আহমদ ছফা প্রণীত অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাককে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণে রেখেই বলা যায় যে, ১৯৪৭-এর দেশভাগ থেকে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত মুনীর চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তিত্ব। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনেই চমকপ্রদ বাকভঙ্গিতে, প্রাণোচ্ছলতায়, দেশ-বিদেশের সাহিত্য সম্পর্কে তির্যক মন্তব্য করার ক্ষমতা, শ্লেষ ও বিদ্রূপোক্তির ক্ষমতায় সবার মনে সাড়া জাগিয়ে তুলেছিলেন। তার ওপর নাটক সম্পর্কে ছিলেন দারুণ উত্সাহী। তবে এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে একজন ব্যক্তি একটি রাষ্ট্রের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন না। কারণ একজন মানুষ শুধু নিজ শক্তিবলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন না। তার জন্য প্রয়োজন হয় ব্যক্তির পারিবারিক, সামাজিক অবস্থান, নিজের কর্মতত্পরতা, সামাজিক সম্পর্ক ও রাষ্ট্রের বাকবদলে ব্যক্তির ভূমিকা। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর সবই পরিপূর্ণভাবে কার্যকর হয়েছিল মুনীর চৌধুরীর ক্ষেত্রে। তাই ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়’— মুনীর চৌধুরীর এ উক্তি তাঁর নিজের ক্ষেত্রেই মিথ্যায় প্রতিপন্ন হয়েছে। তিনি আজো বেঁচে আছেন সব প্রেরণা কিংবা বিদ্বত্সমাজের কর্মতত্পরতায়। তাই মুনীর চৌধুরী ‘জীবিতের চেয়ে অধিক জীবিত’।

