১৯৯০-এর দশকের শুরুতে দেশের মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র কয়েকশ ডলার, শিল্প অবকাঠামো ছিল সীমিত, আর শহরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও তখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি। সে সময় থেকেই ভিয়েতনাম রফতানিনির্ভর শিল্পায়নকে কেন্দ্র করে নগর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করার কৌশল বেছে নেয়।
যে কৌশলের ভিত্তি ছিল শিল্পাঞ্চল ও রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল তৈরি। হো চি মিন শহরের আশপাশে একের পর এক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হয়। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়। কর ছাড়, জমি ব্যবহারের সুযোগ এবং অবকাঠামোগত সুবিধা দিয়ে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে এখানে কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করা হয়। বিশেষ করে পোশাক, জুতা, ইলেকট্রনিকস ও হালকা উৎপাদন শিল্প দ্রুত বিস্তার লাভ করে। এসব শিল্প মূলত বৈশ্বিক বাজারে রফতানির জন্যই গড়ে ওঠে।
শিল্পায়নের সঙ্গে সমান্তরালভাবে শহরের অবকাঠামো উন্নয়নেও জোর দেয়া হয়। বন্দর, সড়ক যোগাযোগ এবং শিল্পাঞ্চলের সংযোগ উন্নত করা হয়, যাতে উৎপাদিত পণ্য দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছতে পারে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চল থেকে বিপুল শ্রমশক্তি শহরে এসে শিল্পে কাজ করার সুযোগ পায়। ফলে হো চি মিন ধীরে ধীরে দেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজারে পরিণত হয়।
সরকার শহরটিকে এমনভাবে সাজিয়েছে যাতে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের বড় অংশীদার হওয়া যায়। তবে তাদের কৌশলের বড় বিশেষত্ব ছিল এ শিল্পাঞ্চলগুলোকে ঘিরে অত্যন্ত পরিকল্পিত আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তারা প্রথমে রফতানিযোগ্য শিল্পের জন্য জোন তৈরি করেছে এবং সেই জোনগুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিক হাইওয়ে ও মেট্রো রেল নেটওয়ার্ক স্থাপন করেছে। এ শিল্পচালিত নগর পরিকল্পনাই হো চি মিন সিটিকে বিশৃঙ্খল জনসমুদ্র হওয়া থেকে বাঁচিয়ে একটি কর্মসংস্থানবান্ধব সুশৃঙ্খল নগরে পরিণত করেছে।
ভিয়েতনামের মোট রফতানির বড় অংশই হো চি মিন অঞ্চলকে ঘিরে গড়ে ওঠা শিল্পাঞ্চল থেকে আসে। গত তিন দশকে ভিয়েতনামের মাথাপিছু আয় কয়েকশ ডলার থেকে কয়েক হাজার ডলারে পৌঁছেছে, আর সেই উত্থানের বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে এ শহর।










