প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাজার হাজার দক্ষ জনশক্তি তৈরি করেছে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি)। স্থানীয় শিল্প থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কোম্পানি, গবেষণাগার, ফ্যাশন হাউজ এবং বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করছেন তারা। এসব সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বিইউএফটির একাডেমিক কাঠামো, শিল্পবান্ধব শিক্ষা পদ্ধতি এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণেরও ফল। বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড মার্কস অ্যান্ড স্পেনসারের (এমঅ্যান্ডএস) কান্ট্রি ডিরেক্টর বা বাংলাদেশের প্রধান হওয়া স্বপ্না ভৌমিক, বিশ্বের খ্যাতনামা পোশাক বিপণনকারী কোম্পানি এইচ অ্যান্ড এমের (হেন্স অ্যান্ড মরিটজ) চীনের গ্লোবাল মার্চেন্ডাইজিং ম্যানেজার নওরিন রহমান খন্দকার, টেকসই ফ্যাশন ডিজাইনার আফসানা ফেরদৌসীর মতো ব্যক্তিত্বরা এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই সাবেক শিক্ষার্থী।
বিইউএফটির প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বর্তমানে দেশ-বিদেশে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। কেউ কেউ উদ্যোক্তা হিসেবে নিজস্ব ফ্যাশন ব্র্যান্ড তৈরি করেছেন, আবার কেউ আন্তর্জাতিক গার্মেন্ট কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। স্নাতক সম্পন্ন করে অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশের শীর্ষ পোশাক কারখানা, ব্র্যান্ড ও টেক্সটাইল শিল্পে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। কেউ মার্চেন্ডাইজিংয়ে, কেউ উৎপাদন পরিকল্পনায়, কোয়ালিটি অ্যাশিউরেন্সে, আবার কেউ কারিগরি গবেষণা ও উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অনেকেই বড় বড় কারখানার প্রডাকশন ম্যানেজার, প্ল্যানিং অফিসার, অকুপেশনাল সেফটি বিশেষজ্ঞ, টেকনিক্যাল এক্সপার্ট বা কেমিক্যাল প্রসেসিং সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তারা জানান, বিইউএফটির ল্যাবভিত্তিক ক্লাস, ফ্যাক্টরি ভিজিট, সেমিস্টারভিত্তিক প্রকল্প এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ তাদের পেশাগত জীবনকে এগিয়ে রেখেছে। বাস্তবমুখী শিক্ষার কারণে চাকরিতে যোগ দিয়েই তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ শুরু করতে পারেন, যা শিল্পে তাদের প্রতিযোগিতামূলক করে তোলে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও বিইউএফটির শিক্ষার্থীরা সুনাম অর্জন করেছেন। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের উল্লেখযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বর্তমানে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়ন করছেন। অনেকেই পেয়েছেন আন্তর্জাতিক বৃত্তি। এসব শিক্ষার্থী জানান, বিইউএফটির কারিকুলাম আন্তর্জাতিক মানে সাজানো এবং প্রকল্পভিত্তিক লার্নিং ও গবেষণার অভ্যাস গড়ে ওঠায় বিদেশে পড়াশোনায় তাদের আলাদা সুবিধা হয়েছে। বিশেষ করে গবেষণাপদ্ধতি, উপাত্ত বিশ্লেষণ, মেশিন লার্নিং-ভিত্তিক টেক্সটাইল গবেষণা, টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি, নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর ডায়িং প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা থাকার কারণে বিদেশী ল্যাবগুলোতে তারা দ্রুত মানিয়ে নিতে সক্ষম হচ্ছেন।
অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। আবার অনেকে কাজ করছেন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ল্যাবরেটরি ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে; যেখানে তারা স্মার্ট টেক্সটাইল, টেকসই ফ্যাশন, ন্যায্য শ্রমনীতি, ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন, অটোমেশন ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করছেন। তারা জানান, বিইউএফটির ডিগ্রি শুধু গ্রহণযোগ্য নয়; বরং এটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, বিশেষত প্রস্তুত পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের আধুনিক প্রবণতার সঙ্গে। এখানকার হাতে-কলমে ল্যাব ক্লাস, সফটওয়্যার প্রশিক্ষণ, রিপোর্ট রাইটিং, গবেষণা উপস্থাপনা এবং দলগত কাজের দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিবেশেও তাদের আলাদাভাবে যোগ্য করে তুলেছে।
রানওয়ে ফ্যাশন প্রাইভেট লিমিটেডে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিইউএফটির সাবেক শিক্ষার্থী সদরুজ্জামান রাসেল বলেন, ‘বিইউএফটির পাঠ্যক্রম, ইন্ডাস্ট্রিভিত্তিক প্রশিক্ষণ, আধুনিক ল্যাবের সুবিধা ও ইন্ডাস্ট্রি-সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা আমাকে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করেছে। এখানকার পরিবেশ ও সুযোগ আমাকে শুধু একাডেমিক দক্ষতাই দেয়নি; বরং পেশাগতভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতেও সাহায্য করেছে। ফ্যাশন ডিজাইন, গার্মেন্ট কনস্ট্রাকশন, প্যাটার্ন মেকিং ও সিএডি সফটওয়্যার প্রশিক্ষণ আমার ক্যারিয়ারের ভিত্তি তৈরি করেছে।’
প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ তৈরিতে কাজ করছে বিইউএফটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। তারা নিয়মিতভাবে নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট, ক্যারিয়ার নির্দেশনা, কর্মশালা, মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম ও অভিজ্ঞতা বিনিময় আয়োজন করছেন। এর মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থীরা কীভাবে ক্যারিয়ার শুরু করতে হবে, কীভাবে দক্ষতা বাড়াতে হবে—সবই শিখতে পারছেন। এ সহায়তা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের পেশাগত যাত্রাকে করেছে সহজ ও গতিশীল।