মুনীর চৌধুরীর চিন্তাস্রোত প্রবাহিত হয়েছিল দুটি ধারায়— একদিকে ছিল পিতা ও অগ্রজের (কবীর চৌধুরী) বিদ্যানুরাগ। অন্যদিকে ছিল তাঁর আপন শক্তিতে বলীয়ান হওয়ার অদম্য ইচ্ছা। পিতা আব্দুল হালিম চৌধুরীর বিদ্যানুরাগ ছিল মজ্জাগত। আরবি, ফার্সি, উর্দু, ইংরেজি ও বাংলা বইয়ের যেমন সংগ্রহ ছিল তাঁর, তেমনি ছিল আরবি-ইংরেজি ভাষায় অসাধারণ অধিকার। ইংরেজি ও বাংলা বই নিজে সংশোধন করে তবেই সন্তানদের পড়তে দিতেন মুনীর চৌধুরীর পিতা। আর অগ্রজ কবীর চৌধুরীর কাছ থেকেই পেয়েছিলেন জীবন সম্পর্কে ‘আধুনিক’ দৃষ্টিভঙ্গি। এটা ছিল মুনীর চৌধুরীর মননের একটি দিক। অন্যদিকে কথিত ‘ভালো ছাত্রের’ কোনো বৈশিষ্ট্য তাঁর ভেতরে কাজ করেনি— না ফলাফলে, না জীবনাচরণে। বিস্তর অপাঠ্য বই পড়া, সিনেমা দেখা ও অক্লান্ত তর্কে লিপ্ত থাকা ছিল তাঁর যৌবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তবে এটা ছিল তাঁর অর্জিত বা নিজস্ব জীবনের ধরন। ফলে পারিবারিক চাপেই আলীগড়ে পড়তে যেতে হয়েছিল, কিন্তু ফলটি হয়েছিল উল্টো। আলীগড়ে গিয়ে রীতিমতো বাবু হয়ে ওঠেন তিনি। পাথরের বোতাম লাগানো শেরওয়ানি পরা, চকচকে জুতা পরা, পান ও সিগারেট খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন। আড্ডা আর মার্ক্সীয় রাজনীতির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি আলীগড়ে যাপিত জীবনের ফল। এ জীবনযাপনের প্রধান কারণ ছিল পাশ্চাত্য সাহিত্যের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ও বিস্তর পঠন-পাঠন। পাশ্চাত্য এ ‘ভাবখানা’ নিয়েই অগ্রজের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি প্রবেশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইংরেজি বিভাগে ও সলিমুল্লাহ হলে— উভয় স্থানেই স্বল্পসময়ে তিনি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। এর মূলে ছিল আলীগড়ের সেই ‘বাবু’ভাব, অপূর্ব বাগ্মিতা, সাহিত্যের রসগ্রাহিতা, পড়াশোনার ব্যাপকতা আর অগ্রজ কবীর চৌধুরীর সুখ্যাতি। অবিশ্রাম তর্কে লিপ্ত থাকা আর নিজস্ব চিন্তার স্ফূরণ প্রকাশে সর্বদাই হাতিয়ার ছিল নাটক। নাটকের প্রতি এ অদম্য আকর্ষণই তাঁকে ‘নিজস্ব’ স্থান করে দিয়েছিল।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে এসে তাঁর চিন্তার আমূল পরিবর্তনসাধন হয়। মুনীর চৌধুরী নিজের জবানিতেই তা স্বীকার করেছেন এভাবে— ‘সেই রবি গুহ, দেবপ্রসাদ, মদন বসাক, সরদার ফজলুর করিম— প্রত্যেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একেকটি উজ্জ্বল রত্ন। তাদের সংস্পর্শে এসে দেখলাম, আমার এত দিনের আভিজাত্য, চাকচিক্যময় শৌখিনতা আর চালিয়াতি দম্ভ— সব অন্তঃসারশূন্য, সব ফাঁকি। সে সময় পড়ুয়া ছাত্র হিসেবে আমার নাম হয়েছে। এদের চোখে জীবনকে গভীরভাবে উপলব্ধি করলাম।’ তাঁর এ উপলব্ধি তাঁকে ‘অন্য মুনীর চৌধুরী’ তৈরি করে, যে মুনীর চৌধুরীই অদ্যাবধি জাগ্রত। অন্য মুনীর চৌধুরী এবার অক্লান্ত তর্ক আর অবিশ্রাম সিনেমা দেখার জীবনকে যেন শাণিত করেন নতুন স্রোতে। ঢাকার সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে তাঁর ঘটে নবসংযোগ। যোগ দেন ‘প্রগতি লেখক-শিল্পী সংঘ’-এ। এ জীবনের অন্তর্মূলে কাজ করে তাঁর বোন নাদেরা বেগমের বিপ্লবী চেতনা। ফলে ছাত্রজীবনে ভাবে ও আচরণে যে একটা সর্বতোমুখী বিদ্রোহের লক্ষণ দেখা দেয়, প্রথম প্রেমের আবেগও যেন তাকে দমিত করতে পারেননি। রবীন্দ্রনাথের ‘একরাত্রি’ গল্পের নায়কই যেন মুনীর চৌধুরী। এ পর্যায়ে তিনি গল্প লেখায় মনোনিবেশও করেছিলেন। তাঁর শক্তির স্পষ্টতর ছাপ পড়েছিল ছোটগল্পে। ফলে ‘নগ্ন পা’, ‘বাবা ফেকু’ কিংবা ‘একটি তালাকের কাহিনি’ বা ‘খড়ম’ গল্পগুলোয় তিনি এমন শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েছিলেন যে, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গল্প শুনে তাঁকে ‘genius’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। শক্তিশালী গল্প লেখক হওয়ার এ সম্ভাবনাকে তিনি কাজে লাগাননি। তার প্রধান কারণ হয়তো নাটক ছিল তাঁর অস্থি-মজ্জায়, মন-মননে।

