নারীরা পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা ধরনের সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বিবাহিত নারীদের প্রায় ৭০ শতাংশ জীবনের কোনো না কোনো সময় স্বামীর দ্বারা সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এসব সহিংসতার মধ্যে শারীরিক নির্যাতন, মানসিক চাপ, যৌন সহিংসতা ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ অন্তর্ভুক্ত। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা পরিবার বা সমাজের চাপের কারণে এসব নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশও করতে পারেন না।
সহিংসতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পারিবারিক নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ। অনেক নারী নিজের আয়, স্বাস্থ্যসেবা বা চলাফেরার বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। এতে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণও সীমিত হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সামাজিক নিয়ন্ত্রণ নারীর ক্ষমতায়নের পথে একটি বড় কাঠামোগত বাধা।
এদিকে বাল্যবিবাহও নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্যের একটি বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। দেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের একটি বড় অংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছরের আগে। অল্প বয়সে বিয়ে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্নতা, মাতৃস্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং পারিবারিক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ায়।
অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বেও নারীর উপস্থিতি এখনো সীমিত। সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ কিছুটা বাড়লেও নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। সর্বশেষ নির্বাচনে কেবল সাতজন নারী প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, যা গত পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন।
স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের প্রভাব অনেক সময় সীমিত থাকে। অনেক নারী জনপ্রতিনিধি সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং দলীয় কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে কার্যকরভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন না।
এমন পরিস্থিতিতে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে শুধু শিক্ষা বা কর্মসংস্থানে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব তথা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোও জরুরি। নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে নারীর ক্ষমতায়নের সব প্রয়াস বৃথা যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি।





