২০১৮ সালের ৭ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেল কেনায় ঋণ দিচ্ছে সিটি ব্যাংক। দেশে প্রথম এ ধরনের ঋণ চালু করেছে ব্যাংকটি। প্রাথমিকভাবে শুধু ঢাকায় এ ঋণ চালু করা হলেও এখন দেশের সব বিভাগীয় শহরেই মোটরসাইকেল কেনার ঋণ পাওয়া যাচ্ছে। এ বছরের মধ্যেই উপজেলা পর্যায়ে ঋণপণ্যটি পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে ব্যাংকটি। অচিরেই সিটি ব্যাংকের ১৩০টি শাখা থেকে মোটরসাইকেল কেনার ঋণ পাওয়া যাবে বলে জানান সিটি ব্যাংকের হেড অব টু হুইলার অ্যান্ড কনজিউমার ডিউরেবলস বিজনেস মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, সিটি ব্যাংকের পর ব্র্যাক ও প্রাইম ব্যাংকও টু হুইলার কেনায় ঋণ চালু করেছে। তবে আমাদের ঋণ প্রডাক্টটির ফিচারগুলো সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও গ্রাহকবান্ধব। মোটরসাইকেল কিনতে একজন গ্রাহক ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাচ্ছেন।
ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা ও শর্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, গ্রাহকদের আমরা চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, ভূমির মালিক ও পেশাজীবী—এ চার ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছি। মাসে ১৫ হাজার টাকার বেশি বেতন পান এমন যেকোনো শ্রেণীর চাকরিজীবীকে আমরা ঋণ দিচ্ছি। এক্ষেত্রে চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে সর্বনিম্ন এক বছরের। ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও ভূমির মালিকদের ক্ষেত্রে মাসিক আয় থাকতে হবে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা। ভূমির মালিক বলতে বাড়ি, ফ্ল্যাট বা জমি আছে, যা থেকে মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া পান এমন শ্রেণীর পুরুষ ও নারীকে বোঝানো হয়। ২১ থেকে ৬০ বছর বয়সী যেকোনো ব্যক্তি ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
ঋণের সুদ সম্পর্কে মোজাম্মেল হক জানান, বার্ষিক ১২ দশমিক ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেন তারা। সরল সুদে কিস্তিতে ঋণের অর্থ পরিশোধ করার সুযোগ রয়েছে। তবে ঋণের প্রসেসিং ফি বাবদ গ্রাহককে এককালীন ১ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এর বাইরে মোটরসাইকেল ঋণে কোনো ধরনের ফি নেই।
আবেদন প্রক্রিয়া ও কাগজপত্র ঠিক থাকলে তিনদিনের মধ্যেই মোটরসাইকেল কেনার ঋণ গ্রাহকের হাতে তুলে দেয়া হয় উল্লেখ করে তিনি জানান, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, ই-টিন, ছবিসহ খুব সাধারণ কিছু ডকুমেন্ট আবেদনপত্রের সঙ্গে দিতে হবে।
দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ। ১৬ কোটি মানুষের দেশে এটি খুবই কম। প্রতি ১০০ জনের মধ্যে গড়ে মাত্র দেড়জনের মোটরসাইকেল আছে। প্রতিবেশী ভারতে এ হার ১২ শতাংশেরও বেশি। পাকিস্তানে ১০০ জনের মধ্যে চারজনের মোটরসাইকেল আছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে প্রায় ছয় লাখ মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ফলে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে। মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা আশা করছি, আগামী পাঁচ বছরে প্রতি বছর ২০ লাখ মোটরসাইকেল বিক্রি হবে। বিশাল এ বাজারে গ্রাহকদের পাশে থেকে সিটি ব্যাংক ভূমিকা রাখতে চায়।
নগদ ও কিস্তি—এ দুটি মাধ্যমে বর্তমানে দেশে মোটরসাইকেল বিক্রি হয়। মোটরসাইকেল কোম্পানি বা বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কিস্তিতে টাকা পরিশোধের সুযোগ দেয়। এ পদ্ধতিকেই আমরা ব্যাংকিং কাঠামোর মধ্যে আনতে চাই।
এছাড়া আগামীতে ফ্রিজ, টিভি, ফার্নিচার, ওয়াশিং মেশিনের মতো মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেও সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।





