এ ঐতিহাসিক ক্ষণে দেশটির জনগণকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। প্রতি বছর এ উদযাপন শুধু আমেরিকার স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উদ্ভাবনের মতো চিরন্তন মূল্যবোধকে সম্মান জানানোর উপলক্ষ নয়। বরং গোটা বিশ্বে এ মূল্যবোধগুলোর যে গভীর প্রভাব রয়েছে, তা প্রতিফলনেরও বড় সুযোগ।

এবারের মার্কিন স্বাধীনতা দিবস আমার জন্য বিশেষ। কারণ সম্প্রতি আমি অ্যামচেমের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছি। দায়িত্ব নিয়েছি এমন এক সময়, যখন বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সহযোগিতার নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার এ সময়ে নতুন আরেকটি অধ্যায় তৈরি করতে পেরে আমি সম্মানিত।

বিগত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অ্যামচেম দুই দেশের মধ্যকার সেতুবন্ধের কাজ করছে। অভিন্ন মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সুদৃঢ় বাণিজ্যিক বন্ধনের ওপর ভিত্তি করে এ সম্পর্ককে আরো গভীর করতেও সহযোগিতা করেছে অ্যামচেম। বাংলাদেশ একটি উন্নত ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি হয়ে ওঠার দিকে এগোচ্ছে। এমন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের জন্য কেবল রফতানির বড় গন্তব্য নয়। বরং উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রধান অংশীদার। আগামীতে মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণে অ্যামচেম যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবে।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। এমন সময়ে দুই দেশের মধ্যে আরো বড় আকারের সহযোগিতা প্রত্যাশিত। বিশেষত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবার উদ্ভাবন, জ্বালানি নিরাপত্তা, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধিতে রূপান্তরমূলক ভূমিকা রাখতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে তাই আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করছি, আগামীতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরো গভীর হবে। উদ্ভাবন, অভিন্ন মূল্যবোধ ও জোরালো অর্থনৈতিক সহযোগিতা দুই দেশকে বড় সুযোগ ও যৌথ সমৃদ্ধির ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারে।

সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল: প্রেসিডেন্ট, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)