চিটাগং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিকে কেন অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা মনে করেন?
সিআইইউর বিকাশের ইতিহাসই তাকে একটি স্বাতন্ত্র্য দেয়। ১৯৯৯ সালে ঢাকায় আইইউবির শাখা হিসেবে পথচলা শুরু হলেও ২০১৩ সালে স্বাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা অর্জনের পর প্রতিষ্ঠানটি নতুন দর্শনে এগোতে শুরু করে। এডুকেশন, সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড কালচারাল ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় এখানে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যের পরিবর্তে গুরুত্ব পায় শিক্ষার মান, গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবসম্পদ গঠন। নর্থ আমেরিকান কারিকুলাম, লিবারেল আর্টসভিত্তিক শিক্ষা, ওপেন ক্রেডিট সিস্টেম, দক্ষ শিক্ষক ও প্রযুক্তিনির্ভর ক্যাম্পাস এসবই সিআইইউকে আঞ্চলিক বাস্তবতায় অনন্য অবস্থানে নিয়ে এসেছে। শিক্ষার্থীরা শুধু একাডেমিক নয়, মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধেও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। এটাই সিআইইউর মূল শক্তি।
শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য সিআইইউকে কেন বেছে নেবে?
প্রথমত, সিআইইউর শিক্ষকরা দেশের অন্যতম দক্ষ ফ্যাকাল্টি দল। অধিকাংশ শিক্ষকই বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রি এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তাদের গবেষণা আন্তর্জাতিক জার্নালে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের সমসাময়িক জ্ঞান ও বিশ্লেষণ শক্তি উন্নত করে। ওপেন ক্রেডিট সিস্টেম শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী কোর্স বাছাইয়ের স্বাধীনতা দেয়। শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা বাড়াতে রয়েছে প্রেজেন্টেশন, অ্যাসাইনমেন্ট, ক্লাস অ্যাক্টিভিটি এবং মৌখিক পরীক্ষা, যা কর্মজীবনের প্রস্তুতিকে আধুনিকায়ন করে। ইন্ডাস্ট্রি কানেক্টিভিটি, করপোরেট টক, সি সুইট সেশন, ইন্ডাস্ট্রি ভিজিট ও লাইভ ইন ফিল্ড এক্সপেরিয়েন্স শিক্ষার্থীদের সমাজ ও শিল্প খাত সম্পর্কে ধারণা দেয়। এছাড়া ইয়ংওয়ান করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তির ফলে প্রতি বছর মেধাবী শিক্ষার্থীরা চার বছর মেয়াদি শতভাগ বৃত্তি, আন্তর্জাতিক মেন্টরশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ভবিষ্যৎ চাকরির সুযোগ পাচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।
শিক্ষার মান উন্নয়নে কী ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন?
সিআইইউতে আন্তর্জাতিক মানের আউটকাম বেজড এডুকেশন সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে। সিএলও-পিএলও ম্যাপিং, রুব্রিকসভিত্তিক মূল্যায়ন এবং কোর্স কাঠামোর আধুনিকীকরণ হয়েছে। ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণা তহবিল বরাদ্দ দেয়া হয়। ল্যাবরেটরি, সফটওয়্যার, আইওটি সুবিধা, রোবোটিকস, এলএমএস ও ক্লাউডভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ আধুনিক মানে উন্নীত হয়েছে। আইকিউএসি শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণে নিয়মিত ভূমিকা রাখছে এবং জাতীয় আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশনের প্রস্তুতিও চলছে। শিল্প খাতের সঙ্গে যৌথভাবে কারিকুলাম হালনাগাদ করায় শিক্ষার ব্যবহারিক প্রাসঙ্গিকতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সিআইইউর সহযোগিতা কতটা শক্তিশালী?
বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাডেমিক সম্পর্ক আছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়া (যুক্তরাষ্ট্র), ইউনিভার্সিটি অব টুয়েন্টি (নেদারল্যান্ডস), রেনেস স্কুল অব বিজনেস (ফ্রান্স), সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এশিয়া সেন্টার (দক্ষিণ কোরিয়া), আইআইএম রাঁচি (ভারত) এবং ইউইউএম (মালয়েশিয়া)। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতার আওতায় যৌথ গবেষণা, সেমিনার, কনফারেন্স, এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, কারিকুলাম উন্নয়ন এবং অতিথি লেকচার নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থেকে কোন কোন কার্যক্রম সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য?
সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এশিয়া সেন্টারের সঙ্গে রাজনৈতিক অর্থনীতি ও এশিয়ান স্টাডিজে কয়েকটি গবেষণা প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা সিআইইউতে এসে পাঠদান করেছেন, আবার আমাদের শিক্ষকরা কোরিয়া সফর করেছেন। নেদারল্যান্ডসের ইউনিভার্সিটি অব টুয়েন্টি ও নরওয়ের স্ট্যাভেঞ্জার বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা চলছে। টিলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় এসএমই খাতের উদ্ভাবন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে।
অন্যদিকে রেনেস স্কুল অব বিজনেসের সঙ্গে যৌথ কেস রিসার্চ ও প্রশিক্ষণ ব্যবসায় শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করেছে। এছাড়া যুক্তরাজ্যের ক্র্যানফিল্ড ইউনিভার্সিটির কেস সেন্টারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ফলে সিআইইউতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দেশের প্রথম কেস রাইটিং সেন্টার। বিএসআরএম, হিরো মোটরসাইকেল, ডিবিএল গ্রুপকে নিয়ে প্রস্তুত করা কেস এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে কী ধরনের সেবা রয়েছে?
সিআইইউ চট্টগ্রামের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে পূর্ণাঙ্গ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে। ব্যক্তিগত কাউন্সেলিং, গ্রুপ সেশন, সচেতনতামূলক কর্মশালার পাশাপাশি ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে চালু হয়েছে ‘অপরাজেয়’ একটি ডিজিটাল মানসিক স্বাস্থ্য প্লাটফর্ম, যা শিক্ষার্থীদের সহায়তা দেয়।
ভবিষ্যতে সিআইইউকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোথায় দেখতে চান?
আমাদের লক্ষ্য সিআইইউকে একটি গবেষণামুখী আন্তর্জাতিক হাবে রূপান্তর করা। স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মিত হলে বিদেশী শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ আরো বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন, গ্লোবাল র্যাংকিং, যৌথ ডিগ্রি ও গবেষণা সহযোগিতা এসব কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে। আগামী দশকে সিআইইউ বাংলাদেশের শীর্ষ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে।










