বাংলাদেশে আপনারা প্রথম এসি নিয়ে আসেন কত সালে?

ওয়ালটন দেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ এয়ারকন্ডিশনার উৎপাদন, বিপণন ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে অত্যাধুনিক কারখানায় ২০১১ সালে এয়ারকন্ডিশনার উৎপাদন শুরু করে ওয়ালটন। গাজীপুরের চন্দ্রায় অবস্থিত ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসিতে নিজস্ব প্রযুক্তিতে এসি উৎপাদন শুরু হয়, যা পরে স্মার্ট ও ইনভার্টার প্রযুক্তিতে উন্নীত হয়েছে। সম্প্রতি আমরা বিশ্বের সর্বোচ্চ ফিচারসমৃদ্ধ এসি বাজারে ছেড়েছি।

রেসিডেন্সিয়াল এসির পাশাপাশি লাইট-কমার্শিয়াল ও কমার্শিয়াল এসি, ভিআরএফ এবং চিলার উৎপাদন করছে ওয়ালটন। মাঝারি ও বৃহৎ স্থাপনায় এসব এসি ব্যবহার হচ্ছে। রেসিডেন্সিয়াল এসির মতো ওয়ালটনের ভিআরএফ এসি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে।

দেশে এসি বাজারের আমদানিনির্ভরতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন সম্প্রসারণের গতি নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ জানতে চাই।

দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে আমদানি করা এসির অংশ বাজারে ১০ শতাংশ বা তারও কম। মোট চাহিদার ৯০ শতাংশ পর্যন্ত এসি এখন দেশে উৎপাদিত বা সংযোজিত হয়, যা কয়েক বছর ধরে দ্রুত বাড়ছে। এই ১০ শতাংশ এসি মূলত সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কেনাকাটায় স্থানীয় শিল্প-পরিপন্থী শর্তের কারণে আমদানি করতে হচ্ছে। সরকারি কেনাকাটায় স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত পণ্য প্রাধান্য পেলে দেশে উৎপাদিত বা সংযোজিত পণ্য দিয়ে এয়ারকন্ডিশনারের সম্পূর্ণ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

সার্বিকভাবে আমার দৃষ্টিকোণ থেকে স্থানীয় উৎপাদন গতিধারা সন্তোষজনক। দেশে উৎপাদন কয়েক বছর ধরেই উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে। গ্রাহকরা এখন দেশে তৈরি এসির দিকে ঝুঁকছেন, ফলে আমদানির অংশ কমেছে। দেশে উৎপাদন সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের ক্ষেত্রে সরকারি নীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমনিতে দেশে উৎপাদন সম্প্রসারণের গতিটি ভালো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আরোপিত অতিরিক্ত ভ্যাট স্থানীয় উৎপাদন খাতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এটি একদিকে ব্যয়ের চাপ বাড়ায় এবং অনিয়ন্ত্রিত বাজারে প্রতিযোগিতায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া এ খাতে সরকারি যে নীতিসহায়তা ছিল, তা এখন প্রায় নেই বললেই চলে। যেমন বর্তমানে তৈরীকৃত ভিআরএফ আমদানিতে মাত্র ১ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে কাঁচামাল আমদানিতে স্থানীয় উৎপাদনকারীদের ১৫ শতাংশেরও বেশি শুল্ক এবং আরো ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদান করতে হচ্ছে। ফলে এ খাতে বিনিয়োগকারীদের বিশাল বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ফলে কর্মসংস্থান ও নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসি আমদানিতে নীতিমালা যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।

6

ছবি: নিজস্ব আলোকচিত্রী

নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উদ্ভাবন গোটা বিশ্বেই এসির বাজার সম্প্রসারণে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। আপনাদের এসিতে সর্বশেষ কোন প্রযুক্তিটি সংযোজন বা উন্নয়ন হয়েছে?

ওয়ালটন বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠান, যার একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন টিম রয়েছে। যেখানে দেশী-বিদেশী প্রকৌশলীরা বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিনিয়ত গবেষণা চালাচ্ছেন। সেই সঙ্গে তারা প্রডাক্টের ইনোভেশন নিয়ে কাজ করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে একমাত্র ওয়ালটন এসিতেই রয়েছে সর্বোচ্চসংখ্যক ফিচার ও উন্নত প্রযুক্তি। ওয়ালটন এসিতে সর্বশেষ সংযোজিত অন্যতম প্রযুক্তি হলো স্মার্ট এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তি। এছাড়া ওয়ালটন এসির অন্যান্য অসংখ্য প্রযুক্তি ও ফিচার রয়েছে। যেমন ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তি, এআই ডক্টর ফিচার, প্লাজমা প্রযুক্তি, আইওটি-বেজড স্মার্ট কন্ট্রোল সিস্টেম, রিমোট ফাইন্ডার, ব্লুটুথ কন্ট্রোল, অফলাইন ভয়েস কন্ট্রোল, ইউভি কেয়ার, মরিচা প্রতিরোধক কোটেক টেকনোলজি, ফ্রস্ট ক্লিন, থ্রি-ইন-ওয়ান কনভার্টিবল টেকনোলজিসহ ইন্টিগ্রেটেড ৫-ইঞ্চির কালার টিএফটি ডিসপ্লে, সোলার হাই-ব্রিড প্রযুক্তি ইত্যাদি।

এ মুহূর্তে আপনাদের এসি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের জন্য কোনো অফার চলমান আছে কি?

