ওয়ালটন কমার্শিয়াল এসি কোন ধরনের স্থাপনায় ব্যবহৃত হয়? এর প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে বলবেন।

ওয়ালটন কমার্শিয়াল সেগমেন্টে রয়েছে ভিআরএফ, চিলার ও লাইট কমার্শিয়াল এসি। এগুলোর মাধ্যমে উঁচু বাণিজ্যিক ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সে সেন্ট্রাল এয়ারকন্ডিশনার ডিজাইন করা যায়। কমার্শিয়াল সেগমেন্টের এসিতে ব্যবহার করা হচ্ছে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ইনভার্টার টেকনোলজির কম্প্রেসর, যার মাধ্যমে বিদ্যুৎ খরচ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় করা যায়।

প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনী শক্তির দারুণ সমন্বয় করা হয়েছে ওয়ালটন কমার্শিয়াল এসি সেগমেন্টে। গ্রাহকের চাহিদার কথা মাথার রেখে ভিআরএফ এসিতে যুক্ত করা হচ্ছে সেন্ট্রাল কন্ট্রোলার, যার দ্বারা একসঙ্গে ৩২০টি ইনডোর, ১৫টি আউটডোর ইউনিট অপারেট করা যায়। আরো আছে রিমোট মনিটরিং ডিভাইস, যার দ্বারা বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে আপনি আপনার ভিআরএফ সিস্টেম অপারেট ও মনিটর করতে পারবেন।

এছাড়া ভিআরএফে রয়েছে লিকুইড কুলড পিসিবি, ১০ স্টেজ অয়েল রিটার্ন টেকনোলজি, ইভিআই টেকনোলজি সংবলিত স্ক্রল কম্প্রেসর, সেকেন্ড লেভেল সাবকুলিং, ডুয়াল কম্প্রেসর, অটোমেটিক ডাস্ট রিমুভাল টেকনোলজি, সেলফ ডায়াগনোসিস সিস্টেম, ২ হাজার ঘন্টা সল্ট স্প্রে সাস্টেন করার উপযোগী স্পেশাল ফিন। এছাড়া এয়ার কুলড ইনভার্টার চিলারে রয়েছে মডিউল করার সুবিধা, ইনভার্টার স্ক্রল কম্প্রেসর, ভি শেপড কনডেনসার, ইনভার্টার ড্রিভেন ওয়াটার পাম্প, স্মার্ট লোড শেয়ারিং টেকনোলজি এবং ডুয়াল কুলিং সার্কিট, হাই এফিসিয়েন্ট প্লেট হিট এক্সচেঞ্জার। কেমিক্যাল ও হাইলি করোসিভ জোন, সি বেসড এরিয়া, জাহাজের জন্য রয়েছে স্পেশাল অ্যান্টি-করোসিভ টেকনোলজির কমার্শিয়াল এসি।

ওয়ালটন কমার্শিয়াল এসি ইউনিটে ব্যবহার হচ্ছে ইকো-ফ্রেন্ডলি রেফ্রিজারেন্ট (R32 বা R410a)।

বৃহৎ স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠানে ওয়ালটনের কমার্শিয়াল এসি ব্যবহারে কী ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়?

ওয়ালটনের কমার্শিয়াল এসি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে অধিক ব্যবহারের উপযোগী করে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান, হোটেল, হাসপাতাল, শপিং মল কিংবা অফিস বিল্ডিংয়ে ব্যবহারে এটি উপযুক্ত। ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রসেস কুলিংয়ের জন্য আমাদের রয়েছে এয়ার কুলড চিলার।

বিদ্যুৎ খরচ নিয়ে সবারই একটা ভাবনা থাকে। আপনাদের কমার্শিয়াল এসি এক্ষেত্রে গ্রাহককে কতটা আশ্বস্ত করতে পারছে?

ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ওয়ালটন কমার্শিয়াল এসিতে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। এআই নির্ভর কন্ট্রোলিং থাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে এবং দূর থেকে এসি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। গ্রাহকের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এ ধরনের ফিচারসংবলিত কমার্শিয়াল এসি ডেভেলপ করা হয়েছে।

ওয়ালটনের এসি উৎপাদনে দেশীয় প্রযুক্তি ও উপকরণ কতটা ব্যবহৃত হয়?