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে এসে জীবনকে ‘অন্যভাবে’ উপলব্ধি করার ফল হয় বিচিত্রভাবে। পিতা-পুত্রের ভিন্ন আদর্শের কারণে পারিবারিক অর্থ সাহায্য বন্ধ হয়ে যায়, ইংরেজি বিভাগ থেকে ‘সাধারণ’ ফল নিয়ে বের হতে হয় তাঁকে। যদিও শিক্ষকদের কাছ থেকে পেয়েছিলেন অকুণ্ঠ স্নেহ ও প্রশংসা। অন্যদিকে কমিউনিস্ট পার্টির তত্কালীন কর্মকাণ্ডে রাজনীতি সম্পর্কে তাঁর দৃঢ়প্রত্যয় কিছুটা শিথিল হতে শুরু করে। ফলে অধ্যাপনাকে তিনি পেশা হিসেবে বেছে নেন। কিন্তু রাজনীতির সংশ্লিষ্টতা সূত্রে মুনীর চৌধুরীর শুরু হয় ভিন্ন জীবন। জেলজীবনই আশ্রয় হয় তাঁর। ‘আর রাজনীতি করবেন না’— এ মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুক্তি পান তিনি। লিলি মীর্জার সঙ্গে যাপিত জীবন আরম্ভের মাধ্যমে মুনীর চৌধুরীর জীবনের গতি মোড় নেয়। অধ্যাপনাকেই পেশা হিসেবে নেন। স্থান হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু এ পর্যায়ে তাঁর কাছে ‘জীবন আর জেলখানা’ যেন একে অন্যের পরিপূরক হয়ে দাঁড়ায়। তবুও মুনীর চৌধুরী ভেঙে পড়েননি। ঢাকা জেলে থাকার সময় বিপ্লবী রণেশ দাশগুপ্তের অনুরোধে ‘কবর’ নাটক রচনা করেন। জেলে থেকেই পরীক্ষা দিয়ে বাংলা বিভাগে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। কোমরে দড়ি বেঁধে তাঁকে পরীক্ষার হলে আনা হতো এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই মৌখিক পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। এবারো ‘আর রাজনীতি করবেন না’— এ প্রতিশ্রুতিতে মুক্তি লাভ করেন। এর পরের পর্বটি ভিন্ন রকম, ঠিক যেন তাঁর নিজের রচিত ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকের সংলাপের মতো— ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে অকারণে বদলায়’-এর মতোই।

অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশে এক অবিস্মরণীয় শিক্ষক। শিক্ষকতা পেশায়, বিশেষত শ্রেণীকক্ষে পড়ানো ও ছাত্রদের উত্সাহিত করার ক্ষেত্রে মুনীর চৌধুরী বাংলাদেশে এক অদ্বিতীয় শিক্ষক। এক্ষেত্রে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তিনি নিজেই। বিস্তর পঠন-পাঠন, বাচনভঙ্গির কারণে তিনি ছিলেন এক অতুলনীয় শিক্ষক। এক্ষেত্রে মনে হয়, তিনি যেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর যোগ্য উত্তরসূরি। তাঁর পড়ানোর ভঙ্গি নোট প্রস্তুতের অন্তরায় হতো। কেননা প্রমথ চৌধুরীর নীললোহিতের মতো তিনিও শুধু মুখে কথা বলতেন না, ‘তাঁর হাত-পা, বুক, গলা সব একত্র হয়ে একসঙ্গে বলত।’ তিনি ছাত্র-শিক্ষকের কোনো কৃত্রিম সম্পর্কের বেড়াজাল তৈরি করতেন না। তাই শ্রেণীকক্ষের বাইরে ‘স্যার’ বলার চেয়ে ‘মুনীরভাই’ সম্ভোধন ছিল তাঁর প্রিয়। তাঁরই অনেক প্রিয় ছাত্র আজো মুনীর চৌধুরীর পোশাকে ও বাচনভঙ্গিতে নিজেকে অবিরাম অনন্যরূপে শ্রেণীকক্ষে ছাত্রদের সামনে উপস্থাপন করেন।

মুনীর চৌধুরী ছিলেন নাটকপ্রাণ এক ব্যক্তিত্ব। ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ ও ‘টিঠি’— এ দুটি মৌলিক নাটক ছাড়াও তিনি রচনা করেছেন ‘কবর’, ‘দণ্ডকারণ্য’, ‘পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য’সহ প্রভৃতি নাটক। কিন্তু তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল শেক্সপিয়ারের অনুবাদকর্ম। সেখানে তিনি অনন্য। তাই তো তিনি চেয়েছিলেন যদি নাটক লিখে জীবিকা অর্জন করা যায় তবে অধ্যাপনা ছেড়ে দিতে।

মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বড় মাপের ভাষা বিজ্ঞানী। বিশ্ববিখ্যাত ভাষা বিজ্ঞানী চার্লস ফার্গুসনসহযোগে তাঁর লিখিত একটি প্রবন্ধ বিশ্বে আলোড়ন তৈরি করেছিল। সাহিত্য, সংখ্যাতত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব-বিষয়ক লেখাগুলো ভাষা বিজ্ঞানে তাঁর জ্ঞান, পাণ্ডিত্য ও অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ। তিনি যে ব্যাকরণ বইটি রচনা করেন, তা অদ্যাবধি বাংলা ব্যাকরণের ‘বাইবেল’ বলে খ্যাত।

