বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) প্রতিষ্ঠার অন্যতম লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও ফ্যাশন শিক্ষাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে বিইউএফটি শুরু থেকেই বৈশ্বিক অংশীদারত্ব শক্তিশালী করতে জোরদার ভূমিকা রাখছে। আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা উপকরণ ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে কোলাবরেশন না থাকলে বিশ্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধার সম্মুখীন হবেন গ্র্যাজুয়েটরা—এমন শঙ্কা থেকে বিইউএফটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব স্থাপন করেছে। শিক্ষার মান, গবেষণা ও শিল্প সংযোগ বাড়াতে এ পর্যন্ত ৩৯টি আন্তর্জাতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
এর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হলো ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি, চীনের উহান টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, চেংডু টেক্সটাইল কলেজ, ঝেজিয়াং সাই-টেক বিশ্ববিদ্যালয়, হুবেই বিশ্ববিদ্যালয়, ডংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া জার্মানির চেম্নিজ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, নেদারল্যান্ডসের সাকসন ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্স, যুক্তরাজ্যের মানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, বেলজিয়ামের ঘেন্ট ইউনিভার্সিটি, সুইডেনের বোরাস ইউনিভার্সিটি, নিউজিল্যান্ডের ওটাগো পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, মালয়েশিয়ার বাইনারি বিশ্ববিদ্যালয়, নেপালের নমুনা কলেজ অব ফ্যাশন টেকনোলজি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কপিন স্টেট ইউনিভার্সিটির সঙ্গে ফ্যাশন, টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব এমওইউর মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময়, পাঠ্যক্রমের সমন্বয়, যৌথ গবেষণা প্রকল্প, প্রযুক্তি ও উপকরণ বিনিময় এবং ইন্ডাস্ট্রি চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ। এতে শিক্ষার্থীরা কেবল পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না; তারা আন্তর্জাতিক ল্যাবে, বিভিন্ন অনলাইন ও অফলাইন কোর্সে অংশ নিয়ে, নতুন সফটওয়্যার ও ডিজাইন প্লাটফর্মের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। ফ্যাশন ডিজাইন থেকে শুরু করে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল প্রসেসিং, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টসহ এসব অভিজ্ঞতা তাদের আধুনিক শিল্প চাহিদার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সহায়ক হয় ভূমিকা রাখছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অংশীদাররা সফটওয়্যার, ল্যাব যন্ত্রপাতি, ডিজাইন টুল ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সরবরাহেও সহায়তা করছে। ফলে বিইউএফটির ল্যাবভিত্তিক প্রশিক্ষণগুলোও আন্তর্জাতিক মানের হয়ে উঠছে। পাশাপাশি যৌথ গবেষণা প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক গবেষণা পদ্ধতি, উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন, যা তাদের পেশাদার ক্যারিয়ারের পথ সুগম করছে। এমওইউগুলোর আরেকটি বড় সুফল হলো বিইউএফটির শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক জার্নালে যৌথভাবে গবেষণাপত্র প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন।










