প্রতি বছর হাজারো বাংলাদেশী শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ব্যবসা ও বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আমেরিকার দিকে তাকিয়ে থাকে। আমার নিজের জীবনের সঙ্গেও আমেরিকার সম্পর্ক গভীরভাবে ব্যক্তিগত। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে জীবনের গঠনমূলক পর্যায় থেকে আজকের নেতৃত্বের দায়িত্ব পর্যন্ত, আমেরিকা আমার কাছে শুধু একটি গন্তব্য নয়; এটি ধারণা, মান, প্রতিষ্ঠান গঠন এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল, বোস্টনে আমার সম্পৃক্ততা এবং হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল সাউথ এশিয়া অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন আমাকে আরো দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করিয়েছে যে আজকের বৈশ্বিক বাস্তবতায় নেতৃত্বের ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, কূটনৈতিক বোঝাপড়া ও আন্তরিক অংশীদারত্ব। আমি উপলব্ধি করেছি, নিজ সীমান্তের ওপারে আস্থা তৈরি করলে, বিনয়ের সঙ্গে শুনলে এবং সমমর্যাদার অংশীদার হিসেবে কাজ করলে আমাদের দেশের কণ্ঠ আরো সম্মানিত ও শক্তিশালী হয়।
বৈশ্বিক পরিসরে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে আসে উদ্ভাবন, জ্ঞান, পুঁজি ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি; আর বাংলাদেশ নিয়ে আসে সহনশীলতা, তারুণ্য, উদ্যোক্তা মনোভাব ও কৌশলগত সম্ভাবনা। সাম্প্রতিক সময়ে পারস্পরিক বাণিজ্য, কৌশলগত জ্বালানি সহযোগিতা এবং গম আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা দেখিয়ে দেয় যে এ সম্পর্ক শুভেচ্ছা থেকে বাস্তব যৌথ মূল্য সৃষ্টির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আবদুল মোনেম গ্রুপে আমরা এ সেতুবন্ধকে ব্যবসার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ধারণ করে আসছি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আমাদের কোকা-কোলা অংশীদারত্ব বাংলাদেশ ও আমেরিকার বাণিজ্যিক বন্ধুত্বের একটি উজ্জ্বল প্রতীক। বাংলাদেশে কোকা-কোলা, স্প্রাইট, ফানটা এবং কিনলে ওয়াটারের অনুমোদিত বটলার হিসেবে আমরা বৈশ্বিক মান, প্রযুক্তি, গুণগত শৃঙ্খলা, লজিস্টিক সক্ষমতা, বিপণন শক্তি এবং কর্মসংস্থানকে আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছি। মানই নীরব কূটনীতি।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের আগামী অধ্যায় একটি সহজ কিন্তু সর্বজনীন নীতিতে পরিচালিত হওয়া উচিত: সম্মানের সঙ্গে বন্ধুত্ব, মর্যাদার সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ অগ্রগতি। আমার জীবনের প্রয়াস হলো বাংলাদেশের দৃঢ়তা এবং আমেরিকার উদ্ভাবনী শক্তিকে সম্মান জানানো এবং সেরা মেধা ও সৎ অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে ব্যবসাকে মানুষ, সমাজ ও বৃহত্তর বিশ্বের কল্যাণে নিয়োজিত করা। ‘যখন জাতিগুলো আস্থার সঙ্গে বাণিজ্য করে, বিনয়ের সঙ্গে শেখে এবং সদিচ্ছা নিয়ে নেতৃত্ব দেয়, তখন তারা শুধু বাজার তৈরি করে না; তারা একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে।’
এএসএম মাঈনউদ্দিন মোনেম: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আব্দুল মোনেম লিমিটেড