ওয়ালটন ৯০ শতাংশেরও বেশি যন্ত্রাংশ দেশে তৈরি করে যার মধ্যে রয়েছে হিট এক্সচেঞ্জিং কম্পোনেন্টস (ইভাপোরেটর, কনডেন্সার), ব্লোয়ার, ইনজেক্টশন, থার্মোফোমিং এক্সট্রুশন প্রসেস সহ হার্ডওয়্যার ডিজাইন এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট। এছাড়া সব ধরনের মেটাল পার্টস—কপার, ব্রাস পার্টস এখানে প্রসেসিং করা হয়। ইনজেকশন, কম্প্রেশন, থার্মফর্মিং, এক্সট্রুশন প্রসেসসহ নানাবিধ মেকানিক্যাল প্রসেস এখানেই করা হয়। কন্ট্রোল পার্টের জন্য হার্ডওয়্যার ডিজাইন অ্যান্ড সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, কুলিং সিস্টেম এবং কন্ট্রোল পার্টের সিংক্রোনাইজেশনের জন্য অপারেশনাল লজিক ডেভেলপমেন্ট আমাদের প্রকৌশলীরাই করে থাকেন। বিভিন্ন প্রডাক্টে ব্যবহৃত সব ধরনের পাওয়ার এবং সিগন্যাল কেবল আমাদের নিজেদের ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত। আমাদের প্রত্যেক কমার্শিয়াল এসি সেগমেন্টে রয়েছে অনেক সেফটি ফিচার, যেমন ওভার ভোল্টেজ প্রটেকশন, আন্ডার ভোল্টেজ প্রটেকশন, ওভার কারেন্ট প্রটেকশন, আন্ডার কারেন্ট প্রটেকশন, সার্জ ভোল্টেজ প্রটেকশন, হাই ও লো প্রেসার প্রটেকশন, কম্প্রেসর এবং মোটরের থার্মাল প্রটেকশন, ওভারলোড প্রটেকশন, আইপিএম টেম্পারেচার ইনক্রিজ প্রটেকশন, এন্টিফ্রিজ প্রটেকশনসহ আরো অসংখ্য প্রটেকশন। আমরা ইন্সুলেশন ক্লাস B, F-এর মোটর ব্যবহার করি এবং এগুলোর আইপি রেটিং ৪৪। সব ধরনের পিসিবিতে রয়েছে কনফর্মাল কোটিং। কাঁচামাল আমদানি থেকে শুরু করে ফিনিশড গুডে কনভার্ট হওয়ার প্রসেসে আমরা আন্তর্জাতিক মানের কোয়ালিটি কন্ট্রোল প্রসেস যেমন ইনকামিং কোয়ালিটি কন্ট্রোল, ইন প্রসেস কোয়ালিটি কন্ট্রোল, অনলাইন পারফরম্যান্স টেস্ট, ইলেকট্রিক্যাল সেফটি টেস্ট এবং আউটগোয়িং কোয়ালিটি কন্ট্রোল অনুসরণ করি।

insert

আপনাদের এসির প্রযুক্তি ও বিভিন্ন উপাদান কতটা পরিবেশবান্ধব?

পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট যেমন: আর৩২, আর২৯০ (রেসিডেন্সিয়াল সেগমেন্টে শুধুমাত্র) ব্যবহার ও কম কার্বন নিঃসরণ নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।

আমাদের সব এসি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড (আইএসও, সিই, বিএসটিআই) অনুযায়ী টেস্টেড ও নিরাপদ ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত। আমাদের রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের অনেক এয়ার এন্থাল্পি মেথড ক্যালরিমার্টার ল্যাব ও রিলিয়েবিলিটি ল্যাব; আরো আছে নিজস্ব পেটেন্টেড ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক।

ওয়ালটনের কমার্শিয়াল এসির বিক্রয়োত্তর সেবা ও ওয়ারেন্টি কাভারেজ কেমন?

ওয়ালটনের রয়েছে দেশব্যাপী বিস্তৃত বিক্রয়োত্তর সেবা নেটওয়ার্ক। কমার্শিয়াল এসির ইনস্টলেশন, সার্ভিসের জন্য আমাদের রয়েছে স্কিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং টিম। কাস্টমারের রিকয়ারমেন্টস সঠিকভাবে নিরূপণ করে বেস্ট সলিউশন দেয়ার জন্য রয়েছে স্পেশাল ডিজাইন টিম। পাশাপাশি শক্তিশালী রিসার্চ ও ইনোভেশন টিম রয়েছে। শক্তিশালী এ ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের সমন্বয়ে আমরা আমাদের কাস্টমারকে সর্বোচ্চ সেবা দিই। এছাড়া ২৪/৭ হটলাইন সাপোর্ট দেয়া হয়।

কম্প্রেসরের ওপর ৫-১২ বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশের ওপর এক-পাঁচ বছর পর্যন্ত কাভারেজ দেয়া হয়।

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বাজারে ওয়ালটনের কমার্শিয়াল এসির অবস্থান কেমন? আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

বাংলাদেশে ওয়ালটন এরই মধ্যে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে আমরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ এবং সিঙ্গাপুরে কমার্শিয়াল এসি রফতানি করছি। ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও উত্তর আমেরিকার বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা রয়েছে।

আমরা এরই মধ্যে বিএসটিআই ও সিই মার্কড অর্জন করেছি কমার্শিয়াল সেগমেন্টের এসির জন্য। এছাড়া, প্রডাক্ট সেগমেন্ট ও রেঞ্জ বাড়ানোর কাজ করছি, যেমন বড় ক্যাপাসিটির ইনভার্টার টাইপ ওয়াটার কুলড চিলার (স্ক্রু টাইপ/সেন্ট্রিফিউগাল টাইপ), হাই এফিসিয়েন্ট ইনভার্টার টাইপ এয়ার কুলড চিলার, এয়ার হ্যান্ডলিং ইউনিট, ৪৮ এইচপি পর্যন্ত ভিআরএফ ইউনিট, প্রিসিশন এয়ারকন্ডিশনার ইত্যাদি। কোল্ড রুম, ক্লিন রুমের কমপ্লিট ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্টের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। প্রত্যেকটা সেগমেন্টে নতুন ইনোভেশনের পাশাপাশি সব ধরনের গ্লোবাল সার্টিফিকেট অর্জন এবং দেশের বাজারে সব ধরনের সেন্ট্রাল এয়ারকন্ডিশনারের চাহিদা পূরণ এবং রফতানিমুখী বাজারে পদার্পণ আমাদের লক্ষ্য।

কমার্শিয়াল এসি তৈরি ও বিপণনে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন আছে কিনা।

নিশ্চয়ই। কমার্শিয়াল এসি শিল্পে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।