আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মহাত্মা গান্ধী বলেছেন, পৃথিবীর যে রিসোর্স আছে তা দিয়ে পৃথিবী আমাদের সবাইকে খাবার দিতে পারবে। কিন্তু আমাদের যে লোভ-লালসা সেটা পূরণ করার সাধ্য পৃথিবীর নেই। আমাদের লোভ তো অসীম। বন্যপ্রাণীর ক্ষেত্রেও এখন তাই হয়েছে।

কোনো বিষয় আমরা জানি কিন্তু মানি না—সমস্যাটা এখানেই। আমাদের আপামর জনতা বন্যপ্রাণীর অধিকার সম্পর্কে জানে তবুও ভুল স্বীকার করে না। তারা জানে এ প্রাণী বা মাছ বধ করা যাবে না, তবুও লোভের বশে তারা সেটাই করছে এবং এটা যে ভুল সেটা তারা স্বীকার করে না। বন্যপ্রাণী মাত্রই ক্ষতিকারক, তাদের দেখা মাত্রই মেরে ফেলতে হবে—এ ধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

আমাদের উন্নয়ন যেভাবে এগোচ্ছে, এখানে দুই ধরনের চালিকাশক্তি আছে। একবার একটা অনুষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ হয় আমার। সেটি ছিল স্থপতিদের অনুষ্ঠান। কোনো কারণে আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। ফলে কিছু বিষয় জানার সুযোগ হয়। তাদের কথা শুনে ভালোই লাগল।

তারা বলছেন, আগামী ৫০ বছর পর বাংলাদেশে কোনো গ্রাম থাকবে না। এটা করতে গিয়ে কী ধরনের বাড়ি হবে, বাড়ির ডিজাইন কেমন হবে এসব বিষয় নিয়ে তারা কাজ করছেন। এটা গেল গ্রাম নিয়ে কথা। আর ঢাকা শহরের মতো যেগুলো মেগাসিটি আছে, এগুলোয় এখন তো ২৫ তলা পর্যন্ত বিল্ডিং হচ্ছে, আগামীতে কীভাবে ১০০ তলা বিল্ডিং হবে সে বিষয়ে তারা ভাবছে। তাদের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পরিবেশগত প্রভাব কী হবে সে নিয়ে কোনো কথা শুনলাম না। অর্থাৎ পরিবেশ নিয়ে কোনো ভাবনাই এখন কারো নেই। আমরা এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছি। এক দল চাচ্ছে উন্নয়ন। অন্যদিকে পরিবেশ নিয়ে আন্দোলন করছে আরেক দল। আমাদের প্রকৃতিও দরকার, উন্নয়নও দরকার। উন্নয়ন ও প্রকৃতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার নীতি এখনো আমরা গড়ে তুলতে পারিনি।

যেমন সমুদ্রের সব জায়গায় মাছ থাকে না। একই ব্যাপার জঙ্গলেও। সবখানে প্রাণীরা বিচরণ করে না। আমি যদি ওদের হটস্পট এড়িয়ে কাজ করি তাহলে কিন্তু ক্ষতিটা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। আমরা মানুষ জাতি তো দুষ্টু। আপনি কম প্রভাবের জায়গায় করলেন, ধীরে ধীরে হটস্পটের দিকে ঢুকে যাবে পরবর্তীরা। এটা ক্ষতিকর। সিলেটে কিছু জায়গায় পাহাড়ি ঝরনার মধ্যে মাছ চাষ করে। কিন্তু এটা তো করার কথা না। এটা সংরক্ষিত অঞ্চল। ওখানে একটা সাফারি পার্ক হবে। যে জায়গায় সাফারি পার্ক হবে সে জায়গায় কিন্তু সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা হবে বা হয়েই আছে পেছনের জায়গা নিয়ে। সেটা খুব ঘন জঙ্গল। মানুষ সাফারি পার্কে আসবে। প্রাণী দেখবে ভালো কথা। কিন্তু সেখানে যদি একটা হোটেল বানায় তাহলেই তো মহাবিপত্তি।