মুনীর চৌধুরীর অনন্য অবদান বাংলা বর্ণলিপির সংস্কার ও ‘আধুনিক’ টাইপ রাইটার। টাইপ রাইটারের জন্য তাঁর উদ্ভাবিত কিবোর্ড ‘মুনীর অপটিমা’ নামে খ্যাত। এটা তাঁর মৌলিক আবিষ্কার। এ কাজে যেন আমরা এক অন্য মুনীর চৌধুরীকে পাই। তাছাড়া তিনি ‘মীর মানস’, ‘তুলনামূলক সমালোচনা’, ‘বাংলা গদ্যরীতি’সহ নানাবিধ প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন। এসব প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি আমাদের মধ্যে গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন বৈদগ্ধ্যপূর্ণ সাহিত্য-সমালোচনার অত্যুত্কৃষ্ট দৃষ্টান্ত স্থাপন করে অনুরূপ অনুশীলন-অনুসন্ধানে ব্রতী হওয়ার জন্য আমাদের অনুপ্রাণিত করেন।

তার পরও ভাষা আন্দোলন-পরবর্তী তাঁর কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উপস্থাপিত হয়। বিশেষ করে দাউদ পুরস্কার লাভ, পাক-সরকারের বিদেশ সফরের তালিকায় তাঁর নাম থাকা কিংবা ‘সিতারা-ই ইমতিয়াজ’ খেতাবের জন্য তাঁর নাম ঘোষণা করা। যদিও তিনি ‘সিতারা-ই ইমতিয়াজ’ খেতাব বর্জন করেছিলেন। এবং পাক-সরকারের রবীন্দ্র-বর্জনের ঘোষণার প্রতিবাদে প্রতিবাদলিপি তৈরি ও প্রথম স্বাক্ষর প্রদানকারী ব্যক্তি ছিলেন মুনীর চৌধুরী। তবুও এসব সমালোচনায় মর্মাহত হয়ে তিনি নিজেও নাকি বলেছিলেন, ‘জীবনের মোহের কাছে আমি পরাজিত।’ কিন্তু তাঁর এ মোহ যশ, অর্থ, সম্মান ও প্রতিপত্তির মোহ নয়— নিরাপত্তার মোহ, ব্যক্তিগত জীবনযাপনের মোহ, শান্তির নীড় রচনার মোহ। কিন্তু সেই ‘ব্যক্তিগত নিরাপত্তা’ ও ‘শান্তির নীড়’-এরও সংস্থান হয়নি। তাঁর ভেতরের জাগ্রতবোধই তাঁকে আপন চেতনায় রেখেছিল দীপ্ত। সেই জাগ্রত বোধও ছিল সবার ভয়ের বড় কারণ, বিশেষত পাক-সরকারের। তাই তো তাঁকে জীবন দিতে হলো। তাঁর জীবনদানের পরও অনেকে বলেছে, ‘মুনীর চৌধুরীকে ওরা মারল কেন?’ এ জিজ্ঞাসার সবচেয়ে মর্মগ্রাহী-বস্তুনিষ্ট উত্তর দিয়েছিলেন তাঁর সবচেয়ে পরমজন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। ওই কথার জবাবে আনিসুজ্জামান বলেছিলেন, ‘আপনাদের চেয়ে ওরা তাঁকে ভালো চিনেছিল বলে।’

সব সমালোচনার বাইরে মুনীর চৌধুরী তাঁর দৃঢ়তা ও কর্মের মাধ্যমে বাঙালির চিত্তে স্থায়ী আসন অর্জন করেছেন। তাঁর মনোমুগ্ধকর নাটক, পাণ্ডিত্যপূর্ণ প্রবন্ধ, হূদয়োন্মাদকর বক্তৃতার জন্য তিনি নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর মতো ‘উদার-নির্মল’ মনের মুগ্ধকর শিক্ষক বাঙালি জাতির জীবনে কখনো আসবে কি?

বাঙালি জাতির সহস্র কালে মুনীর চৌধুরী অনন্য হয়ে আছেন— থাকবেন অনুপ্রেরণার ব্যক্তিত্বরূপে। তাই মুনীর চৌধুরী জীবিতের চেয়ে অধিক জীবিত।

 

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়