প্রবাসী বাংলাদেশীদের হাত ধরে বিদেশের বাজারে যাত্রা শুরু। এরপর বাংলাদেশীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে পণ্যের বাজারও। তবে এক পর্যায়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বাইরে স্থানীয় ভোক্তাদের মধ্যেও বাংলাদেশের পণ্যের সম্ভাবনা দেখতে পায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। বিশেষ করে এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের ভোগের ধরনে বাংলাদেশের সঙ্গে মিলকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক বাজারে বিস্তার শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। সেই বিস্তারে সবচেয়ে বড় বাজার ভারত। পাশাপাশি নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপেও পণ্য সরবরাহ বাড়াচ্ছে গ্রুপটি।

প্রাণ-আরএফএলের নিজস্ব তথ্যানুযায়ী, প্রাণের পণ্য বর্তমানে ১৪৫টি দেশে পৌঁছেছে। দক্ষিণ এশিয়ার বাজার হিসেবে ভারত, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে রফলের তথ্যানুযায়ী, গ্রুপটির পণ্য ১৪৮টির বেশি দেশে রফতানি হচ্ছে। খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি প্লাস্টিক, গৃহস্থালি সামগ্রী, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য, আসবাবসহ বিভিন্ন পণ্যও এখন বিদেশের বাজারে যাচ্ছে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌আমরা যখন রফতানি করি, যখন রফতানি শুরু হয়েছে, তখন প্রবাসী বাঙালিদের দিয়ে শুরু হয়েছিল। প্রবাসী বাঙালি বলতে তখন আমরা মূলত উপসাগরীয় অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশকে বুঝতাম। এর পরে এটা আরো অন্যান্য জায়গায় বিস্তৃত হয়েছে। বাংলাদেশের লোকজন আরো বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছে, মালয়েশিয়ায় গিয়েছে, সিঙ্গাপুরে গিয়েছে, অন্যান্য জায়গায় গিয়েছে। এ হিসাবেই রফতানি বাড়ছিল। পাশাপাশি আমরা দেখলাম, এশিয়া বা দক্ষিণ এশিয়া অথবা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মানুষের সঙ্গে আমাদের ভোগের ধরনে একটা মিল আছে। তখন আমরা ভাবলাম, এটাকে কেন কাজে লাগাই না। এ হিসাবেই আমরা এসব বাজারে গেলাম।’

ভারতকে কেন্দ্র করে বিস্তার

দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে প্রাণ-আরএফএলের বিস্তারের কেন্দ্রে রয়েছে ভারত। জনসংখ্যার আকার, ভৌগোলিক নৈকট্য ও ভোক্তাদের ভোগাভ্যাসের মিলকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রাণের নিজস্ব তথ্যানুযায়ী, ভারতে তাদের বিক্রয় ও বিতরণ নেটওয়ার্ক রয়েছে। দেশটিতে উৎপাদন কার্যক্রমও পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘‌দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে ভারত। কারণ ভারত আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী। সেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জনসংখ্যা রয়েছে। এটাকেও আমরা একটা সুযোগ হিসেবে দেখতে পারি। তাদেরও বড় একটি অংশের ভোগের অভ্যাস আমাদের ভোগের মতো। যার মধ্যে ভারত আছে, নেপাল আছে, ভুটান আছে, শ্রীলংকা আছে, মালদ্বীপ আছে।’

দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য কাঠামোয়ও ভারতের প্রভাব স্পষ্ট। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য যেমন এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক বড়, তেমনি ভুটান, নেপাল ও

শ্রীলংকার মতো দেশগুলোর আমদানি-রফতানিতেও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। ফলে আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভারত একদিকে বড় ভোক্তা বাজার, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র।

