বাংলাদেশ ও ভারত নিছক দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয়। দক্ষিণ এশিয়ার এ দুই দেশের ভৌগোলিক নৈকট্য, ঐতিহাসিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন এবং অভিন্ন স্বার্থের কারণে স্থিতিশীল সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও নিকট অতীতের তুলনায় ক্রমাগত বিস্তৃত হয়েছে। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হলো ভারত। পণ্য আমদানি-রফতানি, সীমান্ত বাণিজ্য, পরিবহন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক সংযোগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা রয়েছে। তবে বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্য ঘাটতি, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, সীমান্ত অবকাঠামো এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের মতো কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে আরো ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই করা উভয় দেশের জনগণ এবং তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক বৈদেশিক বাণিজ্যের সফলতা ও টেকসই ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্ক প্রখ্যাত ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জন হ্যারি ডানিংয়ের (১৯২৭-২০০৯) ‘দ্য এক্লেক্টিক প্যারাডাইম’ যা সংক্ষেপে ‘দ্য ওএলআই ফ্রেমওয়ার্ক’ নামে পরিচিত, সেই তত্ত্বের আলোকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। ১৯৫৮ সালে হ্যারি ডানিং ‘আমেরিকান ইনভেস্টমেন্ট ইন ব্রিটিশ ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক একটি বই লিখেন। বইটি বিশ্বে পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে এবং বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারণী মহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়। বলে রাখা ভালো যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ব্রিটেনের অর্থনীতি খুবই ভঙ্গুর অবস্থায় উপনীত হয়। মূলত যুদ্ধবিধ্বস্ত ব্রিটেনে অর্থনৈতিক মন্দা চরম আকার ধারণ করে। একদিকে যুদ্ধব্যয় মিটিয়ে তাদের কোষাগার শূন্য হয়ে পড়ে, অন্যদিকে ব্রিটিশ রাজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান অঞ্চল ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীনতা লাভ করায় তাদের রাজস্ব আহরণ সংকুচিত হয়ে পড়ে। ব্রিটেনে বেকারত্ব বেড়ে যায়, দারিদ্র্য বাড়ে, বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ে, ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ড স্টার্লিং তাদের মূল্যমান ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়ে আন্তর্জাতিক একক মুদ্রা হিসেবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ব্রিটেনে ধীরে ধীরে মার্কিন বিনিয়োগের পরিধি বাড়তে থাকে। আমেরিকানরা সে সময়ে বেশির ভাগ বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে ম্যানুফ্যাকচারিং তথা উৎপাদনশীল শিল্পগুলোকে বেছে নেয়।

অর্থনীতিবিদ হ্যারি ডানিং সে সময়কার ব্রিটিশ অর্থনীতিতে ব্যাপক মার্কিন বিনিয়োগের সফলতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গবেষণা করেন এবং এটা তার বইতে বিস্তারিত উল্লেখ করেন। ব্রিটেনে মার্কিন বিনিয়োগের সফলতার পেছনে হ্যারি ডানিং মূলত তিনটি কারণ উল্লেখ করেন। প্রথমটি, মালিকানা সুবিধা, দুইয়ে অবস্থানগত সুবিধা এবং তিনে অভ্যন্তরীণকরণ সুবিধা। কারণগুলোর মধ্যে অবস্থানগত সুবিধা ব্রিটেনের প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক। ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র আটলান্টিক মহাসাগরের এপার-ওপারে অবস্থিত দুটি ভৌগোলিক অঞ্চল এবং তাদের মাঝে বহু সমুদ্রবন্দরের সংযোগ রয়েছে। তুলনামূলক কম খরুচে হওয়ায় দুটি দেশের বিনিয়োগকারীরা খুব সহজে তাদের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী এবং তার কাঁচামাল আমদানি-রফতানি করতে পারতেন।

ব্রিটিশ নীতিনির্ধারকরা তাদের স্থানীয় বাজারে বিদেশী বিনিয়োগ সহজীকরণের লক্ষ্যে মুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়ার মাধ্যমে মালিকানা সুবিধা দেয়। যেকোনো বিদেশী বিনিয়োগে বিদেশীদের মালিকানা দেয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগের ওপর তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়। মার্কিন বিনিয়োগকারীরা ব্রিটেনে বিনিয়োগ করলেও শিল্প, উৎপাদন, মুনাফা স্থানান্তর সবকিছুতে নিজস্ব মালিকানা থাকায় নির্বিঘ্নে সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন এবং নতুন নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত হন। অভ্যন্তরীণকরণ সুবিধাটি মার্কিনরা কিছুটা আপনাআপনি পেয়ে যায়। যেহেতু মার্কিনদের সঙ্গে ব্রিটিশ জনগোষ্ঠীর নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তাই ব্রিটেনে বিনিয়োগ করতে এসে তারা ব্রিটেনের সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্ম, আচার অনুষ্ঠানে অনেকটাই সামঞ্জস্য দেখতে পায়। জীবনাচার ও মূল্যবোধে মিল থাকায় তাদের নতুন করে তেমন কিছু শিখতেও হয়নি, আবার তেমন কিছু ভুলে যাওয়ারও দরকার পড়েনি। জন হ্যারি ডানিংয়ের মতে, এমন তিনটি সুনির্দিষ্ট কারণে ব্রিটেনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মার্কিন বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্পর্ক ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং তার টেকসই সফলতা ‘ওএলআই ফ্রেমওয়ার্ক’ দিয়ে বিশ্লেষণ করলে বুঝতে পারা যাবে, পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় এখানে ভারতীয় বিনিয়োগ অনেক ক্ষেত্রেই সাশ্রয়ী এবং লাভজনক হতে পারে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ভারত প্রথম সারির দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। স্বাধীনতার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠতে শুরু করে। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের তিন দিক ভারতের বিভিন্ন রাজ্য দ্বারা বেষ্টিত হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে পণ্য পরিবহনের

সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও মিজোরামের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে স্থলবন্দর ও সীমান্ত হাট চালুর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পেয়েছে। বেনাপোল-পেট্রাপোল, আখাউড়া-আগরতলা, বুড়িমারী-চ্যাংড়াবান্ধা এবং অন্যান্য সীমান্তপথ দুই দেশের বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশ ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করে। তুলা, সুতা, কাপড়, যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য, রাসায়নিক দ্রব্য, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, যানবাহন ও বিভিন্ন ধরনের ভোগ্যপণ্য ভারতের প্রধান রফতানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য ভারতীয় তুলা ও সুতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে বাংলাদেশ ভারতীয় বাজারে তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, মাছ, প্লাস্টিক পণ্য, হোম টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য এবং বিভিন্ন হালকা প্রকৌশল পণ্য রফতানি করে। তবে বাংলাদেশের রফতানির তুলনায় ভারত থেকে আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের একটি বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ভারতের বিশাল জনসংখ্যা ও ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণী বাংলাদেশের রফতানিকারকদের জন্য একটি বড় বাজার তৈরি করেছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের জন্য ভারত একটি সম্ভাবনাময় বাজার। বিশেষ করে বাংলাদেশের কাছাকাছি ভারতীয় রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশী পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলো বাংলাদেশের মাধ্যমে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সহজে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে। এ কারণে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সংযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্কের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা। বাংলাদেশ ভারত থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করে, তার তুলনায় ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের রফতানি অনেক কম। ফলে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ ঘাটতির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। বাংলাদেশের শিল্পের জন্য ভারতের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরতা, ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, বাংলাদেশের সীমিত রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্য এবং ভারতীয় বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধা উল্লেখযোগ্য। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশকে রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে এবং ভারতীয় বাজারে উচ্চ মূল্যের ও মূল্যসংযোজিত পণ্য রফতানি করতে হবে। তাই দুই দেশের মধ্যে কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, ডিজিটাল বাণিজ্য ব্যবস্থা, পারস্পরিক মান স্বীকৃতি এবং সহজীকৃত বাণিজ্য প্রক্রিয়া চালু করা প্রয়োজন। এতে সীমান্তে পণ্য পরিবহনের সময় কমবে এবং ব্যবসায়ীদের খরচও হ্রাস পাবে। বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের বড় অংশ স্থলপথে পরিচালিত হয়। তাই সীমান্তবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে সীমান্তে যানজট, পণ্য পরীক্ষায় দীর্ঘসূত্রতা, গুদাম সুবিধার সীমাবদ্ধতা এবং কাস্টমস প্রক্রিয়ার কারণে পণ্য পরিবহনে সময় বেশি লাগে।

দুই দেশ যদি আধুনিক স্থলবন্দর, সমন্বিত চেকপোস্ট, উন্নত সড়ক ও রেলযোগাযোগ এবং ডিজিটাল কাস্টমস ব্যবস্থা আরো সম্প্রসারণ করতে পারে, তাহলে বাণিজ্যের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে নৌপথ ও রেলপথের ব্যবহার বাড়ানো হলে পরিবহন ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আসবে। বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগের উন্নয়ন শুধু দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নয়, নেপাল, ভুটান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগও তৈরি করতে পারে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য সমুদ্রবন্দরের সুবিধা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরাও ভারতের বিভিন্ন পরিবহন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন। এছাড়া দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি, যৌথ উদ্যোগ, শিল্প বিনিয়োগ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে সহযোগিতা বাণিজ্য সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করতে পারে। বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ এবং ভারতের বাজারে বাংলাদেশী বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পেলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর হবে।

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্ককে আরো ভারসাম্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ করতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। প্রথমত, বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের জন্য আরো সহজ ও কার্যকর বাজার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, সীমান্তবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নত করতে হবে। চতুর্থত, কাস্টমস ও বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া ডিজিটাল ও দ্রুততর করতে হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং বাণিজ্য মেলা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্যিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা উচিত। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সীমান্ত বাণিজ্যে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো দরকার।

বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভৌগোলিক নৈকট্য, বিশাল বাজার, উন্নত যোগাযোগের সম্ভাবনা এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক প্রয়োজন দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে বাণিজ্য ঘাটতি, অশুল্ক বাধা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বাজার প্রবেশাধিকারের সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ব্রিটেনে মার্কিন বিনিয়োগের মতো বাংলাদেশেও বিশাল ভারতীয় বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রস্তুত হতে পারে। সেক্ষেত্রে জন হ্যারি ডানিংয়ের ‘দ্য এক্লেক্ট্রিক প্যারাডাইম’ তথা ‘দ্য ওএলআই ফ্রেমওয়ার্ক’ বাংলাদেশ-ভারত বিনিয়োগ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সফল সংস্করণ হতে পারে।

লেখক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক এবং চেয়ারম্যান