প্রতি বছরই গরম ও ঈদ উপলক্ষে এসির গ্রাহকদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকে ওয়ালটন। চলতি বছরও এর ব্যতিক্রম নয়। ঈদ উপলক্ষে ওয়ালটন নিয়ে এসেছে বিশেষ ডিজিটাল ক্যাম্পেইন ‘ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন–২৩’। চলমান এ অফারে সম্মানিত গ্রাহকরা এসি কিনে পাচ্ছেন আকর্ষণীয় সুবিধা, যার মধ্যে রয়েছে একটি এসি কিনলে আরেকটি সম্পূর্ণ ফ্রি পাওয়ার সুযোগ এবং নিশ্চিত উপহার। এরই মধ্যে এ অফারের আওতায় চারজন গ্রাহক একটি এসি কিনে আরেকটি এসি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পেয়েছেন। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ করা যাচ্ছে।

এছাড়া পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ সুবিধা। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে ফ্রি ইনস্টলেশনের পাশাপাশি ফ্রি এঙ্গেল অফারও দেয়া হচ্ছে, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যয় সাশ্রয়ী সমাধান হিসেবে বিবেচিত।

অন্যদিকে, ওয়ালটন এক্সচেঞ্জ অফারের আওতায় নির্দিষ্ট কিছু মডেলে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেয়া হচ্ছে। পুরনো এসির পরিবর্তে নতুন এসি কেনার সুযোগ থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে এ অফারও বেশ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

এবার অনলাইন ক্রেতাদের জন্যও রয়েছে বিশেষ সুবিধা। ওয়ালটনের নিজস্ব অনলাইন প্লাটফর্ম ওয়ালটন প্লাজা থেকে এসি ক্রয়ে থাকছে বিশেষ ডিসকাউন্ট অফার। ঘরে বসেই সহজে অর্ডার করার পাশাপাশি গ্রাহকরা উপভোগ করতে পারবেন অতিরিক্ত মূল্যছাড়ের সুবিধা।

বিশ্ববাজারে ওয়ালটন এসি রফতানি সম্পর্কে বলুন।

বাংলাদেশে তৈরি ওয়ালটন এসির চাহিদা বিশ্বজুড়ে রয়েছে। বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে আমরা পণ্য রফতানি করি। বাংলাদেশে উৎপাদিত ওয়ালটনের ভিআরএফ ও চিলার এসি সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালেও ওয়ালটনের এসি স্থাপন করা হয়েছে। এসির বিপুল বৈশ্বিক বাজার টার্গেট করে আমরা ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছি। গ্লোবাল এসি মার্কেটে ওয়ালটনের উপস্থিতি বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের রফতানি আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বৃদ্ধিতে আমরা কাজ করছি। ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় ওয়ালটন পণ্যের রফতানি বৃদ্ধিতে আমরা ব্যাপকভাবে কাজ করছি। তবে এ রফতানি আরো বাড়ানোর জন্য সরকারি নীতিসহায়তা প্রয়োজন।

এসির নিরাপদ ব্যবহার ও বিস্ফোরণ এড়াতে ক্রেতাদের জন্য কোনো পরামর্শ?

ইনডোর এসি বিস্ফোরণের যেসব খবর শোনা যায়, তার বেশির ভাগই সম্পূর্ণ সঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাহ্যিক উৎস থেকে আগুন লাগার কারণেই এসি পুড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, যা সরাসরি এসির ত্রুটি নয়, বরং পরিবেশগত বা বৈদ্যুতিক সমস্যার ফল।

তবে নিরাপদে এসি ব্যবহার নিশ্চিত করতে অবশ্যই কিছু বিষয় মেনে চলা উচিত। যেমন সঠিক মানের কেবল, সকেট ও সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করতে হবে এবং বাসায় যথাযথ আর্থিং ব্যবস্থা থাকতে হবে। দীর্ঘদিন এসি বন্ধ থাকলে পুনরায় চালুর আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেয়া উচিত। এসির কক্ষে দাহ্য পদার্থ বা গ্যাস সিলিন্ডার রাখা যাবে না। নিয়মিত ফিল্টার নেট পরিষ্কার করতে হবে এবং নির্ধারিত সময় অন্তর অন্তর মাস্টার সার্ভিসিং করাতে হবে। সচেতন ব্যবহারই পারে এসিকে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী রাখতে।