পাকিস্তানের বাজারে প্রাণের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত বলে জানান কামরুজ্জামান কামাল। তিনি বলেন, ‘‌পাকিস্তানেও কিছু পণ্য যেত। কিন্তু পাকিস্তানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুর কারণে আমরা সেভাবে ভালোভাবে বাজারটি কাজে লাগাতে পারিনি। আমরা অন্যান্য জায়গায় করতে পেরেছি। ভারতে করতে পেরেছি, নেপাল, ভুটান এসব জায়গায় করতে পেরেছি, এমনকি মালদ্বীপেও করতে পেরেছি।’

প্রবাসীদের হাত ধরে ব্র্যান্ড পরিচিতি

দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে প্রাণের বিস্তারের পেছনে আরেকটি বিষয় কাজ করেছে প্রবাসী জনগোষ্ঠী। এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ মধ্যপ্রাচ্য, উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। এসব দেশে প্রাণের পণ্যের সঙ্গে তাদের পরিচয় তৈরি হয়েছে। পরে নিজ দেশের বাজারে সেই পরিচিতি ব্র্যান্ডের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে। কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘‌এই দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর একটা বিশাল জনগোষ্ঠী কিন্তু দেশের বাইরে থাকে। বাইরে থাকার সুবাদে তারা আমাদের পণ্যের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিত। নেপালেরও প্রচুর লোক দেশের বাইরে থাকে, উপসাগরীয় অঞ্চলসহ অন্যান্য দেশে থাকে। সেখানে তারা আমাদের পণ্যের ভোক্তা। এটাও ওইসব দেশে আমাদের ব্র্যান্ডের পরিচিতির জন্য সহায়তা করেছে।’তিনি বলেন, ‘‌ভারতের বাঙালি অথবা ভারতের কেরালা বা তামিলনাড়ুর মানুষেরও রফতানি বাজারে ভালো ভোগ রয়েছে। এ সূত্র ধরে আমাদের ব্র্যান্ড সম্পর্কে তারা আগে থেকেই অবগত। আমরা সুযোগটাকে এসব জায়গায় কাজে লাগিয়েছি এবং সেখানে আমাদের পণ্য গিয়েছে।’

অর্থাৎ প্রাণ-আরএফএলের জন্য প্রবাসী বাজার শুধু সরাসরি বিক্রির জায়গা নয়, নতুন বাজারে ব্র্যান্ড পরিচিতি তৈরিরও একটি মাধ্যম। বিদেশে থাকা ভোক্তার মাধ্যমে তৈরি হওয়া পরিচিতিকে পরে স্থানীয় বাজারে কাজে লাগানোর কৌশল নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাজারভেদে বদলাচ্ছে পণ্যের চাহিদা

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাণের বাজার বিস্তার কোনো একটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং দেশের বাজার ও ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের ধরন পরিবর্তন হচ্ছে। নেপাল ও ভুটানের মতো বাজারে পানীয়, কনফেকশনারি ও স্ন্যাকসের চাহিদা রয়েছে। মালদ্বীপে পর্যটননির্ভর ভোক্তা চাহিদাকে কেন্দ্র করে পানীয় পণ্যের বাজার তৈরি হয়েছে।

16

কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘‌নির্দিষ্টভাবে যদি পণ্যের কথা বলেন, এটা আসলে বাজারভেদে পরিবর্তন হয়। নেপাল, ভুটান এসব জায়গায় পানীয় যায়, কনফেকশনারি পণ্য যায়, স্ন্যাকস যায়। এরপর মালদ্বীপে যেহেতু পর্যটননির্ভর বাজার, সেখানে পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের পানীয় পণ্য ভালো চলে।’

ভারতের বাজারের ব্যাপ্তি বড় হওয়ায় সেখানে পণ্যের পরিসরও বিস্তৃত বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘‌ভারতে যেহেতু আমরা সব রাজ্যেই যাই, এখানে সব পণ্যই যায়। নুডলস যায়, বিস্কুট-বেকারি যায়, জুস-পানীয় যায়, স্ন্যাকস যায়। একইভাবে নেপাল, ভুটানেও পণ্য যায়। মোটামুটি সব জায়গায় সব পণ্য কমবেশি যায়।’

