তৃত্ব দেয়া হয় ‘জেলা প্রশাসনিক প্রধান’কে। প্রশাসন ও আইনি কাঠামোর সেসব উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এসেছিল ১৮৬০-এর ভারতীয় দণ্ডবিধি। দুর্ভাগ্য আমাদের, সে ‘দণ্ড’বিধি এখনো আমাদের কপালের বিধি হয়ে আছে সামান্য অদলবদলসহ।

কর্নওয়ালিসের ব্যবস্থার একেবারে শুরুর লক্ষ্য ছিল ‘শান্তি-শৃঙ্খলা’র সব কাজকে স্থানীয় সমাজের হাত থেকে কেড়ে নেয়া এবং এসব কাজের জন্য স্থানীয় সমাজের কাছে জবাবদিহিতাকে চূড়ান্ত রকমে অপ্রয়োজনীয় করে দেয়া। এ সময় স্থানীয় সমাজের ক্ষমতার বলয় থেকে স্থানীয় জমিদারদের কার্যত বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। তাদের দুঃখ পুষিয়ে দেয়া হয় জমির বন্দোবস্ত দিয়ে। একই সময় চৌকিদারি ব্যবস্থাও অনেকাংশে অকার্যকর করা হয়, যা ছিল কার্যত শৃঙ্খলা রক্ষার লোকজ ব্যবস্থা, গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়োজিত, ফলে তার স্থানীয় জবাবদিহিতা ছিল।

বিপরীতে দারোগা কাঠামোকে করা হয় ‘শাসক’দের স্থানীয় রক্ষাব্যুহ। যার কোনো স্থানীয় জবাবদিহিতা থাকল না, যা সোজাসাপ্টা একটা নিপীড়নধর্মী ভীতিকর ব্যবস্থা হিসেবেই গড়ে তোলে ব্রিটিশরা। ১৮১৭ নাগাদ সেটা অনেকটা পূর্ণাঙ্গ চেহারা নেয়। আর আজ আমাদের শাসকরা তো সেই চলমান ‘থানা ব্যবস্থা’ ছাড়া দেশকে ‘শাসন’ করার কথা কল্পনাও করতে পারেন না। যথারীতি এখনো শক্তির ভরকেন্দ্র হয়ে থাকছে সেটাই। এমনকি এত রক্তঝরা গণ-অভ্যুত্থানের পরও।

কর্নওয়ালিসের দারোগা ব্যবস্থাই ছিল বাংলায় কেন্দ্রীভূত শাসনের শুরুর বিন্দু। যার স্তরায়িত চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আমরা একালে পাই দেবতাতুল্য ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রীকে। কাগজেপত্রে যা-ই থাকুক—বাস্তবতা হলো প্রধানমন্ত্রী যা চেয়েছেন এ দেশে প্রেসিডেন্ট তাই করেছেন, প্রশাসন সেভাবে চলেছে, পার্লামেন্ট তার কথায় হাততালি দিয়েছে, বিচার বিভাগও তার সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ পায়নি।

এসব অভিজ্ঞতার কারণেই বহুকাল ধরে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালীকরণের আলাপ চলছে। স্থানীয় সরকারকে আরো ক্ষমতা দেয়ার সুপারিশ বহুকাল ধরেই আলোচিত হচ্ছে এ দেশে। কিন্তু আমরা দেখলাম এবারো এসব বিষয়ে ব্যবহারিকভাবে তেমন কিছু হলো না। ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অনেক কথা হয়েছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা কমিয়ে স্থানীয় সরকারগুলোর হাতে কিছু ক্ষমতা স্থানান্তরের কোনো আলাপ কি কেউ দেখেছেন?

ওই রকম পদক্ষেপের জন্য সময় হয়তো এখনো পার হয়ে যায়নি—কিন্তু জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এতদিনকার আলোচনা ও বিতর্কে যে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার কোনো ঐকমত্য হলো না সেটা এরই মধ্যে স্পষ্ট। তার মানে বিষয়টাও পরবর্তী সরকারের জন্যই থাকছে। কিন্তু পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তার ক্ষমতা কেন কমাতে চাইবেন? কবে কোন প্রধানমন্ত্রী এ রকম চূড়ান্ত ক্ষমতার আইন-কানুনে কাঁচি চালিয়েছেন? কবে এমপি ও ডিসিরা চেয়েছেন জেলা পরিষদ বা উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয় নীতিনির্ধারণের কর্তৃত্বে থাকুক? সুতরাং প্রশাসনিক সংস্কারের ভবিষ্যৎ কিছুটা এখনই অনুমান করা যাচ্ছে।

বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কেও অনুরূপ অনুমান করা যায়। বর্তমানে উপজেলাভিত্তিক আদালত ব্যবস্থা আছে। দেওয়ানি ও নিজামত দুটোর কথাই আছে সেখানে। কিন্তু সে আদালত বসে জেলা শহরে। অর্থাৎ সাজেকের আদালত বসবে রাঙ্গামাটিতে। গঙ্গাচড়ার আদালত বসবে রংপুরে। জনগণ কেন উপজেলা পর্যায়ে প্রত্যাশিত বিচারিক সুবিধা পাচ্ছে না? কেন তাদের ন্যায়বিচারের জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হয়? খোঁজ নিলে দেখা যাবে একদল মধ্যস্বত্বভোগীর পছন্দ নয় কোর্ট এত তৃণমূলে যাক। আবার তারাই হলেন আমাদের বড় দলগুলোর রাজনীতির বড় এক শক্তিভিত।

অন্তর্বর্তী সরকারের ঐকমত্য কমিশনে হাইকোর্ট বিকেন্দ্রীকরণের আলাপ পাস হওয়ার পর আইনজীবীরা এক দফা মিছিল-মিটিং করে ফেলেছেন হাইকোর্ট চত্বরে। এ আইনজীবীদের বাধা ডিঙিয়ে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সরকার কি বিভাগে হাইকোর্ট এবং উপজেলায় জজ-ম্যাজিস্ট্রেটদের নিতে পারবে? যদি না পারে তাহলে গণ-অভ্যুত্থানের আলোকে বিচার ব্যবস্থার সংস্কার কীভাবে করবেন তারা—কথায় কথায় এখন যেভাবে আশ্বস্ত করে চলেছেন সবাই?

অনেক ছোটখাটো অভাব-অভিযোগ-অন্যায় আদালতের বাইরে সমাজে আপস-মীমাংসা হতে পারত। তার জন্য সরকারি কিছু নির্দেশনা প্রয়োজন। অথচ ব্রিটিশরা গ্রামসমাজের প্রথাগত নেতৃত্বের প্রচলিত ভূমিকার অনেকখানি যে খর্ব করে গেছে—আমরা আর সেটা সারাই করতে ইচ্ছুক নই। ফলে আদালতগুলো মামলার পাহাড়ে ভারাক্রান্ত এখন। দৈনিক সমকালে গত ১ মার্চের ছাপা তথ্য হলো: দেশের সব আদালত মিলে ৪৫ লাখ ১৬ হাজার মামলা জমা আছে।

এসব মামলায় তারিখ যত পড়ে জনগণের দুর্দশা তত বাড়ে, আর অন্য এক দল এ দুর্দশাকে পুঁজি করে লাভবান হয়। মুক্তিপ্রত্যাশী একটা সমাজে ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া কি ব্যবসার পণ্য হতে পারে? হওয়া উচিত? অথচ রাজপথে মানুষ বারবার ‘আইনের শাসন’ চাই বলে স্লোগান দিয়েই যাচ্ছেন। আইন যদি হয় ব্রিটিশদের তৈরি এবং জুলুমের উৎস যদি হয় কাঠামোগত সংস্কারহীনতা, তাহলে স্বাধীন দেশে সে ‘আইনের শাসন’ দিয়ে আমরা কতটা কী অর্জন করব?

গণ-অভ্যুত্থানের পর সংগত কারণেই রাষ্ট্রের আইনি ভিত্তি সংস্কারের আলাপ উঠেছিল। কিন্তু সে আলাপ বেশিদূর এগোতে পারেনি। একইভাবে জেলার যাবতীয় ক্ষমতা ডেপুটি কমিশনারের অফিসে কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে। শিগগির সেটা বিকেন্দ্রীকরণের কোনো আলাপ ও উদ্যোগও নেই।

ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯-এর ৬৩ নং ধারার অধীন তৃতীয় তফসিলে অনেকগুলো মন্ত্রণালয়ের অনেকগুলো অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তাদের বসার কথা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে। কিন্তু সেটা আজও কার্যকর হয়নি। একইভাবে উপজেলা পরিষদ আইনের ২৪ ধারার অধীনে ১৭টি দপ্তরের কাজ, জনবল ও অর্থ এ পরিষদের অধীনে ন্যস্ত করার কথা। অভ্যুত্থানের সরকার যাচাই করে দেখতে পারে সে কাজ ও কাজের খরচপাতি উপজেলা পরিষদ করতে পারছে কিনা বা পারবে কিনা। জেলার উন্নয়নকাজের ওপর জেলা পরিষদের ক্ষমতাহীনতার কথা আর না বলি। জেলা ও উপজেলার স্বাস্থ্য অবকাঠামোয়ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তথা জনগণের কাছে জবাবদিহির তেমন শক্তিশালী জায়গা নেই। এভাবে সব অবকাঠামোর জবাবদিহি কেবল ওপরের দিকে। অর্থাৎ কেন্দ্রমুখী করে রাখা। যার আসল বিন্দু প্রধানমন্ত্রী। দেশ এ রকম আরেকজন প্রধানমন্ত্রী পাবে শিগগির! এটা দেশের সৌভাগ্য—না পুরনো ভাগ্য—সেটা তখন আমরা নিশ্চয়ই দেখব। প্রশ্ন হলো আমরা যদি ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এভাবে ক্ষমতাহীন করে রাখি তাহলে বারবার গণ-অভ্যুত্থান এবং বছর বছর তার পূর্তি উৎসব করে কীভাবে প্রকৃতপক্ষে কর্তৃত্ববাদী শাসন ঠেকাতে পারব? ২০২৪-এর সঙ্গে ২০২৬-এর ফারাকটা তাহলে কোথায় রইল?

কর্তৃত্ববাদ কায়েম হয় নানা ধরনের কাঠামোকে ব্যবহার করে। জনগণের কাছে জবাবদিহিহীন সে কাঠামোগুলো তো সংস্কার কমিশনগুলো বিস্তারিত দেখিয়ে দিল। কিন্তু সেগুলোর আলোচনা ঠেকিয়ে দিল কে এবং কেন? তার মানে কি গণ-অভ্যুত্থানের পরও ভেতর থেকে শক্তিশালী কোনো মহল পরিবর্তন চাইছে না?

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন সরকারের ব্যয় কমাতে মন্ত্রী সংখ্যা ২৩-এ সীমিত রাখার প্রস্তাব করেছিল। এর মধ্যে দুজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী। এছাড়া ১২ জন প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী রাখার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে কতজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী থাকবেন, তা ঠিক করেন প্রধানমন্ত্রী। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত মেয়াদে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ছিল ৪৪। এর আগের মেয়াদে ছিল ৪৯। আগামী সরকার এসব বিষয়ে জনপ্রশাসন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে? নাকি আওয়ামী লীগের পথে হাঁটবে? এ দেশে এখনো জেলাবাসীকে খুশি করা হয় সেখানকার কাউকে মন্ত্রী বানিয়ে!

জনপ্রশাসন কমিশনের আরেকটি সুপারিশ ছিল প্রশাসনের উচ্চতর পদে মেধাবীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশাসনিক সার্ভিসের (প্রশাসন ক্যাডার) ৭৫ শতাংশ কোটা কমিয়ে ৫০ শতাংশ করা। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ পদ অন্য সার্ভিসের জন্য উন্মুক্ত রাখা। কিন্তু এর বিরুদ্ধে শুরুতেই সচিবালয়ে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হলো এবং প্রস্তাবটি ধামাচাপা পড়ে গেল। প্রশ্ন হলো অন্তর্বর্তী সরকার যদি কোটি কোটি জনতার সাধারণ ইচ্ছার যৌথ অভিপ্রকাশ হয় তাহলে যে সংস্কারগুলো যৌক্তিক, সেগুলো তারা বাস্তবায়ন করতে পারবে না কেন? জনগণের বিপুল সমর্থন তো তাদের সঙ্গে ছিল।

যেকোনো সংস্কারই কায়েমি স্বার্থবাদী কারো না কারো স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করবে। সে রকম ক্ষেত্রে জনগণের সরকারের দায়িত্ব কী? হাত-পা গুটিয়ে নেয়া? আমরা কিন্তু সে রকম অবস্থায়ই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী পালন করলাম। সেখানে একটা ঘোষণাপত্রও পাওয়া গেল। কিন্তু তাতে অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নের বিশদ বিবরণ পাওয়া গেল না। কেবল কিছু প্রত্যশার কথা বলে শেষে বলে দেয়া হলো নির্বাচিত সরকার এসে এসব প্রত্যাশার বাস্তবায়ন করবে। যদি এটাই হবে, তাহলে নির্বাচন আরো আগে হলেই তো জনগণের দিক থেকে ভালো হতো।

আলতাফ পারভেজ: গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক