বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ‘আইকন’ ক্রিকেটার বিলুপ্ত হয়েছে, সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়া হয়েছে ‘এ-প্লাস’ ক্যাটাগরিকে। বাড়ানো হয়েছে এ ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকও। নিজ নিজ দল ঠিক করে নেয়ার স্বাধীনতাও দেয়া হয়েছিল শীর্ষ গ্রেডের সাত ক্রিকেটারকে।
গত আসরে সর্বোচ্চ গ্রেডের (আইকন) ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ছিল ৩৫ লাখ টাকা। বিদেশী ক্রিকেটারদের সঙ্গে যা ছিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এ নিয়ে সমালোচনা হয় বেশ। ভারসাম্য আনতেই এবার শীর্ষ গ্রেডের ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত।
“বিশ্বের সব লিগেই শীর্ষ বিদেশী ক্রিকেটাররা যে পরিমাণ অর্থ পান, স্থানীয় শীর্ষ ক্রিকেটাররাও একই রকম পেয়ে থাকেন। এটা বিবেচনায় নিয়েই ‘এ-প্লাস’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি করা হয়েছে”— ওই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় বলছিলেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক।
এবারের আয়োজনে সর্বোচ্চ গ্রেডে থাকা সাত ক্রিকেটার হলেন— সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল খান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমান। একই ক্যাটাগরিতে থাকলেও পছন্দমতো দল বেছে নেয়ার সুযোগ থাকায় দরকষাকষির পর ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকেও কিছুটা তারতম্য থাকছে।
সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাচ্ছেন সাকিব, অংকটা ৫৫ লাখ টাকা। মাশরাফি, মুশফিক, তামিম ও মাহমুদউল্লাহ পাচ্ছেন সমান— ৫০ লাখ টাকা করে। ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে সর্বনিম্ন পারিশ্রমিক পাচ্ছেন সাব্বির ও সৌম্য— ৪০ লাখ টাকা করে।
এ নিয়ে গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব বলেছেন, ‘ক্রিকেটারদেরই দাবি ছিল— মূল্যবৃদ্ধির পর যদি দল বেছে নেয়ার স্বাধীনতা দেয়া হয়, তবে দরকষাকষি করে আমরা বাড়তি অর্থ পেতে পারি। ক্রিকেটারদের সে স্বাধীনতাও দেয়া হয়েছে। বাড়তি অর্থের দায়দায়িত্ব ক্রিকেটারদেরই নিতে হবে। বোর্ড শুধু বেঁধে দেয়া অংকের দায়িত্ব নেবে।’
‘এ-প্লাস’ ক্যাটাগরিতে থাকা সাত ক্রিকেটারের মধ্যে প্রথম তিন আসরের চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক মাশরাফি গত আসরের মতোই খেলবেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসে। মাশরাফির মতো পুরনো দল চিটাগং ভাইকিংসেই আছেন তামিম ইকবাল। গতবার বরিশাল বুলসকে নেতৃত্ব দেয়া মাহমুদউল্লাহ এবার খেলবেন খুলনা টাইটানসে। বরিশালে খেলবেন মুশফিকুর রহিম। রংপুর রাইডার্স ছেড়ে সাকিবের নতুন ঠিকানা ঢাকা ডায়নামাইটস। রাজশাহীতে খেলবেন সাব্বির রহমান। সৌম্য সরকারকে দেখা যাবে রংপুরে।
সাকিব বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বজুড়ে টি২০ লিগগুলোয় নিয়মিত খেলে থাকেন। সঙ্গত কারণেই বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলেন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার। এসব বিবেচনায় নিয়েই সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক দেয়া হচ্ছে সাকিবকে।
এ নিয়ে গভর্নিং কাউন্সিলের ব্যাখ্যা হচ্ছে, ‘ক্রিকেটারদের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মেরিট অনুযায়ী। সাকিব বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন টি২০ লিগ খেলে থাকেন। তার মূল্য অন্যদের চেয়ে বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলেই আমরা এটা ঠিক করেছি। সেরাকে তো সেরার মূল্য দিতেই হবে।’
সাব্বির ও সৌম্যকে তুলনামূলক কম পারিশ্রমিক দেয়ার কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, সাকিবের পরে যারা আছেন, তারা সিনিয়র ক্রিকেটার। তাদের পারিশ্রমিক একটু কম। পার্থক্য ৫ লাখ টাকা। সৌম্য ও সাব্বিরের বেলায় জাতীয় দলে খেলার সময় এবং গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও বিপিএলের মূল্য বিবেচনা করা হয়েছে।






