তাই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। যেমন ‘‌‌নেট মিটারিং’ নীতি সংশোধন করে তা সব গ্রাহকের জন্য উন্মুক্ত করার মাধ্যমে শিল্প ও আবাসিক ভবনের ছাদে এবং সেচ কাজে সৌরবিদ্যুৎ (সোলার পিভি) ব্যবহারের প্রসার ঘটানো। ফলে গ্রাহকরা কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি ছাড়াই নিজস্ব ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং তা গ্রিডে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ শিল্পকারখানার ছাদের ক্ষেত্রে ৫ দশমিক ৫০ থেকে ৬ দশমিক ৬০ টাকা, উপশহর ও গ্রামীণ এলাকার আবাসিক ভবনের ছাদের ক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৫০ থেকে ৮ দশমিক ৫০ এবং বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের (ভূমিভিত্তিক) ক্ষেত্রে ১০-১১ টাকা। তাই ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনকে আমাদের অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। বিদ্যুৎ খাতে সৌরবিদ্যুতের অংশীদারত্ব বৃদ্ধির প্রত্যাশা থাকায়, ট্যারিফ বা মূল্যহার সমন্বয়ের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে নিজস্ব ‘‌ব্যাটারি-ভিত্তিক বৈদ্যুতিক শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা’ (ইএসএস) স্থাপনে উৎসাহিত করার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, গ্রিড থেকে চার্জ করার ক্ষেত্রে ইএসএসের খরচ হতে পারে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় ২১ টাকা এবং ছাদের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে চার্জ করার ক্ষেত্রে তা হতে পারে ১৬-১৭ টাকা। যদি পিক আওয়ার বা সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে (সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা) ট্যারিফ সমন্বয় করে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় ২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়, তবে ব্যক্তিগত অ্যাপার্টমেন্টের মালিক এবং বাণিজ্যিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্ট্যান্ডবাই ডিজেল জেনারেটর সরিয়ে নিজস্ব ইএসএস স্থাপন করবে। এছাড়া ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বর্তমান জীবাশ্ম জ্বালানি সংকটকে কাজে লাগিয়ে বৈদ্যুতিক রান্নার সরঞ্জাম এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার উৎসাহিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়বে এবং আমাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অব্যবহৃত অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

প্রফেসর ড.এম রিজওয়ান খান: সাবেক চেয়ারম্যান, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি ও ইমেরিটাস অধ্যাপক, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি