চট্টগ্রামের উচ্চশিক্ষা পরিসরে প্রতিযোগিতা সাধারণত পাঠ্যক্রম, আন্তর্জাতিক চুক্তি কিংবা র‌্যাংকিংকে কেন্দ্র করেই মানদণ্ড নির্ধারিত হয়। তবে এ চেনা গণ্ডির বাইরে গিয়ে চিটাগং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি (সিআইইউ) ধীরে ধীরে একটি ভিন্ন পরিচয় তৈরি করছে যেখানে শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা, শেখার অভিজ্ঞতা এবং একাডেমিক সহায়তাকে একই কাঠামোর মধ্যে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

সিআইইউতে মানসিক স্বাস্থ্যকে ‘অতিরিক্ত সুবিধা’ হিসেবে নয়, বরং শিক্ষার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চালু রয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য ও কাউন্সেলিং সেবা, যেখানে ব্যক্তিভিত্তিক কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি দলগত সেশন, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজন করা হয়। একাডেমিক চাপ, ব্যক্তিগত সংকট কিংবা মানসিক অস্থিরতার সময়ে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও গোপনীয় পরিবেশে পেশাদার সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পায়।

এ উদ্যোগকে আরো বিস্তৃত ও সময়োপযোগী করতে এ বছর অক্টোবর থেকে চালু হয়েছে ‘অপরাজেয়’ নামে একটি ডিজিটাল মানসিক স্বাস্থ্য প্লাটফর্ম। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্ব-সহায়তা উপকরণ, মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য এবং অনলাইন সহায়তা গ্রহণ করতে পারে। ফলে সহায়তা নির্দিষ্ট সময় বা কক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সহজলভ্য হয়ে উঠেছে।

একই সঙ্গে সিআইইউর একাডেমিক সহায়তা ব্যবস্থাও প্রযুক্তিনির্ভর। কোর্স নিবন্ধন, লেকচার নোট সংগ্রহ, অ্যাসাইনমেন্ট জমা, উপস্থিতি ও ফলাফল দেখা হয় সিএমওএস (কোর্স ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা ব্যবস্থা) প্লাটফর্মে। প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য রয়েছে ইউএমএস (বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা), যেখানে ফি পরিশোধ, সময়সূচি ও পরীক্ষার রুটিন অনলাইনে পাওয়া যায়। মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষের পাশাপাশি অনলাইন ও রেকর্ডকৃত ক্লাস শিক্ষাকে আরো সহজ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে রয়েছে ১৩ হাজারের বেশি বই, একাডেমিক সাময়িকী ও অডিও-ভিজুয়াল উপকরণ। কোহা সফটওয়্যারের মাধ্যমে লাইব্রেরি স্বয়ংক্রিয় এবং ডিস্পেসভিত্তিক ডিজিটাল রিপোজিটরিতে গবেষণা প্রবন্ধ ও থিসিস সংরক্ষিত, যা গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করছে।

শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রায় ২০টি ক্লাবের মাধ্যমে সামাজিক সেবা, সাংস্কৃতিক চর্চা, নেতৃত্ব ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা সক্রিয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সিআইইউ শিক্ষার্থীদের অর্জন দৃশ্যমান হচ্ছে। ২০২৫ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত হুলিক দাইহাতসু জাপান প্যারা ব্যাডমিন্টন ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী ইমাম এসএল ৪ ক্যাটাগরিতে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন, যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবজনক সাফল্য।

একই কাঠামোর অংশ হিসেবে সিআইইউ শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের প্রস্তুতিও নিশ্চিত করছে। শিল্প খাত সম্পৃক্ত ইয়াংওয়ান-সিআইইউ একাডেমিক এক্সিলেন্স স্কলারশিপে ইয়াংওয়ান গ্রুপ ও কোরিয়ান ইপিজেডের যৌথ সহযোগিতায় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল থেকে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এ স্কলারশিপ মূলত বিবিএ, সিএসই এবং ইইই স্নাতক কর্মসূচির শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ। চার বছর মেয়াদি সম্পূর্ণ স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা এ বৃত্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত থাকে।