ভুটানে ভারতের প্রভাবের মধ্যেও সুযোগ

দক্ষিণ এশিয়ার ছোট বাজারগুলোর মধ্যে ভুটান বাংলাদেশের পণ্যের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। ভুটানের সরকারি বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির মোট রফতানির ৭৮ দশমিক ৪৫ শতাংশের গন্তব্য ছিল ভারত। আমদানির ক্ষেত্রেও ভারতের অংশ ছিল ৫৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। অর্থাৎ ভুটানের বাণিজ্য কাঠামোয় ভারতের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী।

তবে একই সময়ে বাংলাদেশও ভুটানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে অবস্থান তৈরি করেছে। ভুটানের সরকারি প্রতিবেদনে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ ৪ হাজার ৭৮৫ মিলিয়ন গুলট্রাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের একটি ভিত্তি এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে।

প্রাণের জন্য এ বাজারে সুবিধা হচ্ছে ভোক্তাদের খাদ্যাভ্যাস ও পণ্যের চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্যের সামঞ্জস্য। পাশাপাশি ভারতের বাজারে তৈরি হওয়া সরবরাহ ও ব্র্যান্ড অভিজ্ঞতাও প্রতিবেশী বাজারগুলোয় বিস্তারের ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে।

শ্রীলংকায় বড় আমদানি বাজার

শ্রীলংকার বাজারের চরিত্র ভুটানের চেয়ে আলাদা। দেশটির আমদানি বাজারের আকার বড় এবং খাদ্য ও পানীয়সহ বিভিন্ন ভোক্তা ও শিল্পপণ্যের চাহিদা রয়েছে। শ্রীলংকার সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির মোট আমদানি ব্যয় ছিল ৫ দশমিক ৬৮৫ ট্রিলিয়ন শ্রীলংকান রুপি। একই সময়ে দেশটির রফতানি আয় ছিল ৩ দশমিক ৮৫৭ ট্রিলিয়ন রুপি।

শ্রীলংকার আমদানি বাজারে চীন ও ভারত সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী। ২০২৪ সালে চীন থেকে দেশটির আমদানি ছিল ১ দশমিক ৩০৭ ট্রিলিয়ন রুপি এবং ভারত থেকে ১ দশমিক ১৪১ ট্রিলিয়ন রুপি।

এ বড় আমদানি বাজারে প্রাণের জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে খাদ্য ও পানীয়সহ দৈনন্দিন ভোগ্যপণ্যে। কোম্পানির নিজস্ব বৈশ্বিক বাজার তালিকায়ও শ্রীলংকা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গন্তব্য হিসেবে রয়েছে।

শ্রীলংকার সরকারি পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় দেশভিত্তিক ও পণ্যভিত্তিক আমদানি তথ্য প্রকাশ করা হয়। ফলে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য, প্লাস্টিক ও অন্যান্য ভোক্তাপণ্যের সেখানে বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ পণ্যভিত্তিকভাবে পরিমাপ করা সম্ভব।

মালদ্বীপে পর্যটননির্ভর চাহিদা

মালদ্বীপের বাজার আবার আলাদা বৈশিষ্ট্যের। দেশটির ভোক্তা চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। পর্যটননির্ভর অর্থনীতির কারণে খাদ্য ও পানীয়ের পাশাপাশি হোটেল ও পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পণ্যেরও চাহিদা রয়েছে।

মালদ্বীপের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দেশটিতে মোট ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন মালদ্বীপ রুফিয়ার পণ্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের আমদানি ছিল ৮৫৯ মিলিয়ন রুফিয়া এবং যন্ত্রপাতি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের আমদানি ছিল ৭৩৫ মিলিয়ন রুফিয়া।

ওই মাসে মালদ্বীপের সবচেয়ে বড় আমদানি উৎস ছিল চীন, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। চীন থেকে ৭১২ মিলিয়ন, ভারত থেকে ৭০৪ মিলিয়ন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৬২২ মিলিয়ন রুফিয়ার পণ্য আমদানি করেছে দেশটি।

