১৩২ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনের পর আলজেরিয়া ১৯৬২ সালে স্বাধীনতা অর্জন করে। জাতীয় মুক্তিফ্রন্ট এবং বৃহত্তর সার্বভৌমত্বের সংগ্রামে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালনকারী তরুণ-তরুণীদের স্বীকৃতি জানিয়ে দিনটি আলজেরিয়ায় যুব দিবস হিসেবেও পালিত হয়।
এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘প্রজন্মের উত্তরাধিকার’। এ আয়োজন আলজেরিয়ার পূর্বপুরুষদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি আজকের তরুণদের একটি সমৃদ্ধ, সার্বভৌম ও অগ্রসরমান রাষ্ট্র গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করে। আলজেরিয়ার স্বাধীনতার সংগ্রাম সহনশীলতা, মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার অব্যাহত আকাঙ্ক্ষার বৈশ্বিক প্রতীক।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুক্তির আন্দোলনে আলজেরিয়ার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও উল্লেখ করতে চাই। আলজেরিয়ার বিপ্লব আফ্রিকা ও এর বাইরেও ঔপনিবেশিকতাবিরোধী আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছে। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, জোটনিরপেক্ষতা, ঔপনিবেশিকতাবিরোধিতা, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, শান্তিপূর্ণভাবে সংঘাত নিরসন এবং ফিলিস্তিন ও পশ্চিম সাহারাসহ ন্যায়সংগত বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি সমর্থন আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হিসেবে এখনো বিদ্যমান।
ভূমধ্যসাগর ও সাহেল অঞ্চলের মধ্যে একটি সেতু হিসেবে আলজেরিয়ার কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতায়ও আলজেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায়ও আলজেরিয়ার ভূমিকা রয়েছে। ইউরোপের গ্যাস আমদানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আলজেরিয়া সরবরাহ করে।
অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিষয়ে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বলতে চাই, প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের জন্য আলজেরিয়া ক্রমেই একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের, বিশেষ করে ওষুধ, কৃষি, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য উদীয়মান খাতে আলজেরিয়ায় সুযোগ অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ জানাই। ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল, যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ এবং বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ জোরদারে বাংলাদেশ-আলজেরিয়া বিজনেস ফোরামের ভূমিকারও প্রশংসা করছি।
আলজেরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আত্মত্যাগের গভীর ঐতিহ্য দুই দেশকে একসূত্রে আবদ্ধ করেছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া প্রথম আরব দেশ ছিল আলজেরিয়া। ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
(৫ জুলাই ২০২৬ ঢাকায় আলজেরিয়ার ৬৪তম জাতীয় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য, প্রেস রিলিজ থেকে)










