কিন্তু দৃশ্যপট বদলে গেছে অভাবনীয় ক্ষিপ্রতায়। পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় নীতি, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া আর রফতানিমুখী কৃষি কৌশলের জাদুকরী সমন্বয়ে তারা আজ এক অনন্য উচ্চতায়। একসময় যারা নিজেদের ক্ষুধা মেটাতেই হিমশিম খেত, আজ সেই দেশগুলোই খাদ্য উদ্বৃত্ত দেশ হিসেবে বিশ্ববাজারে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।
ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে রূপান্তরের সূচনা ঘটে ১৯৮৬ সালের ‘দয় ময়’ অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে। কৃষিতে সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থার পরিবর্তে জমির ব্যবহার অধিকার কৃষকদের হাতে দেয়া হয়। এতে কৃষকদের উৎপাদন বাড়ানোর প্রণোদনা তৈরি হয়। সরকার সেচ ব্যবস্থা, উচ্চফলনশীল বীজ এবং কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ায়। পাশাপাশি কৃষিপণ্যের বাজার উন্মুক্ত করা হয়, যাতে কৃষকরা সরাসরি বাজারে বিক্রি করতে পারেন। এ পরিবর্তনের ফলে কয়েক দশকের মধ্যেই ভিয়েতনাম চাল উৎপাদনে বড় উত্থান ঘটায় এবং আজ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চাল রফতানিকারক।
অন্যদিকে থাইল্যান্ড কৃষিকে পরিকল্পিতভাবে রফতানিমুখী শিল্পে রূপ দেয়। দেশটি শুধু ধান উৎপাদনের ওপর নির্ভর করেনি, বরং কৃষিকে বৈচিত্র্যময় করেছে। চালের পাশাপাশি চিনি, রাবার, পোলট্রি, সামুদ্রিক খাদ্য এবং ফল উৎপাদনে জোর দেয়া হয়। একই সঙ্গে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা হয়, যাতে কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন বাড়ে। উন্নত সড়ক, বন্দর ও রফতানি অবকাঠামো কৃষিপণ্যকে দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। বর্তমানে থাইল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম প্রধান ক্যানড ফুড এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রফতানিকারক দেশ। তাদের এ মডেলের বড় শক্তি হলো খামারের সঙ্গে কারখানার সরাসরি সংযোগ। সরকার এমন এক পরিকাঠামো তৈরি করেছে, যেখানে গ্রামীণ কৃষকরা উচ্চফলনশীল জাতের আবাদ করে এবং আধুনিক লজিস্টিক সাপোর্টের মাধ্যমে তা দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়। এ বাণিজ্যিক কৃষি মডেলের কারণেই থাইল্যান্ড আজ একটি নিট খাদ্য উদ্বৃত্ত দেশ হিসেবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের দোরগোড়ায় নিজেদের প্যাকেটজাত খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। এ কৌশলের ফলে বিশ্বব্যাংক থাইল্যান্ডেকে কিচেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড বলে অভিহিত করেছে। দুই দেশের কৌশলেই একটি সাধারণ মিল স্পষ্ট—তারা কৃষিনীতিকে কেবল সমাজকল্যাণ হিসেবে না দেখে একটি উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছে।










