দেশের আবাসন খাতের বাজার কত?
দেশের আবাসন খাতে ৪০ লাখের ওপর মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রায় দুই ট্রিলিয়নের মতো বিনিয়োগ রয়েছে আবাসন খাতে।
এ মুহূর্তে আবাসন খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা কোনটি?
আবাসন খাতের কয়েকটি সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা বৈষম্যমূলক ড্যাপ ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা। বর্তমানে ড্যাপের (২০২২-৩৫) বৈষম্যমূলক ও ত্রুটিপূর্ণ নীতিমালার কারণে জমির মালিক ও ডেভেলপাররা বাড়ি তৈরি করতে পারছেন না।
এ সংকট কাটিয়ে উঠতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেমন বাজেট চান?
বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার। আমরা চাই, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বাস্তবধর্মী, জনবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট জনগণকে উপহার দিক। মূ্ল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বাজেট যাতে ভূমিকা রাখতে পারে সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে।
ড্যাপ বাস্তবায়ন নিয়ে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ আছে। এটি নিয়ে গত কয়েক বছর সরকারের সঙ্গে আপনাদের দরকষাকষিও চলছে। শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াল?
ড্যাপ নিয়ে শুধু আবাসন ব্যবসায়ী নন, সব মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। জমির মালিক থেকে শুরু করে ফ্ল্যাট ক্রেতা সবার মাঝে ক্ষোভ রয়েছে। লিংকেজ শিল্পগুলোর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। কারণ জমির মালিক ও আবাসন ব্যবসায়ীরা নতুন প্রকল্প গ্রহণ করতে পারছেন না। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সর্বশেষ প্রণীত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার (২০২২-৩৫) কারণে ভবন নির্মাণের কাজ থমকে আছে। আমরা সরকারে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা আমাদের বৈধ দাবি আদায়ের জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। আমরা আশা করি, সরকার ড্যাপের ফ্লোর এরিয়া রেশিও (FAR) সংক্রান্ত বিষয়ে শিগগিরই ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
আবাসন খাতের মাঝারি ও ছোট ব্যবসায়ীদের টিকে থাকা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংকট কাটিয়ে উঠতে আপনার সুপারিশ কী?
সংকট কাটানোর জন্য আমরা সরকারের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সরকারের কাছে ইতিবাচক নীতিসহায়তা চাচ্ছি। সরকারকে অবশ্যই এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ আবাসন খাত যেকোনো দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। সংকট কাটিয়ে উঠতে অবিলম্বে সরকারকে বাস্তসম্মত, বৈষম্যহীন ও ত্রুটিমুক্ত ড্যাপ ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
আবাসন খাতের বাজার ফেরাতে হোম লোন প্রক্রিয়া আরো সহজ করতে আপনাদের সুপারিশ কী?
বিশ্বের অনেক দেশেই ২০-৩০ বছরের জন্য গৃহঋণ দেয়ার জন্য মর্টগেজ করপোরেশন রয়েছে। সেসব দেশের ফ্ল্যাটের ক্রেতারা মোট মূল্যের ৩০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করে বাড়ি তৈরির অর্থের জন্য মর্টগেজ করপোরেশনে আবেদন করে থাকে। তখন ওই সংস্থা তাদের দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ দেয়। আমাদের দেশেরও এমন ব্যবস্থায় যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, অ্যাপার্টমেন্টে লোন বা গৃহঋণ দেয়া সব সময়ই ঝুঁকিমুক্ত। এখানে মন্দঋণ নেই বললেই চলে। মধ্যবিত্তরা আমাদের দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। এ মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয়া উচিত, কারণ বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার। হোম লোন প্রক্রিয়া সহজ করা উচিত। সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের (বিএইচবিএফসি) সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। গৃহঋণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল করলে সহজেই নাগরিকরা হোম লোন পাবে। একসময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এমন একটি তহবিল ছিল। কয়েক বছর সফলভাবে চলার পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। সেটা আবার চালু করতে হবে। এছাড়া সরকার কর্তৃক বিশেষায়িত হাউজিং ব্যাংক তৈরি করা হলে জনগণের হোম লোন পাওয়ার সুবিধা বাড়বে।
ফ্ল্যাট ও জমি রেজিস্ট্রেশনের খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি আপনাদের ব্যবসায় কেমন প্রভাব ফেলেছে?
সার্কভুক্ত দেশগুলোসহ সারা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের নিবন্ধন ব্যয় সবচেয়ে বেশি। এছাড়া রয়েছে ভ্যাট-ট্যাক্সের অতিরিক্ত চাপ। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো নিবন্ধন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে হবে। অনেকে রেজিস্ট্রি ছাড়াই কেনাবেচা করছে কিন্তু এটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। নানা ধরনের বিরোধও তৈরি হবে। আমাদের এখানে ১৫-২৫ শতাংশ হারে ট্যাক্স দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হচ্ছে। ফলে নাগরিকরা রেজিস্ট্রেশনে আগ্রহ হারাচ্ছেন। সরকার ট্যাক্স যদি সহনীয় মাত্রায় অর্থাৎ সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসে তবে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।
রিহ্যাবের পক্ষ থেকে প্রতি বছরের বাজেটেই কালো টাকা সাদা করার দাবি জানানো হয়। এবারের বাজেটেও আপনারা একই সুযোগ চান কিনা?
রিহ্যাবের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো সুযোগ চাওয়া হয়নি।










