৫. নবায়নযোগ্য জ্বালানির সীমিত ব্যবহার। পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, বিতরণ ব্যবস্থায় অপচয় এবং নীতিগত ধারাবাহিকতার অভাবও জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
স্বল্পমেয়াদে জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অপচয় কমানো, শিল্প খাতে শক্তিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান এবং এলএনজি ও অন্যান্য জ্বালানি আমদানিতে বহুমুখী উৎস নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বিদ্যমান বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধি ও সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।
মধ্যমেয়াদে দেশীয় গ্যাস ও সম্ভাব্য তেল অনুসন্ধানে বিনিয়োগ বাড়ানো, অফশোর অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা, সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং শিল্প ও আবাসিক ভবনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার উৎসাহিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য ও আন্তঃদেশীয় জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘমেয়াদে একটি সমন্বিত ও টেকসই জ্বালানি নীতি প্রণয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উল্লেখযোগ্য অংশ নিশ্চিত করা, স্মার্ট গ্রিড ও আধুনিক বিদ্যুৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করতে হবে।
আমার মতে, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল জ্বালানির সরবরাহ বৃদ্ধি নয়, বরং দক্ষ ব্যবহার, উৎসের বহুমুখীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সমন্বিত বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই সমাধান।
মোহাম্মদ খোরশেদ আলম: চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) আরএকে সিরামিকস বাংলাদেশ










