দুই দশক আগেও মতিঝিল ছিল ঢাকার প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা। দেড় দশক ধরে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়গুলোর বেশির ভাগই সরে গেছে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে। অন্যদিকে ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যালয় স্থানান্তর হয়েছে অভিজাত গুলশান-বনানী এলাকায়। এতে মতিঝিলের সরকারি ভবনের পাশাপাশি অনেক বেসরকারি ভবনও এখন প্রায় ফাঁকা পড়ে আছে।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, মতিঝিলের ভূমি ব্যবহার নতুন করে সাজানোর সুযোগ এসেছে। নিরেট বাণিজ্যিক ব্যবহার থেকে বেরিয়ে এসে মিশ্র ব্যবহারের মাধ্যমে মতিঝিলের আবেদন ফেরানোর সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে দৃষ্টিনন্দন পার্ক, বিলাসবহুল হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণ কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে।

ভবন মালিকরা জানাচ্ছেন, একসময় রাজধানীর সবচেয়ে প্রাণবন্ত ব্যবসা কেন্দ্র ছিল মতিঝিল। তবে নতুন ভাড়াটিয়া না আসায় পাঁচ বছর ধরেই ফাঁকা পড়ে আছে অনেক বাণিজ্যিক ভবন। এছাড়া এখনো সেখানে যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক আছে, সেগুলো নতুন ঢাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান, বনানী ও বারিধারার দিকে চলে যাচ্ছে।

মতিঝিলের জৌলুস হারানোর পেছনে রাজধানী থেকে পোশাক কারখানাগুলো স্থানান্তর হওয়া বড় কারণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অধিকাংশ শিল্প-কারখানা গাজীপুর, আশুলিয়া, টঙ্গী ও উত্তরায় হওয়ায় গুলশানকে তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক এলাকা মনে করছেন ব্যাংক ও শিল্প মালিকরা। এ কারণেই ব্যাংকগুলো তাদের প্রধান কার্যালয় গুলশানে সরিয়ে নিয়েছে।

এ অবস্থায় নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মতিঝিল থেকে অফিস-আদালত সরিয়ে নেয়ার একটা ভালো দিক হলো এখানকার চাপ কমেছে। কিন্তু তাই বলে মতিঝিলকে সরকার অবহেলায় ফেলে রাখবে এটা ঠিক নয়। এখনো মতিঝিলে অনেক অফিস-আদালত আছে। যেগুলোর জন্য সরকারকে সুন্দর পরিকল্পনা করতে হবে। খালি ভবনগুলোর জায়গায় দৃষ্টিনন্দন মাঠ, পার্ক, জলাশয়ের পাশাপাশি মানসম্মত হোটেল-রেঁস্তোরা নির্মাণ করা যেতে পারে।’

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানান্তর হওয়ায় মতিঝিলকে প্রকৃত বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে নতুন রূপ দেয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘মতিঝিলকে ঢাকার প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা মনে করা হয়। অথচ এখানে একটিও পাঁচ তারকা মানের হোটেল নেই। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে মতিঝিলকে কেন্দ্র করেই দেশের প্রায় সব ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় গড়ে উঠেছিল। কিন্তু আধুনিক কোনো সুযোগ-সুবিধা না থাকায় এখান থেকে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রধান কার্যালয় সরিয়ে নিয়েছে বা নিচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যালয় আগারগাঁওসহ অন্যান্য এলাকায় স্থানান্তর হওয়ায় মতিঝিলে এখন আগের মতো ব্যস্ততা ও চাপ নেই। এখানকার বহু পুরনো সরকারি-বেসরকারি অনেক ভবন এখন খালি। ভবনগুলোকে ভেঙে মতিঝিলকে নতুন রূপে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে একটি পার্ক ও পাঁচ তারকা মানের আধুনিক হোটেল গড়ে তুললে বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে মতিঝিল নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।’