এ বাজারে তাই প্রাণের খাদ্য ও পানীয় পণ্যের পাশাপাশি ভবিষ্যতে গ্রুপটির গৃহস্থালি ও অন্যান্য ভোক্তাপণ্যেরও সুযোগ রয়েছে। তবে দ্বীপভিত্তিক বাজার হওয়ায় পরিবহন, সরবরাহ ও স্থানীয় বিতরণ ব্যবস্থা এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বিষয়।

খাদ্য থেকে গৃহস্থালি পণ্য

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাণ-আরএফএলের বিস্তারের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হচ্ছে পণ্যের বৈচিত্র্য। প্রাণের খাদ্যপণ্য দিয়ে যে ব্র্যান্ড পরিচিতি তৈরি হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে গ্রুপটির অন্যান্য পণ্যও এখন বিদেশের বাজারে প্রবেশ করছে।

রফলের নিজস্ব তথ্যানুযায়ী, গ্রুপটির রফতানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিক পণ্য, পিভিসি পাইপ ও ফিটিংস, গৃহস্থালি সামগ্রী, টেলিভিশন, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, এয়ারকন্ডিশনার, প্রেসার কুকার, ব্লেন্ডার, রাইস কুকার, আসবাব ও গৃহসজ্জার পণ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রী। গ্রুপটি ১৪৮টির বেশি দেশে রফতানি করছে।

রফলের তথ্যানুযায়ী, ভারত তাদের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার। ভারতে গৃহস্থালি প্লাস্টিক পণ্যের রফতানি শুরু হয় ২০০৭ সালে। পরবর্তী সময়ে ভারতসহ বিভিন্ন বাজারে পণ্যের পরিসর বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফলে প্রাণ-আরএফএলের দক্ষিণ এশিয়া বিস্তার এখন শুধু খাদ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ নয়। একটি বাজারে খাদ্যপণ্যের মাধ্যমে তৈরি হওয়া ব্র্যান্ড পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে একই ভোক্তার কাছে প্লাস্টিক, গৃহস্থালি সামগ্রী, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্যসহ অন্যান্য পণ্য পৌঁছে দেয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কাছের বাজার, কিন্তু প্রতিযোগিতা বড়

দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে ভৌগোলিক নৈকট্য বাংলাদেশের জন্য যেমন সুবিধা তৈরি করে, তেমনি ভারতের মতো বড় উৎপাদক দেশের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতাও তৈরি করে। বিশেষ করে ভুটান ও নেপালের মতো বাজারে ভারতের সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী। শ্রীলংকা ও মালদ্বীপেও চীন, ভারত ও অন্যান্য দেশের সরবরাহকারীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়।

তবে প্রাণ-আরএফএলের কৌশল এখানে কিছুটা আলাদা। প্রবাসী জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে তৈরি ব্র্যান্ড পরিচিতি, একই ধরনের ভোগ অভ্যাস এবং বাজারভেদে পণ্যের বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় ভোক্তার কাছে অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে।

কামরুজ্জামান কামালের বক্তব্যেও সেই কৌশলটি স্পষ্ট। প্রবাসী বাংলাদেশীদের চাহিদা দিয়ে যে রফতানির শুরু, সেটি এখন আর শুধু বাংলাদেশী ভোক্তাকে ঘিরে নেই। দক্ষিণ এশিয়ার স্থানীয় ভোক্তাদের মধ্যেও বাংলাদেশের ব্র্যান্ডের জন্য জায়গা তৈরি করার চেষ্টা চলছে।

ভারতকে সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে ধরে নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপে বিস্তার এবং খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি গৃহস্থালি ও অন্যান্য পণ্যের প্রবেশ, প্রাণ-আরএফএলের আঞ্চলিক বাজার কৌশলকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যে ভারতের আধিপত্যের মধ্যেও এ বিস্তার বাংলাদেশের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য আঞ্চলিক ভোক্তা বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান তৈরির সম্ভাবনাকে সামনে আনছে।