থাইল্যান্ডের এ বদলে যাওয়ার নেপথ্যে ছিল ২০০২ সালে শুরু হওয়া এক সাহসী রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিকল্পনা। যা ‘৩০ বাথ’ প্রকল্প বা সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নামে পরিচিত। এ সাফল্যের মূল জাদুমন্ত্র ছিল স্বাস্থ্যসেবাকে শুধু সেবা হিসেবে না দেখে একে জনগণের মৌলিক অধিকার হিসেবে রাষ্ট্রীয় নীতিমালায় গেঁথে দেয়া।
থাইল্যান্ডের এ স্বাস্থ্য বিপ্লবের প্রধান কৌশলটি ছিল একটি সুসংহত অর্থায়ন মডেল। সরকার জনস্বাস্থ্যের দায়ভার সরাসরি কাঁধে তুলে নিয়ে বছরে জনপ্রতি নির্দিষ্ট একটি প্রিমিয়াম নির্ধারণ করে দেয়, যা সাধারণ মানুষের সাধ্যের নাগালে। সবচেয়ে চমকপ্রদ কৌশলটি ছিল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয়কে একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় আনা। ফলে রোগীদের ওপর ব্যক্তিগত খরচের বোঝা যেমন কমেছে, তেমনি হাসপাতালগুলোর সেবার মান ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হয়েছে। থাইল্যান্ড তাদের জিডিপির ৪ দশমিক ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করে শুধু বড় শহরে বড় হাসপাতাল বানায়নি, বরং প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এ তৃণমূল পর্যায়ের অবকাঠামোই আজ দেশটির স্বাস্থ্য খাতের প্রধান শক্তি।
এ সুপরিকল্পিত কৌশলের সুফল থাইল্যান্ড আজ বহুমুখীভাবে ভোগ করছে। গত কয়েক দশকে দেশটিতে শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার অভাবনীয়ভাবে অর্ধেক কমে এসেছে। তবে তাদের কৌশলের সবচেয়ে দূরদর্শী অংশটি হলো অভ্যন্তরীণ সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করা। বর্তমানে থাইল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম প্রধান ‘মেডিকেল ট্যুরিজম’ হাব। যেখান থেকে দেশটি প্রতি বছর প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে।





