এর মধ্যে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৫৬ শতাংশই ব্যবহার হয় আবাসিক খাতে। ফলে সরকারি ভর্তুকির সবচেয়ে বড় চাপও আসে এ খাত থেকেই। তবে এখানেই রয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের সবচেয়ে বড় সুযোগ। দেশের লাখো বাড়ির ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসে পরিণত করা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপও কমবে, ভর্তুকির প্রয়োজনও ধীরে ধীরে কমতে পারে।
এ সম্ভাবনাকেই কাজে লাগাতে জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত বাসাবাড়ির জন্য ‘ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার (ডিআরএস)’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখ ৬০ হাজার পাকা ও আধা-পাকা বসতবাড়ি রয়েছে। কাঠামোগতভাবে উপযুক্ত ছাদগুলোর ৫০ শতাংশ ব্যবহারের মাধ্যমে তিন থেকে পাঁচ কিলোওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা গেলে প্রায় ৩৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব। এ সম্ভাবনার প্রাথমিক ভিত্তি গড়তেই আগামী পাঁচ বছরে এক হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইডকল।
তবে আবাসিক পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সবচেয়ে বড় বাধা প্রাথমিক বিনিয়োগ। একটি ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসাতে যে অর্থের প্রয়োজন হয় তা অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে। সেই বাধা কমাতেই প্রস্তাব করা হয়েছে একটি বহুস্তরভিত্তিক অর্থায়ন কাঠামো।
এ ব্যবস্থায় গ্রাহক প্রথমে একটি ডাউন পেমেন্ট দেবেন। বাকি অর্থ পাঁচ বছর মেয়াদি ঋণ হিসেবে দেবে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই ঋণের ৭৫ শতাংশ, অর্থাৎ পুরো প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ পুনঃঅর্থায়ন করবে ইডকল।
প্রকল্পের আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণের পাশাপাশি ব্যাংক গ্যারান্টি, এসক্রো ব্যবস্থা ও ডেট সার্ভিস রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট (ডিএসআরএ) অন্তর্ভুক্ত করে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোও প্রস্তাব করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো ও দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পের আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা।
প্রস্তাবিত অর্থায়ন কাঠামোর দ্রুত অনুমোদন, আবাসিক গ্রাহকদের জন্য নেট মিটারিং ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সংযোগ প্রক্রিয়া সহজ করা এ কর্মসূচির সাফল্য নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর (ডিএফআই) বিনিয়োগ আকর্ষণে একটি পাইলট কর্মসূচি চালু এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও বাড়ানো প্রয়োজন।
আলমগীর মোরসেদ: সাবেক ব্যবস্থাপনা
পরিচালক, ইডকল





