চীন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে আমরা এমন এক বন্ধনকে স্মরণ করছি, যা কেবল রাষ্ট্রনীতি বা কূটনীতির আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ইতিহাসের গভীরে প্রোথিত এক দীর্ঘস্থায়ী সভ্যতাগত যোগাযোগের ধারাবাহিকতা। বাণিজ্য, ধর্মীয় আদান-প্রদান, অভিবাসন ও জ্ঞানচর্চার মধ্য দিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমাদের দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে যোগাযোগ গড়ে উঠেছে, তার ছাপ আজও রয়ে গেছে সংস্কৃতি, দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রযুক্তিগত ঐতিহ্যের নানা উপাদানে, যা আধুনিক ভৌগোলিক সীমানাকেও অতিক্রম করে গেছে।
রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ মূলত সেই প্রাচীন সিল্ক রোডের ধারাকেই আধুনিক রূপে ফিরিয়ে আনার প্রয়াস—যেখানে ভৌগোলিক দূরত্বকে পুষিয়ে দেয় পারস্পরিক বিনিময়, সংঘাতের জায়গা নেয় শিক্ষালাভ এবং আধিপত্যের স্থলে প্রতিষ্ঠা পায় সহাবস্থান। সামুদ্রিক সিল্ক রোডের কৌশলগত অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ বহুদিন ধরেই এ অঞ্চলের সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার ও গবেষণা বলছে, এ যোগাযোগ একমুখী নয়, বরং দুই পক্ষ থেকেই সমানতালে এগিয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তিকে আরো দৃঢ় করেছে।
আজকের এ মাইলফলক কেবল ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের স্মারক নয়; এটি দুই সভ্যতার এক অব্যাহত সংলাপ, যা অভিন্ন ভবিষ্যতের পথরেখাও নির্দেশ করছে।
ড. সামসাদ মর্তুজা: অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ এবং পরিচালক, সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়








