আবাসন খাতে কী ধরনের ঋণ সুবিধা প্রধান করছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি?
গ্রাহকদের জন্য কনভেনশনাল ও ইসলামিক—উভয় ধরনের অর্থায়ন সুবিধা প্রদান করে আসছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি)। আমাদের হোম লোন প্রডাক্টের আওতায় অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ, বিদ্যমান বাড়ি অ্যাপার্টমেন্টের সম্প্রসারণ বা সংস্কার, অন্যান্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গৃহঋণ টেকওভার করাসহ বিভিন্ন আবাসন-সংক্রান্ত আর্থিক চাহিদা পূরণের সুবিধা দিচ্ছে এমটিবি। বর্তমানে গ্রাহকদের জন্য সাড়ে ১১ শতাংশ হারে হোম লোন সুবিধা প্রদান করছে, যেখানে সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত ঋণ মেয়াদ উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এ সুবিধা গ্রাহকদের মাসিক কিস্তি আয়সীমার মধ্যে রাখতে সহায়তা করছে।
এ খাতে ঋণ প্রক্রিয়াকরণে কত সময় অপেক্ষা করতে হয় গ্রাহকদের?
ফ্ল্যাট ক্রয় বা বাড়ি নির্মাণের জন্য ঋণের আবেদন করলে বিশেষ সুবিধা হিসেবে ঋণ আবেদনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই শর্তসাপেক্ষে ঋণ অনুমোদন করে এমটিবি ব্যাংক। এ অনুমোদনটি নির্ভর করে গ্রাহকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে জমা দেয়ার ওপর। যেমন বেতনভুক্ত গ্রাহকদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা কর্তৃক ইস্যুকৃত পরিচয়পত্র ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স ও পার্টনারশিপ ডিড বা অন্যান্য মালিকানা সম্পর্কিত দলিল, বাড়িওয়ালাদের জন্য ভাড়ার চুক্তিপত্র এবং পেশাজীবীদের জন্য সংশ্লিষ্ট মেম্বারশিপ সনদ ইত্যাদি। প্রয়োজনীয় নথি সঠিকভাবে জমা দেয়ার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রাহক তার ঋণসীমা এবং অনুমোদিত মেয়াদ জানতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আইনগত মতামত, রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিল ও বন্ধক-সংক্রান্ত যাচাই, ভূমি অফিস থেকে খতিয়ান, মিউটেশন, ট্যাক্স টোকেন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান সম্পন্ন হওয়ার পরই এমটিবি ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু করে। এ প্রক্রিয়ায় কয়েকদিন সময় লাগতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের ওপর নির্ভর করে সময় ভিন্ন হতে পারে। এক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধের জন্য গ্রাহকরা ১-২৫ বছর পর্যন্ত সময় পেয়ে থাকেন।
আবাসন খাতে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে এমটিবি কীভাবে সুদহার নির্ধারণ করে?
হোম লোন একটি দীর্ঘমেয়াদি ঋণ হওয়ায় বাজারঝুঁকি বিবেচনায় এ খাতে সবসময় ভাসমান সুদহার রাখে এমটিবি। বাজার পরিস্থিতি ও নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সবসময় তা সমন্বয় করা হয়। এ সমন্বয় শুধু ব্যাংক খাত নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নীতিগত সুদহার ও তারল্য ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। দীর্ঘমেয়াদে ভাসমান সুদহার গ্রাহকদের জন্য সুদের হার কমে গেলে তার সুফল পাওয়ার সুযোগও সৃষ্টি করে, যা স্থির সুদহারে সম্ভব নয়।
দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের করুণ পরিস্থিতি। অথচ আবাসন খাতের ঋণে খেলাপির হার খুবই কম। এর পরও এ খাতে ঋণ প্রদানে অনুৎসাহ দেখা যায় কেন ব্যাংকগুলোতে?
হোম লোনকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ বলা হলেও দেশের ব্যাংকগুলো এ খাতে আগ্রহী নয়—এমন ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। বাস্তবে ৬১টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে প্রায় সবক’টিরই প্রডাক্ট শেলফে হোম লোন বিদ্যমান। এটা ভিন্ন বিষয় যে ব্যাংকগুলো সক্রিয়ভাবে হোম লোন ব্যবসা পরিচালনা করছে না। মূলত দীর্ঘমেয়াদি ঋণ হওয়ায় এর সফল পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত তহবিল, ঝুঁকি মূল্যায়ন, আইনগত যাচাই এবং বিশেষায়িত মানবসম্পদ প্রয়োজন। এসব দক্ষতা ও সক্ষমতা ব্যাংকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং সব ব্যাংক সমানভাবে এগুলো সামলাতে সক্ষম নয়। তাই হোম লোন সম্প্রসারণ মূলত ব্যাংকের কার্যকর পরিচালনা ও অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। এমটিবি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত প্রস্তুতির মাধ্যমে এ খাতে দায়িত্বশীলভাবে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে হোম লোন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।
হোম লোনের ক্ষেত্রে আর কী কী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয় ব্যাংকগুলোকে?
হোম লোনের সম্প্রসারণে মূলত গ্রাহক ও বাজারভিত্তিক কিছু চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে। যেমন উচ্চ ঋণ সুবিধা নেয়ার জন্য গ্রাহকের আয় ও স্থায়ী সম্পদের যাচাই প্রয়োজনীয়তা বেশি থাকে। এছাড়া বাড়ি ও জমির বাজার মূল্যায়ন ও ঋণ গ্রহণের যোগ্যতা নিশ্চিত করতে কিছু সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া থাকতে পারে। তবে এসব প্রক্রিয়াগুলো গ্রাহকের স্বার্থ ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয়।
ব্যাংকগুলো আবাসন কোম্পানিদেরও ঋণ দেয়। তাদের সঙ্গেও আপনারা কাজ করছেন। আবাসন কোম্পানিগুলো কী ধরনের পদক্ষেপ নিলে এ খাত আরো সম্প্রসারণ হবে বলে মনে করেন?
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে হোম লোনের বাজার সম্প্রসারণ সহজ করতে আবাসন কোম্পানিগুলোর কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে। বর্তমানে নির্মাণ সামগ্রীর দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে; বিশেষ করে রড, সিমেন্ট, বালু, ইটসহ প্রধান উপকরণের খরচ গত কয়েক বছরে ২০-৩০ শতাংশ বা তারও বেশি বেড়েছে। এতে ফ্ল্যাটের বাজারমূল্যও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে এবং মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের ফ্ল্যাট ক্রয়ক্ষমতা কমছে। এ প্রেক্ষাপটে আবাসন কোম্পানিগুলোর উচিত মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কমাতে খরচ নিয়ন্ত্রণের কৌশল তৈরি করা। ক্রেতাবান্ধব মূল্যে প্রকল্প পরিকল্পনা ও ডকুমেন্টেশনও সহজতর করা উচিত। এছাড়া নির্মাণ অনুমোদন, ড্যাপ বা রাজউক-সংক্রান্ত ঝামেলা কমাতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করলে হোম লোন গ্রহণ অনেক বেশি সহজ, আকর্ষণীয় ও বাস্তবসম্মত হবে। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রাহকের আস্থা বাড়াবে এবং বাজারকে আরো গতিশীল করে তুলতে সহায়তা করবে।





