ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) গ্লোবাল স্টাডিজ অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের স্নাতক শিক্ষার্থী ফাবলিহা আহমেদ। সম্প্রতি জাপানের কোবে কলেজে তিনি এক সেমিস্টার মেয়াদি এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম শুরু করেছেন। তিনি আইইউবি ও কোবে কলেজের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রথম আইইউবি ছাত্রী। শুধু তা-ই নয়, দক্ষিণ এশিয়া থেকে কোবে কলেজে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নেয়া একমাত্র শিক্ষার্থী তিনি।

কোবে কলেজে ফাবলিহা জাপানি ভাষা, জাপানি সংস্কৃতি, এশিয়ান স্টাডিজ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, জেন্ডার অধ্যয়নসহ ছয়টি কোর্স নিয়েছেন। জাপানি ভাষা জানা না থাকায় ফাবলিহা কোবে কলেজে প্লেসমেন্ট পরীক্ষা দেয়ার আগে আইইউবি থেকে জাপানি ভাষা শেখেন।

ফাবলিহা বলেন, ‘ছয় মাস ধরে কোবে কলেজের ছাত্রাবাসে অবস্থান, নতুন মানুষের সঙ্গে দেখা করা এবং নতুন বন্ধু পেয়ে আমি সত্যিই আনন্দিত। বিশেষ করে জাপানের সংস্কৃতি ও সমৃদ্ধ ইতিহাস জানার সম্ভাবনা আমাকে অনুপ্রাণিত করে। ওরিয়েন্টেশনের সময় আমি জাপানের মানুষ ও সংস্কৃতির এক ঝলক দেখেছি।’

আইইউবি ও কোবে কলেজ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা আদান-প্রদান ও আন্তর্জাতিকীকরণকে উৎসাহিত করার সুযোগ তৈরি হয়। এ সমঝোতা স্মারকের অধীনে উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ ও রাজশাহী জেলায় স্থানীয় কৃষক সম্প্রদায়ের ওপর সাতদিনের গবেষণা পরিচালনা করেন। ফাবলিহা সেখানে গবেষক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। চূড়ান্ত গবেষণা প্রতিবেদন তৈরিতেও সহায়তা করেছিলেন তিনি।

ফাবলিহা বলেন, গ্লোবাল স্টাডিজ অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে, বিদেশী সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া আমাদের জন্য অপরিহার্য, কারণ এটি পাঠ্যক্রমের সঙ্গে পুরোপুরিভাবে মানানসই। এটি আমাকে বৈশ্বিক যোগাযোগ, গভর্ন্যান্স ও আন্তঃবিষয়ক অধ্যয়ন সম্পর্কে আমার জ্ঞান বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এ সুযোগ দেয়ার জন্য আমি আইইউবি ও কোবে কলেজ উভয়ের কাছেই চিরকৃতজ্ঞ।’

তিনি আরো বলেন, ‘জাপানে সাইকেল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাহন। বাংলাদেশে আমার কখনো সাইকেল চালানো শেখার কথা ভাবার প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু এখানে আমি প্রথমেই যে বিষয়টি লক্ষ করেছি তা হলো সাইকেলে ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা করা সহজ। তাই সাইকেল চালানো শেখাটাই ছিল আমার প্রথম কাজ।’