আমাদের নাগরিক কর্মব্যস্ত জীবনে একটু স্বস্তির ছোঁয়া আনে নানা রকম হোম অ্যাপ্লায়েন্স। এর প্রায় সবই ইলেকট্রনিকস যন্ত্র। সেই সঙ্গে আধুনিক সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে এসবে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি। তবে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এ যন্ত্রপাতিগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। মেরামতে খরচ হতে পারে অনেক টাকা। আবার একবারেই বিকল হয়ে গেলে নতুন করে কিনতেও রাজ্যের টাকা খরচ করতে হতে পারে। তাই সময় বাঁচানোর পাশাপাশি খরচ বাঁচাতে চাইলে নিয়মিত যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন হোম অ্যাপ্লায়েন্সগুলোর। ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করা হলে, অগ্নিকাণ্ড বা বিদ্যুৎ সংযোগজনিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত যত্ন আপনার হোম অ্যাপ্লায়েন্সগুলোর স্থায়িত্ব বাড়ায় ও অপ্রত্যাশিত সমস্যা প্রতিরোধ করে। পাশাপাশি সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করে এবং নিরাপত্তা বজায় রাখে।
ফ্রিজ যাতে নষ্ট না হয় এবং নষ্ট ফ্রিজের কারণে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য ফ্রিজের ভেতর ও বাইরের অংশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কনডেনসার কয়েল প্রতি ছয় মাস অন্তর ভ্যাকুয়াম করতে হবে, যাতে শীতল করার কার্যক্ষমতা ঠিক থাকে।
একই কথা ওয়াশিং মেশিনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এর ড্রাম নিয়মিত ভিনেগার ও বেকিং সোডা দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত, যাতে ফাঙ্গাস বা দুর্গন্ধ না জন্মায়। পাশাপাশি লিন্ট ফিল্টার নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
মাইক্রোওয়েভ ও ওভেন ব্যবহারের পর পরিষ্কার রাখা উচিত। লেবু ও পানির মিশ্রণ ব্যবহার করলে দাগ সহজেই দূর হয়।
হোম অ্যাপ্লায়েন্স বিকল হয়ে বা শর্ট সার্কিট থেকে সবচেয়ে বেশি ঘটে এসি বিস্ফোরণের মতো ঘটনা। এ রকম ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়াতে তাই এসির রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। এয়ারকন্ডিশনারের ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার বা পরিবর্তন করা উচিত, যাতে বাতাস চলাচলে কোনো বাধা না সৃষ্টি হয় এবং এর দক্ষতা বজায় থাকে, পাশাপাশি বাইরের ইউনিট পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে ধুলো না জমে।
ইলেকট্রিক কেতলি ও রাইস কুকারকে মাঝে মাঝে ভিনেগার ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত, যাতে মিনারেল জমে না থাকে। এর বাইরের অংশ শুকনা রাখা প্রয়োজন।
এগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য যেকোনো হোম অ্যাপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রেও রক্ষণাবেক্ষণে প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যবহারের পর যন্ত্রপাতি বন্ধ ও আনপ্লাগ করা উচিত, যাতে বিদ্যুৎ সংযোগজনিত ঝুঁকি কমানো যায়। নির্দিষ্ট সময় অন্তর পেশাদার টেকনিশিয়ানের সাহায্যে সার্ভিস করানো উচিত। এতে বড় ধরনের সমস্যা এড়ানো যায়। আবার যেকোনো ছোটখাটো সমস্যা দ্রুত সমাধান করলে বড় ধরনের মেরামতের ব্যয় কমানো সম্ভব।










