মানবসৃষ্ট নানা কারণ ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ বাড়ছে। নগরে পর্যাপ্ত সবুজায়নের অভাব ও কংক্রিটনির্ভর অবকাঠামো থাকায় তাপ আটকে থাকছে। ফলে নগরাঞ্চলে তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। গবেষণা বলছে, ২০০১-২০ সাল নাগাদ ঢাকায় ভূমির আয়তন ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। এর বিপরীতে নগরায়ণ বেড়েছে ২৪৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। নগরায়ণ প্রকল্প বাড়ায় জনসংখ্যাও বেড়েছে। ফলে গ্রিনহাউজ গ্যাস ও তাপমাত্রা নিঃসরণের হারও বাড়ছে। ২০২২ সালের তাপপ্রবাহ ঝুঁকি সূচক বলছে, ঢাকায় অবস্থিত ৪১টি থানার মধ্যে ১৭টিই উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। নগরাঞ্চলে তাপপ্রবাহ সংকটের পেছনে কৃষি, শিল্প ও পরিবহন খাত থেকে কার্বন নিঃসরণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার কমে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। তাপপ্রবাহ নানাভাবে শ্রম, কৃষি, নগর উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য খাতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

সিপিডির নীতিপত্রে বিশ্বব্যাংকের ১৯৯০-২০২২ সালের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেও এ ঝুঁকির আভাস মিলেছে। অতীতে বছরে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার গড় দিনের সংখ্যা ছিল ৭১। তবে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারায় তা বেড়ে গড় ৮৮ দিনে দাঁড়িয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশে বছরে চরম উষ্ণ দিনের সংখ্যা সর্বোচ্চ প্রায় ১৪০ দিনে পৌঁছতে পারে। ২০৩৫ সালের পর এ হার কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ২০৪১ সাল পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে তাপপ্রবাহের উচ্চ ঝুঁকি থাকবে। তবে মধ্যবর্তী সময়ে নগর ও গ্রামীণ জীবনযাত্রায় যে বিপর্যয় নেমে আসবে, তা মোকাবেলা করার মতো প্রস্তুতি এখনই নিতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত নীতিকৌশল নেয়ার বিকল্প নেই।

হুমকিতে জনস্বাস্থ্য, বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়

তাপপ্রবাহ নগরবাসীর জন্য শুধু অস্বস্তিকর পরিস্থিতি নয়; তাপপ্রবাহ গুরুতর রোগ এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত গরম হৃদরোগের পাশাপাশি শ্বসনপ্রণালির নানা রোগ বাড়াতে পারে। এর মধ্যে পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোক সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে। এছাড়া তাপপ্রবাহের সময় নানা সংক্রামক রোগও ছড়াতে পারে। ২০২৪ সালের হিট ইনডেক্সের তথ্যানুযায়ী, তাপপ্রবাহের ফলে নগরাঞ্চলের হাসপাতালগুলোয় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮-৯ শতাংশ বাড়ে। এর মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী শিশু সংক্রমিত হয় বেশি (১৮ দশমিক ৩ শতাংশ)। ফলে বাড়ে চিকিৎসা ব্যয়। কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ ১ শতাংশ বাড়লে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে দশমিক ৯৫ শতাংশ। অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ফলে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণে সৃষ্ট রোগে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গবেষকদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ও গ্রিনহাউজ নিঃসরণ কমিয়ে আনতে পারলে আবহাওয়াগত শারীরিক জটিলতার চিকিৎসা ব্যয় ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব।

