ষাটের দশকে যুদ্ধবিধ্বস্ত এক দরিদ্র রাষ্ট্র থেকে নব্বইয়ের দশকের মধ্যেই এক আধুনিক শিল্পোন্নত দেশে রূপান্তরিত হওয়ার এ ঘটনাকে বলা হয় ‘এডুকেশন-ড্রাইভেন ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন’ বা শিক্ষা-চালিত শিল্পায়ন। কোরিয়ার এ অভাবনীয় সাফল্যের মূল কৌশল ছিল প্রতিটি দশকের অর্থনৈতিক চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো।
সাফল্যের প্রথম ধাপে দক্ষিণ কোরিয়া সর্বজনীন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছিল। সরকার বুঝতে পেরেছিল যে শুধু উচ্চবিত্তের উচ্চশিক্ষা দিয়ে একটি জাতির ভিত গড়া সম্ভব নয়। এ গণশিক্ষা কর্মসূচির ফলেই মাত্র কয়েক দশকে দেশটির সাক্ষরতার হার প্রায় ৯৯ শতাংশে পৌঁছে যায়, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এক বিরল নজির। দ্বিতীয় কৌশলটি ছিল শিক্ষার সঙ্গে শিল্পের সরাসরি সংযোগ। যখন দেশটি ইলেকট্রনিকস ও ভারী শিল্পের দিকে পা বাড়াল, তখন শিক্ষাক্রমের বড় অংশ জুড়ে জায়গা করে নিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা।
১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে দক্ষিণ কোরিয়া কারিগরি বিদ্যালয় ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তার ঘটায়। শিল্পাঞ্চলগুলোর কাছাকাছি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা সরাসরি শিল্প খাতের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাও দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং শিল্প ও প্রযুক্তি উন্নয়নের অংশীদারে পরিণত হয়।
এ কৌশলের ফল ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শ্রমনির্ভর উৎপাদন থেকে দেশটি দ্রুত দক্ষতানির্ভর শিল্পে প্রবেশ করে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের হার ৭০ শতাংশেরও বেশি, যা বিশ্বের যেকোনো উন্নত দেশের জন্য ঈর্ষণীয়। উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের হার দ্রুত বাড়ে এবং প্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হয়। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে পরিচিত। সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিকস ও উদ্ভাবনী শিল্পে যার শক্ত অবস্থান।










