কিন্তু ঘানা দ্রুত বুঝে ফেলেছিল, শুধু বিদ্যুৎ কেনাবেচার হিসাব দিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা গড়া যায় না। এজন্য দরকার উৎসের বৈচিত্র্য, অবকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক বাজারে নিজের জায়গা তৈরি করা। সে কারণেই তারা পুরনো জলবিদ্যুৎভিত্তিক নির্ভরতার সঙ্গে যুক্ত করল প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ। উপকূলীয় গ্যাস ক্ষেত্রের ব্যবহার বাড়াল, নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলল, শক্তিশালী করল সঞ্চালন ব্যবস্থাও। ধীরে ধীরে আমদানির চাপ কমে আসায়, যে দেশ একসময় বিদ্যুতের জন্য বিদেশের মুখাপেক্ষী ছিল, সেই দেশই এখন উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতিবেশীদের কাছে রফতানি করতে শুরু করেছে।
মরক্কো ছিল আরো কৌশলী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। দেশটির দুর্বলতা ছিল খুব স্পষ্ট। নিজস্ব তেল ও গ্যাসের বড় মজুদ নেই, ফলে আমদানির ওপর নির্ভরতা ছিল প্রায় কাঠামোগত। কিন্তু সে সীমাবদ্ধতাকেই মরক্কো শক্তিমত্তা বানিয়ে ফেলেছে ভূগোলকে সম্পদে পরিণত করে। মরুভূমির অনিঃশেষ রোদ, উন্মুক্ত প্রান্তরের বায়ু—এসবই হয়ে উঠেছে নতুন জ্বালানিনীতির ভিত্তি। বিশাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, ধারাবাহিক বায়ুবিদ্যুতে বিনিয়োগ এবং গ্রিড-সংযোগের আধুনিকীকরণ মরক্কোকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে এগিয়ে দেয়নি, ইউরোপের সঙ্গে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের দরজাও খুলে দিয়েছে। স্পেনের সঙ্গে তাদের সংযোগ তাই শুধু তারের নয়, কৌশলেরও। কখনো তারা বিদ্যুৎ আমদানি করে, কখনো রফতানি করে; কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তারা আর আগের মতো সম্পূর্ণ নির্ভরতার দেশ নয়।
ঘানা গ্যাস, জলবিদ্যুৎ ও আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাজারকে কাজে লাগিয়েছে; বিপরীতে মরক্কো সূর্য, বায়ু ও আন্তঃমহাদেশীয় সংযোগকে। তাদের সাফল্যের আসল সৌন্দর্য একসময় যারা ঘাটতির ভাষায় কথা বলত, আজ তারা সক্ষমতার ভাষায় কথা বলে।





