মোটরসাইকেল ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিতে মৌলিক বাধাগুলো কী?
আমরা যে পর্যায়ে উৎপাদন করছি তার পরের পর্যায়ে যাওয়ার জন্য কোম্পানিগুলো উৎপাদনকাজের সঙ্গে যুক্ত হয় না। অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিটাই হয় ভেন্ডর বেজড। ভেন্ডররা গাড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর জন্য বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বা উপাদান সরবরাহ করে। বাংলাদেশের মোটরসাইকেল ইন্ডাস্ট্রির সাইজ আনুমানিক ৪ লাখ ইউনিটের। যেসব কোম্পানি বাজারে প্রতিযোগিতা করছে তারা সবাই একই ভেন্ডর থেকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিচ্ছে। আমাদের এখানে উৎপাদন করা হয় ঠিকই কিন্তু বাংলাদেশে কোনো ভেন্ডর নাই। ফলে যন্ত্রাংশ এনে এখানে অ্যাসেম্বল করতে হয়। এখানে যদি ভেন্ডর ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করা যায় তাহলে মোটরসাইকেলের দাম অনেক কমে আসবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে। আরো একটি অসুবিধার জায়গা হচ্ছে উচ্চ হারের আমদানি শুল্ক। আমরা যারা স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করছি, তাদের জন্য যে শুল্ক হার রয়েছে সেটি পুনরায় বিবেচনা করা যেতে পারে।
মোটরসাইকেল কি বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় জরুরি বাহন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছে?
বাংলাদেশে সহজ ও দ্রুত যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেলের ভালো বিকল্প এখানো তৈরি হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল এলোমেলো চলার কারণে মনে হয় বাংলাদেশে অনেক মোটরসাইকেল ।
পাকিস্তান এবং আমাদের শুল্ক প্রায় কাছাকাছি। অল্প কিছু বেশি। পাকিস্তানে বছরে ২৫ লাখ মোটরসাইকেল বিক্রি হয়। আমাদের এখানে বিক্রি হয় ৫ লাখের কম। তার মানে মোটরসাইকেলটা আরো সহজলভ্য করা দরকার। এখানে ভেন্ডর ডেভলাপ করা এবং ডিউটি কমানো হলে দাম কমে আসবে অনেকটাই। অনেক যুবকদের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি করছে এ খাত। এমন অনেক কোম্পানি আছে বা ব্যবসা আছে যেটি মোটরসাইকেলনির্ভর। ফলে মোটরসাইকেল খাতে অর্থায়ন বাড়ানো প্রয়োজন। এতে অর্থনীতিতে একটা অন্য রকম গতি আসবে।
মোটরসাইকেল কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংক লোনের প্রক্রিয়াটা কতটা কার্যকর?
ব্যাংকগুলো যে ইনস্টলমেন্টের সুবিধা দেয় সেটি আসলে খুব বেশি কার্যকর নয়। কারণ ব্যাংক যেসব শর্তজুড়ে দেয় ওই সব শর্ত যে পূরণ করতে পারবে তার লোন নেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। পুরো টাকা দিয়ে সে একটা মোটরসাইকেল কিনতে পারবে। তার ওপর এটি অনেক দীর্ঘ প্রক্রিয়া, উচ্চ সুদ হার তো আছেই। ভিয়েতনামে একটি ব্যাংক আছে যারা মোটরসাইকেল লোন দেয়। ওই ব্যাংকের ক্রেডিট পোর্টফোলিও ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। সেখানে প্রতি ৪ জনে একজনের মোটরসাইকেল আছে। সেখানে মানুষ ব্যাংক লোনেই মোটরসাইকেল কেনে। আর আমাদের এখানে যে লোনটা হয় সেটি হয় কনজিউমার লোন হিসেবে, যা ব্যায়বহুল। এখানে মোটরসাইকেল খাতে অর্থায়ন এবং মধ্যবিত্তদের মোটরসাইকেল কেনার জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। তাহলে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের কর্মসংস্থানে গতি আসবে।
বর্তমান সময়ে নারীদের মোটরসাইকেল বা স্কুটার চালানোর আগ্রহ বাড়ছে। এটি কীভাবে দেখেন?
নারীরা সাধারণত স্কুটার চালাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। স্কুটারের আমদানি শুল্কটা অনেক বেশি। বাংলাদেশে কিন্তু স্কুটার কেউ উৎপাদন করছে না। আমরাও করছি না বা বড় কোনো ব্র্যান্ডও করছে না। স্কুটার পুরোপুরি অ্যাসেম্বেল করা অবস্থায় বিদেশ থেকে আমদানি করা হলে সরকার এর ওপর ১৫৪ শতাংশ শুল্ক বসায়। আর একদম খুচরা পার্টস হিসেবে (চাকা, ইঞ্জিন, বডি ইত্যাদি আলাদা করে) দেশে আনা হয়, তারপর বাংলাদেশে এসে অ্যাসেম্বল করা হয়। এ ধরনের আমদানির ওপর ৯০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়। এখানে যদি ডিউটিটা কমিয়ে দেয়া হয় তাহলে দামটা হাতের নাগালে চলে আসবে। ফার্স্টটাইম ইউজার বা সিনিয়র সিটিজেনরা কিন্তু স্কুটার চালাতে চান। মেয়েদের মধ্যে তো আগ্রহ দিন দিন বাড়ছেই। ফলে এখানেও গুরুত্ব দেয়ার সময় এসেছে।
এবারের বাজেটে এ খাতের জন্য চাওয়া কী? সরকারের নীতি সহায়তা নিয়ে আপনার মতামত কী?
এ খাতে আসলে সরকারের নীতিগুলো দীর্ঘমেয়াদি হওয়া উচিত। প্রতি বছর যদি সেগুলো পরিবর্তন হয়, তাহলে বিনিয়োগ করাটা কঠিন। যেমন স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য ১২ বছরের একটা সুবিধা দেয়া হয়েছে কিন্তু ৭ বছর পর সেটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন এখানে তো বিনিয়োগটা ছিল ১২ বছর সুবিধা পাওয়ার আশায়। সে হিসাবেই সব পরিকল্পনা করা ছিল। ৫ বছর আগেই সেটি প্রত্যাহার করায় বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি যারা নতুন বিনিয়োগ করতে আসবে তাদের মধ্যেও আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।





