তৎকালীন সরকার যখন দেশীয় মুদ্রার মান ডলারের সঙ্গে স্থায়ীভাবে বেঁধে দেয় এবং পুঁজিপ্রবাহের ওপর সব নিয়ন্ত্রণ তুলে নেয় তখন থেকেই পতনের ঘণ্টা বাজতে শুরু করে। বাজার উন্মুক্ত হওয়ার সুযোগে চিলির বড় বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী নিজেদের ব্যাংক ব্যবহার করে নিজেরাই দেদারসে ঋণ দিতে থাকে। কোনো শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা না থাকায় এ ‘কানেক্টেড লেন্ডিং’ বা স্বজনপ্রীতিমূলক ঋণ বিতরণ ব্যাংকগুলোকে ভেতর থেকে নাজুক করে দেয়। যখন বিশ্ববাজারে চিলির প্রধান রফতানি পণ্য তামার দাম ধসে পড়ল এবং আন্তর্জাতিক সুদের হার বেড়ে গেল, তখন চিলির ব্যাংকগুলোর ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে দেশটির জিডিপি এক বছরে প্রায় ১৪ শতাংশ সংকুচিত হয় এবং অধিকাংশ ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে পড়ে।
খাদ থেকে উঠে আসার জন্য চিলি যে কৌশল গ্রহণ করেছিল, তা আজও উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য এক উজ্জ্বল উদাহরণ। প্রথমত, সরকার দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টাকা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চিরাচরিত পথে না হেঁটে পুরো ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর ঝুঁকি নেয়। ১৯৮৬ সালে প্রবর্তিত নতুন ব্যাংকিং আইনে তদারকি সংস্থাকে অভাবনীয় ক্ষমতা দেয়া হয়, যাতে তারা যেকোনো ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ লেনদেন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। দ্বিতীয়ত, চিলিই প্রথম দেশ হিসেবে ব্যাংকগুলোর জন্য তাদের আর্থিক স্বাস্থ্য ও ঋণের ঝুঁকি নিয়মিত জনগণের সামনে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করে। তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলটি ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেয়া। এ কঠোর ও সুশৃঙ্খল সংস্কারের ফলেই চিলি আজ লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে নিরাপদ ও শক্তিশালী ব্যাংক খাতের দেশে পরিণত হয়েছে।










