এটি শুধু একটি জাতির স্বাধীনতার ঐতিহাসিক মাইলফলক নয়; উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা-চেতনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মুক্তবাজারভিত্তিক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রারও এক অনন্য উদযাপন।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আজ বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও মানবসম্পদ উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।
ট্রান্সকম গ্রুপ এ অগ্রযাত্রার একজন গর্বিত অংশীদার। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় খাদ্য ও পানীয় প্রতিষ্ঠান পেপসিকো (PepsiCo)-এর সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের পানীয়ের পাশাপাশি লে’স (Lay’s)-এর মতো বিশ্বখ্যাত স্ন্যাকস ব্র্যান্ডের উৎপাদন ও বাজারজাতের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভোক্তাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের পণ্য নিশ্চিত করে আমরা বৈশ্বিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি। প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কেএফসি ও পিৎজা হাটের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে আন্তর্জাতিক মানের খাদ্য, সেবা ও আতিথেয়তার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। একইভাবে ওয়ার্লপুল (Whirlpool)-এর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিশ্বমানের গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির উৎপাদন ও বাজারজাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও গুণগত মান নিশ্চিত করছি।
একই সঙ্গে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ রফতানির মাধ্যমে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক মান এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করেছে। এসকেএফ প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ইনজেকটেবল ওষুধ রফতানি করে দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে একটি মাইলফলক অর্জন করেছে, যা বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের জন্য একটি গৌরবময় অর্জন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক সম্পর্কেরও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও কৃষি, উন্নত উৎপাদন শিল্প, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থা ও টেকসই বিনিয়োগে দুই দেশের সহযোগিতা আগামী দিনে আরো বিস্তৃত হবে।
এ ঐতিহাসিক মুহূর্তে ট্রান্সকম গ্রুপ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারত্ব আরো সুদৃঢ় করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করছে। দুই দেশের এ সম্পর্ক আগামী প্রজন্মের জন্য আরো সমৃদ্ধ, গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
সিমিন রহমান: গ্রুপ সিইও, ট্রান্সকম গ্রুপ










