আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ভূমিকা কী?

বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ছিল শিক্ষার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা কেবল একাডেমিক ডিগ্রি অর্জন করেই থেমে থাকবে না, বরং তারা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পেশাদার এবং সচেতন নাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে। একজন বিশ্বমানের নাগরিক হওয়ার অর্থ শুধু ভালো ছাত্র বা দক্ষ কর্মী হওয়া নয়, বরং নেতৃত্বের গুণাবলি, নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন একজন পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠা। আমাদের অধিকাংশ শিক্ষকই উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন, ফলে তাদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ মানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষম হয়ে ওঠে।

বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীকরণ প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোন সূচকে গুরুত্ব দিচ্ছেন?

প্রথমত, আমরা কারিকুলামকে বিশ্বমানের সঙ্গে সামঞ্জস্য করছি, যাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতামূলক হয়। দ্বিতীয়ত, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়ানো হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য একটি গবেষণানির্ভর, উদ্ভাবনমুখী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এগিয়ে যাওয়া। আমরা আরো বেশকিছু সূচকে গুরুত্ব দিচ্ছি। এর মধ্যে আছে আউটকাম বেজড কারিকুলাম, কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষক নিয়ে আসা ও গবেষণা সহযোগিতার মতো বিষয়। এখানকার প্রতিটি প্রোগ্রাম নিয়মিত ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল রিভিউর মধ্য দিয়ে যায়। পাশাপাশি আমরা যৌথ গবেষণা, কনফারেন্স আয়োজনের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি।

আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে কীভাবে সাজানো হয়েছে?

এখানকার প্রতিটি কারিকুলাম তৈরি হয় ইন্ডাস্ট্রি চাহিদা, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক ফ্রেমওয়ার্ক ধরে রেখে। আমাদের অ্যাডভাইজরি বোর্ডগুলোতে ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা যুক্ত আছেন। পাশাপাশি আমরা টেকসই উন্নয়ন, ডিজিটাল উদ্ভাবন, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি—এসবকে গবেষণার মূল ফোকাস করেছি। ফলে আমাদের প্রোগ্রামগুলো দেশে ও বিদেশে উভয় ক্ষেত্রেই প্রাসঙ্গিক।

NSU2

আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম কতটা অগ্রাধিকার পায়? এসব প্রোগ্রামকে কার্যকর করতে কোন বিষয়ে জোর দিচ্ছেন?

এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম আমাদের আন্তর্জাতিকীকরণের সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ। আমরা ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রেডিট ট্রান্সফার সহজ করা, স্বল্প সময়ে ভিসা প্রসেসিং সহায়তা এবং একাডেমিক অ্যাডভাইজিং আরো উন্নত করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কোন প্রোগ্রামের আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন আছে? এটি কেন জরুরি?

এনএসইউর প্রোগ্রামগুলো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে মানানসই এবং শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থাগুলো দ্বারা স্বীকৃত। স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস হলো বাংলাদেশের প্রথম আমেরিকান-অনুমোদিত ব্যবসায়িক স্কুল, যা অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল ফর বিজনেস স্কুলস অ্যান্ড প্রোগ্রামস (এসিবিএসপি, ইউএসএ) দ্বারা স্বীকৃত। স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্সেস বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের অধীনে বোর্ড অব অ্যাক্রেডিটেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন (বিএইটিই) থেকে তার সিএসই, ইইই ও ইটিই প্রোগ্রামগুলোর জন্য স্থানীয় স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার প্রোগ্রামটি ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) দ্বারা স্বীকৃত। এছাড়া আরো বেশকিছু অ্যাক্রেডিটেশন রয়েছে।

আপনি কি মনে করেন আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থানই গুণগত শিক্ষার মানদণ্ড? র‍্যাংকিংয়ে ভালো করতে কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

র‍্যাংকিং মানদণ্ডের পুরোটা নয়, তবে গুরুত্বপূর্ণ সূচক। র‍্যাংকিং উন্নত করতে আমরা হাই-ইমপ্যাক্ট পাবলিকেশন, সাইটেশন বাড়ানো, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আকর্ষণ এবং ইন্ডাস্ট্রি-লিংকড গবেষণা জোরদার করছি। র‍্যাংকিংয়ে এর একটা ইমপ্যাক্ট আছে। টাইমসের র‍্যাংকিংয়ে আমরা বরারব দেশসেরা অবস্থানে থাকছি। এবার কিউএস র‍্যাংকিংয়ে আমরা এশিয়ার ১৪৯তম বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছি। এশিয়ায় হাজারও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। প্রথমবার দেড়শর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে এনএসইউ। এতেই বোঝা যায় আমাদের গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রম বিকশিত হচ্ছে এবং বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান ও গবেষকের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

আমাদের লক্ষ্য এনএসইউকে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। সে লক্ষ্যে নতুন ক্যাম্পাসের কাজ চলছে। এছাড়া আমরা আগামী বছরগুলোতে গবেষণায় বাজেট বাড়াতে চাই, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি করতে চাই, উন্নত ল্যাবরেটরি নির্মাণ এবং মাল্টিডিসিপ্লিনারি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা নিয়ে কাজ করছি। সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা—একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, উদ্ভাবনমুখী ও বৈশ্বিক নাগরিক তৈরির পরিবেশ তৈরি করা।