জ্বালানি নিরাপত্তা মানে নির্ভরযোগ্য, নিরবচ্ছিন্ন এবং অর্থনৈতিকভাবে টেকসই জ্বালানি প্রাপ্যতা। জ্বালানি বলতে আমি প্রাথমিক জ্বালানিকে—প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল, কয়লা, বায়োমাস, ইউরেনিয়াম ইত্যাদি বোঝাচ্ছি।

জ্বালানি নিরাপত্তা তখনই বিদ্যমান থাকে যখন কোনো রাষ্ট্র গুরুতর কাঠামোগত বা অর্থনৈতিক বিপর্যয় না ঘটিয়ে সরবরাহে বিঘ্ন বা মূল্যবৃদ্ধি সামাল দিতে পারে।

উত্তোলন বা আমদানি থেকে শুরু করে মজুদ, প্রক্রিয়াকরণ, বিতরণ পর্যন্ত সমগ্র সরবরাহ ব্যবস্থা জ্বালানি নিরাপত্তার অন্তর্ভুক্ত।

নিজস্ব খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে স্থবিরতা ও আমদানীকৃত জ্বালানির ওপর অতিনির্ভরতার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য ও সামুদ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে এলএনজি-নির্ভরতা বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতকে সরাসরি অস্থির বৈশ্বিক স্পট মার্কেটের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

জ্বালানির ঘাটতির কারণে বড় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেলে শুধু লোডশেডিং নয়, গ্রিডের ঘূর্ণন জড়তা কমে গিয়ে সরাসরি গ্রিডের স্থিতিশীলতাকে ক্ষুন্ন করে। এর ফলে কখনো কখনো ব্ল্যাক আউটের ঘটনাও বাংলাদেশে ঘটেছে। অর্থাৎ জ্বালানি নিরাপত্তায় ঘাটতি শক্তি নিরাপত্তার জন্য এক তাৎক্ষণিক হুমকিতে পরিণত হয়।

ভূরাজনৈতিক প্রশ্নকে বাইরে রাখলে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি দুর্নীতি। দ্বিতীয় গুরুতর সমস্যা হলো সমগ্র ব্যবস্থার অদক্ষতা। তৃতীয় গুরুতর সমস্যা হলো নীতিগত পরিকল্পনায় ঘাটতি।

দুর্নীতির প্রশ্নটি প্রকৃতপক্ষে একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন। অদক্ষতা ও নীতিগত পরিকল্পনা প্রধানত টেকনিক্যাল। এ তিনের সমাধান করা গেলে অন্যান্য দুর্বলতা ও চ্যালেঞ্জ, যেমন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ব্যালান্স অব পেমেন্টের চাপ, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, সরবরাহ ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা, অপর্যাপ্ত কৌশলগত মজুদ, তীব্র রাজস্ব ভারসাম্যহীনতা ইত্যাদি মোকাবেলা কঠিন হবে না। এসবের জন্য বহু পথ ও পদ্ধতি রয়েছে।

অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী: উপ-উপাচার্য, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)