বাড়ছে কর্মঘণ্টার অপচয়

অবাধ নগরায়ণ ও পর্যাপ্ত সবুজায়ন পরিকল্পনার অভাবে দেশের প্রধান নগর ঢাকা ও চট্টগ্রামে ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ (ইউএইচআই) বা তাপদ্বীপের প্রভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকার তুলনায় ঢাকার স্থানীয় ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯০-২০২০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছনো উষ্ণ দিনের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বেড়েছে এবং গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের হারও দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। চরম তাপপ্রবাহ শুধু জনজীবনেই অস্বস্তি বাড়াচ্ছে না। বরং সামষ্টিক অর্থনীতিতেও বড় আঘাত হানছে। কারণ তাপপ্রবাহের কারণে ঘটছে কর্মঘণ্টার অপচয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, তাপপ্রবাহ শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলায় বছরে ২৫ কোটি কর্মঘণ্টার অপচয় ঘটে। বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিপুল এ কর্মঘণ্টা অপচয়ের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১৭৮ কোটি ডলার, যা ২০২৪ সালের জিডিপির দশমিক ৪ শতাংশ। ১৯৯০-২০১৯ সাল নাগাদ দক্ষিণ এশিয়ার মেগাসিটিগুলোর ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, তাপপ্রবাহের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের দুই বড় নগরী ঢাকা ও চট্টগ্রাম। তাপপ্রবাহের ফলে হালকা শ্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মজীবীদের বছরে অপচয় হচ্ছে ৮৬০ কর্মঘণ্টা। মাঝারি শ্রম খাতের সঙ্গে যুক্ত কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এ অপচয় ৪৩ থেকে ১ হাজার ৫৯৫ কর্মঘণ্টা এবং ভারী শিল্প খাতে ২৯১ থেকে ২ হাজার ৪০২ কর্মঘণ্টা। কর্মঘণ্টার এ অপচয় দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতের জন্য অশনিসংকেত। শ্রমঘন এ শিল্পে কর্মঘণ্টার অপচয় মানে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা হারানো। নগরের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের পক্ষে ৬ ঘণ্টার বেশি কাজ করা সম্ভব নয়। তাপপ্রবাহের ফলে কৃষি উৎপাদনও নানাভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষত মাত্রাতিরিক্ত তাপ সহনশীল নয়, এমন শস্য উৎপাদনের মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিশ্চিত হচ্ছে না।

গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা বেশি দায়ী

বাংলাদেশে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে বিদ্যুৎ, পরিবহন, শিল্প ও কৃষিতে ব্যবহৃত জ্বালানি খাত যৌথভাবে ৪৮ দশমিক ৮১ শতাংশের জন্য দায়ী। এছাড়া কৃষি খাত এককভাবে ১৭ দশমিক শূন্য ৪ এবং শিল্প প্রক্রিয়া ও উৎপাদিত পণ্যের ব্যবহারে ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ করে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মডেল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কৃষি খাতের নিঃসরণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপপ্রবাহও বাড়তে শুরু করে। কৃষি খাতে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ১ শতাংশ হারে বাড়লে অতি উষ্ণ দিনের সূচক দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে যায়। ধান চাষের সময় দীর্ঘদিন জমিতে পানি জমিয়ে রাখা, অনিয়ন্ত্রিত হারে রাসায়নিক সার ব্যবহার এবং গবাদিপশু পালনের ফলে নির্গত মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড তাপমাত্রা বাড়ায়। খাতভিত্তিক তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কৃষি খাত থেকেই সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ঘটছে। কৃষি উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানি ব্যবহার ১ শতাংশ বাড়লে তাপ নিঃসরণ বাড়ে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ। ফলে কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও পরিবেশ সংবেদনশীল ব্যবস্থার গুরুত্ব বাড়তে শুরু করেছে।

cpd

সংকট উত্তরণে জলবায়ু সংবেদনশীল কৌশল ও পরিকল্পনা জরুরি

নগর তাপদ্বীপ অবস্থা মোকাবেলার জন্য প্রতিরোধমূলক এবং পরিবেশ সংবেদনশীল কর্মপদ্ধতি প্রয়োগের বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে কৃষি ও পরিবহন খাতে মনোযোগ বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে সিপিডি প্রকাশিত নীতিপত্রে কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে অন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যকার সহযোগিতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

কৃষি খাতে জলবায়ু-স্মার্ট পদ্ধতির সম্প্রসারণ: কৃষি খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য কৌশলী পদক্ষেপ নেয়া দরকার। এক্ষেত্রে ধান চাষের ক্ষেত্রে অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রায়িং (এডব্লিউডি) পদ্ধতির প্রবর্তন করা যেতে পারে। এ পদ্ধতিতে ধান চাষের জন্য জমিতে দীর্ঘ সময়ের জন্য পানি জমিয়ে না রেখে পর্যায়ক্রমিকভাবে ভেজানো আর শুকোনোর পদ্ধতির প্রসার ঘটাতে হবে। এভাবে কৃষিজমি থেকে মিথেন গ্যাস নিঃসরণ কমার পাশাপাশি পানির সাশ্রয় ঘটবে এবং ফলনও ঠিক থাকবে। এছাড়া মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে সুনির্দিষ্ট মাত্রায় সার প্রয়োগ করার মাধ্যমে নাইট্রাস অক্সাইড নিঃসরণ কমানো সম্ভব। গবাদিপশু ও বনায়ন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে উন্নত খাদ্যাভ্যাস ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জোর দিতে হবে। কাভার্ড ডাইজেস্টরের মতো প্রযুক্তির ব্যবহারে মিথেন নিঃসরণ কমানো যাবে। পাশাপাশি কৃষি বনায়ন ও শস্য বহুমুখীকরণে উৎসাহ দেয়ার মাধ্যমে সবুজায়নের হার বাড়াতে হবে।

পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা: নগরের তাপপ্রবাহ কমানোর জন্য পরিবহন ব্যবহার আধুনিকায়নের বিকল্প নেই। ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমাতে মাস র‍্যাপিড ট্রানজিট বা মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের দ্রুত সম্প্রসারণ করতে হবে। মেট্রো স্টেশনগুলোর আশপাশে পথচারীবান্ধব অবকাঠামো এবং সাইকেল লেনের ব্যবস্থা করা জরুরি।

শিল্প-কারখানায় কার্বন নিঃসরণ মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে: শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়াতে হবে। পণ্য পরিবহনের যান ও শিল্প-কারখানার জন্য কঠোর নিঃসরণ মানদণ্ড নির্ধারণের পাশাপাশি কড়া নজরদারিও নিশ্চিত করতে হবে। শিল্প-কারখানা ও পাবলিক ভবনে প্যাসিভ কুলিং বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। এ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ভবনের ভেতরের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমাতে সক্ষম। এ প্রযুক্তি স্থাপনের মাধ্যমে শ্রমিকদের ওপর বাড়তি তাপের অস্বস্তি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এভাবে কর্মঘণ্টার অপচয়ও ঠেকানো যাবে।

নগর পরিকল্পনার আধুনিকায়ন ও সবুজ অবকাঠামো: ইউএইচআই নিয়ন্ত্রণে নগর পরিকল্পনাকে পরিবেশ সংবেদনশীল করার বিকল্প নেই। দেশের বড় নগরগুলোয় সবুজ স্থানের অভাব রয়েছে। এছাড়া অপরিকল্পিত ভবন ও ফাঁকা ভূমি কমে যাওয়ায় পরিবেশগত দুর্যোগ বেড়ে চলেছে। এমন অবস্থায় নগর পরিকল্পনায় সবুজায়নকে গুরুত্ব দিয়ে কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো মেগাসিটিগুলোয় কৌশলগতভাবে বৃক্ষরোপণ, সবুজ করিডোর নির্মাণ এবং দখল-দূষণে হারিয়ে যেতে বসা জলাশয়গুলো উদ্ধার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আলো-বাতাস চলাচল এবং প্রতিফলকসামগ্রীর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য বিল্ডিং কোডের আধুনিকায়ন জরুরি। শহরভিত্তিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও অস্থায়ী শীতলীকরণ কেন্দ্র তৈরি করা জরুরি, যাতে সাধারণ মানুষ তাপপ্রবাহের সময় আশ্রয় নিতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার জন্য আধুনিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়াতে হবে। এসব তথ্য সংরক্ষণে আলাদা ডেটা সিস্টেমও তৈরি করতে হবে। এ তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও জলবায়ু ঝুঁকির ম্যাপিং উন্নত করার জন্য একটি বার্ষিক ‘হিট অ্যান্ড এমিশন স্কোরকার্ড’ চালু করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে চরম তাপপ্রবাহের দিন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ও তাপজনিত অসুস্থতার সঠিক পরিসংখ্যান পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

তাপপ্রবাহে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে: তীব্র তাপপ্রবাহের সময় শরীরে পানিশূন্যতা ও অবসাদ কাজ করে। এ সময় শ্রমঘন খাতের কর্মজীবীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রচারাভিযান বাড়াতে হবে। তাপপ্রবাহে চিকিৎসাসেবা নীতিনির্ধারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয়তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তাপপ্রবাহ বাংলাদেশের জন্য কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়। এটি উন্নয়নের পথেও বড় সংকট। প্যারিস চুক্তির আওতায় জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) পূরণের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি বর্তমান নগর, কর্মক্ষেত্র ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোকে খাপ খাইয়ে নেয়ার দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করতে হবে। সঠিক সমন্বয় ও সময়োপযোগী বিনিয়োগের মাধ্যমে এ জলবায়ু সংকটকে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং স্থিতিস্থাপক নগর গড়ার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোই বর্তমানে বেশি জরুরি।