তৈরি পোশাক খাতের জন্য চলমান প্রণোদনাগুলো না কমিয়ে বরং সম্ভব হলে তা যেন আরো বাড়ানো হয়—এটাই আমাদের প্রথম প্রত্যাশা। যদিও বলা হতে পারে যে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন (স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ) হলে এ সুবিধাগুলো আর পাওয়া যাবে না। তবুও আমরা আশা করি, চূড়ান্ত গ্র্যাজুয়েশনের আগ পর্যন্ত এ সুবিধাগুলো অব্যাহত থাকবে। এরপর প্রণোদনার বিষয়টি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডব্লিউটিওর নীতিমালা অনুযায়ী বন্ধ হয়ে যাবে।
বর্তমানে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম প্রায় পুরোটাই অনলাইনে পরিচালিত হয়। আমাদের কী পণ্য আমদানি ও রফতানি হচ্ছে, তার সব তথ্য কাস্টমসের সফটওয়্যার ডাটাবেজে সংরক্ষিত আছে। তাহলে অডিটের প্রক্রিয়াটি কেন এত জটিল হবে? তাই অডিট প্রক্রিয়াটি যেন শীর্ষস্থানীয় ১০-১৫টি পেশাদার অডিট কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, সেই প্রত্যাশা থাকছে। বাজেটে তিন নম্বর প্রত্যাশা হচ্ছে, ‘লো কস্ট ফান্ড’-এর পরিধিটা বাড়াতে হবে। যেমন জিটিএফ-গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড আর টিডিএফ-টেকনোলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের পরিধি বাড়াতে হবে। এছাড়া কভিডের পর ক্যাপিটাল হিসেবে পিএসসি-প্রাইম ক্রেডিট দেয়া হতো। তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে এ বছরের মে মাসে। এটা আরো বর্ধিত করা প্রয়োজন। কেননা ট্যারিফের একটা ধাক্কা আসার সম্ভাবনা আছে। আমাদের কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমাতে হবে। তারপর গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম যেন ২০২৫ ও ২০২৬-এর শেষ পর্যন্ত না বাড়ে সে প্রত্যাশাও থাকছে আসন্ন বাজেটে। পাশাপাশি জিটিএফ অথবা টিডিএফের মতো বাজারে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ফান্ড তৈরি করা জরুরি। নতুন উদ্যোক্তারা হচ্ছেন এমন কেউ, যারা কিছুদিন কোথাও চাকরি করেছেন আর এখন উদ্যোক্তা হতে চান। তারা তো আর আমার সঙ্গে বা দ্বিতীয় প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না। কারণ দ্বিতীয় প্রজন্মের উদ্যোক্তারা ব্যবসা করতে এলে পূর্বসুরীর কাছ থেকে মূলধন নিয়েই আসবেন। আমি যেমন আজ থেকে ৩০-৩৫ বছর আগে শুরু করেছি। তখন তো একেবারেই নতুন ছিলাম। আমার পেছনে কোনো সাপোর্ট ছিল না। আমাকে অনেক সংগ্রাম করে আসতে হয়েছে। এখন যেসব নতুন উদ্যোক্তা আসতে চান তাদের জন্য একটা লো-কস্ট ফান্ড তৈরি করতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে।










