বিইউএফটি যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, এক যুগ পেরিয়ে সেই লক্ষ্য কতটা পূরণ হয়েছে? বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীকরণে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
এটা স্বাভাবিক যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পুরোপুরি পরিপূর্ণতা পেতে সময় লাগে। তবে ধারাবাহিকভাবে এগোচ্ছে। বিইউএফটি থেকে প্রায় ১৭ হাজার গ্র্যাজুয়েট বেরিয়েছে। প্রডাকশন ম্যানেজমেন্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফ্যাশন—এসব খাতে আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা দক্ষতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানেও মেধার স্বাক্ষর রাখছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিয়ে যেতে নানা ক্ষেত্রে কাজ করছি। বিভিন্ন দেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এমওইউ রয়েছে। চুক্তির অধীনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় হয়। গত বছরও চীনে প্রায় ৫০ শিক্ষার্থী গিয়েছে। আমেরিকা, নেদারল্যান্ডস, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা টেক্সটাইল, ন্যানোটেক, কম্পোজিট, মার্চেন্ডাইজিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়াশোনা করছে। স্যাক্সিয়ন ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের সঙ্গে যৌথ প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট করছি। ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে ডিজিটাল ফ্যাশন নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ হয়েছে, ইউকে ইনোভেটিভ রিসার্চ ফান্ড থেকেও অর্থায়ন পেয়েছি। থ্রিডি ফ্যাশন, থ্রি-কোলো সফটওয়্যার—সবই ইনস্টল ও ব্যবহার হচ্ছে। যুগের চাহিদা মাথায় রেখে আমরা আপডেটেড থাকছি।
বিইউএফটি একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক গ্র্যাজুয়েট কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছেন। এর পরও দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বিদেশীদের আধিপত্য দেখা যায় কেন?
কিছু জায়গায় এখনো বিদেশীদের আধিপত্য আছে, এটা অস্বীকার করছি না। তবে বিইউএফটির গ্র্যাজুয়েটরা সেই জায়গাগুলোতেও ঢুকছে এবং সফলভাবে কাজ করছে। মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সারের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাদেরই প্রাক্তন শিক্ষার্থী। এইচঅ্যান্ডএমের ভারত-বাংলাদেশ অঞ্চলের দায়িত্বেও আছে আমাদের শিক্ষার্থী। কাইজার জিএমে আলমগীর, ক্ল্যাসিক হ্যান্ডমেড প্রডাক্টসের তৌফিক—এমন অসংখ্য উদাহরণ আছে। এমনকি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে কস্টিউম ডিজাইন বিভাগেও আমাদের এক ছাত্রী পুরস্কার পেয়েছে। এগুলো আমাদের বড় অর্জন।
আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান ভালো নয়। বিইউএফটি আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূচক নিয়ে কাজ করছে কি?
আন্তর্জাতিক র্যাংকিং কতটা নির্ভরযোগ্য—এ প্রশ্নও আন্তর্জাতিকভাবেই অনেকে তোলে। তার পরও র্যাংকিংয়ের যে সূচকগুলো আছে, তার অনেকগুলোতেই আমরা পিছিয়ে নেই। আমাদের ছয়-সাত হাজার শিক্ষার্থী এবং ২৫০-এর মতো শিক্ষক আছেন। শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাতে আমরা প্রায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করছি। আমাদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কম। এ জায়গায় গুরুত্ব দিচ্ছি। চীন, নাইজেরিয়া থেকে সম্প্রতি কয়েকজন ভর্তি হয়েছে। গবেষণা, প্রকাশনা, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া ও বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ে আমরা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে এগিয়ে। সময়ের সঙ্গে মিল রেখে আমরা আমাদের কারিকুলামও হালনাগাদ করি। বিদেশে আমাদের ক্রেডিট ও ভেরিফিকেশন গ্রহণ করে। সব মিলিয়ে আমরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখার চেষ্টা করছি।
আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে কী কী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন?
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভালো শিক্ষার্থী পাওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ধরনের মেধাবী শিক্ষার্থী দরকার, তা পাওয়া এখন কঠিন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের মৌলিক বিষয় জানাশোনার অভাব এ জায়গায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবু যারা আসে, তাদের ‘নলেজ গ্যাপ’ কমিয়ে সময়োপযোগী করে তুলতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।
আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা বৃদ্ধিতে কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
দেশের ইন্ডাস্ট্রিতে আলাদা রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আরঅ্যান্ডডি) সাপোর্ট না থাকায় আমরা টেক্সটাইল গবেষণায় পিছিয়ে আছি। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা বিজিএমইএ ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল রিসার্চ প্রতিষ্ঠা করেছি। পর্যাপ্ত বাজেটও আছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে সেখানে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রায় ৩০টি ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে অংশীদারত্ব রয়েছে। তাদের বাস্তব সমস্যাগুলো শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিশ্লেষণ করে সমাধান দেয়। জিরো ডিসচার্জ, পরিবেশবান্ধব প্রসেস, প্রডাক্টিভিটি—সব ক্ষেত্রে আমাদের কাজ হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকে জড়িত। এখনো আগের মতোই কাজগুলো ধরে রাখছি। ভর্তি বাড়ানো, গবেষণা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ল্যাব গড়া—এ তিনটি বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। আগামী দুই-তিন বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮-১০ হাজারে নিয়ে যেতে চাই।





