যানজটের শহর ঢাকায় গাড়ির গতি ঘণ্টায় সাত কিলোমিটারেরও কম। পাশাপাশি গণপরিবহনের অপ্রতুলতা ও অব্যবস্থার কারণে স্বাধীন বাহন হিসেবে দ্রুতই জনপ্রিয় হচ্ছে মোটরসাইকেল। ২০১১ সালে বাংলাদেশে বাইকের বাজারের পটপরিবর্তন শুরু। ২০১১ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে এ বাজারের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪৫ শতাংশের উপরে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে প্রবৃদ্ধি গড়ে ১৫ শতাংশ।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ জন্মের পর থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত মোট নিবন্ধিত বাইকের সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৫৭, যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ৯৬ হাজার ৪৭২। ২০১১ সাল থেকে মূলত দেশে বাইকের বাজারে উল্লম্ফন শুরু। সেই বছর ১ লাখ ১৪ হাজার ৬১৬টি বাইকের নিবন্ধন হয়েছে। এর পরের বছরও এক লাখের ওপর নিবন্ধন হয়। তবে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে এ সংখ্যা লাখের নিচে নেমে যায়। আর ২০১৫ সালে ২ লাখ ৪০ হাজারের উপরে এবং ২০১৬ সালে তিন লাখের উপরে বাইক নিবন্ধন হয়। এর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে তিন লাখের উপরেই রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে বাইকের নিবন্ধন হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫০টি। এখন পর্যন্ত ২০১৮ সালেই সবচেয়ে বেশি বাইক নিবন্ধন হয়েছে, ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৬০৩টি।

মোটরসাইকেল শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের বাজার বেশ সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ যেখানে ভিয়েতনামে প্রতি চারজনে একটি, ভারতে প্রতি ২০ জনে একটি, পাকিস্তানে প্রতি ১৭ জনে একটি মোটরসাইকেল রয়েছে। বাংলাদেশে ৯৭ জনের মধ্যে একজনের মোটরসাইকেল রয়েছে। ফলে এ বাজারের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বছরের শুরুতে বাইক বিক্রির গতি কিছুটা ধীর থাকলেও এখন আবার চাঙ্গা হয়ে উঠছে। চলতি বছর দেশে মোট সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় লাখ বাইক বিক্রির পূর্বাভাস করেছেন তারা।

বাংলাদেশে বাইকের বাজারের গতি ধীর হাওয়ার কারণ বিশ্লেষণে এসিআই মোটরস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস বণিক বার্তাকে বলেন, আগের চেয়ে মোটরসাইকেলের দাম কম হলেও এখনো অনেক বেশিই। তবে বর্তমান ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলে ২০২১ সালের মধ্যে দেশে বছরে বিক্রি ১০ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি। তাছাড়া সরকারও খাতটি নিয়ে বেশ কাজ করছে। দেশে উৎপাদনে জোর দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে হোন্ডা বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের হেড অব ফিন্যান্স অ্যান্ড কমার্শিয়াল শাহ মুহাম্মদ আশিকুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, শীত মৌসুম, বৃষ্টি, বন্যা, শস্যের দাম না পাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে বাজারে কাঙ্ক্ষিত গতি ছিল না। তবে এখন বাজারটি বেশ ভালোর দিকে যাচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের মোটরসাইকেল বাজার কাঙ্ক্ষিত হারে না বাড়ার অন্যতম কারণ হলো অর্থায়ন। ব্যাংকগুলো এখনো অর্থায়ন করছে না। তারা বাইকারদের অর্থায়নে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। অন্যদিকে ভিয়েতনামের একটি ব্যাংকেরই মোটরসাইকেল পোর্টফোলিও ২৫০ কোটি ডলারের উপরে। বাইকের নিবন্ধন প্রক্রিয়া, ফি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণেও বাইকের বাজার সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ডাটা বিডির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বাইকের বাজারে সবচেয়ে বেশি দখল উত্তরা মোটরসের। তারা ভারতের বাজাজ ব্র্যান্ডের পরিবেশক। এর পরই রয়েছে টিভিএস ব্র্যান্ড। পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে নিটল-নিলয়ের হিরো ব্র্যান্ড, দেশী ব্র্যান্ড রানার।