বাংলাদেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো শতভাগ আমদানীকৃত কয়লার ওপর নির্ভরশীল। ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ, সরবরাহ সংকট কিংবা রফতানিকারক দেশের নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদনে পড়ে। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ায় কয়লা উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যাওয়ায় সরবরাহেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তবু বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিজেলের তুলনায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন অনেক বেশি সাশ্রয়ী হওয়ায় সরকার মাতারবাড়ী, পায়রা, রামপাল, নরিনকো পটুয়াখালী, বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি এবং এসএস পাওয়ারের মতো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ওপর বেশি নির্ভর করছে। শতভাগ আমদানিনির্ভরতার কারণে সরবরাহ ঝুঁকি এবং ক্যাপাসিটি চার্জের আর্থিক চাপ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশের কয়লার বাজার মূলত ইন্দোনেশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। তাই স্বল্পমেয়াদে সরকার আমদানির উৎস বৈচিত্র্যকরণের দিকে নজর দিতে পারে। সীমিত দেশের ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা যেন প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী দামে আমরা সরবরাহ বজায় রাখতে পারি।
দীর্ঘমেয়াদে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ ও নীতিগত প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি ধাপে ধাপে ক্যাপাসিটি চার্জনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বেসরকারি খাতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এক্ষেত্রে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রায় ৩৫ লাখ টন কয়লা সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি বছরে প্রায় দুই লাখ টন কয়লা আমদানির মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্প খাতের জ্বালানি চাহিদা পূরণেও প্রতিষ্ঠানটি অবদান রেখে চলেছে।
মো. রহমতুল্লাহ খোন্দকার: প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)










