‘আমি যদি সরদারদের না চিনতাম, তাহলে আমার জীবন কী হতো আমি জানি না’— সরদার সম্পর্কে বুকের গহিন থেকেই আত্মজীবনীতে এমন কথা লিখেছিলেন শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিভাগের কিংবা একই ব্যাচের ছাত্র না হলেও চিন্তায়, রাজনৈতিক দর্শনে এক হয়েছিলেন তাঁরা। একালের অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, এই তাঁরার মধ্যে সরদারটা কে? কেউ কেউ বলতে পারেন, একজনকে তো চিনলাম, কিন্তু আরেকজন?

এখানে সরদার নিজেই হাঁক দিয়ে বলেন, ‘আমি সরদার বলছি।’ সব রকম পিছুটান ফেলে যে মানুষটি শিক্ষকতা, রাজনীতি নির্মোহ ও ত্যাগের প্রতীক সারা জীবন, তিনিই সাহস নিয়ে এমন কথা বলতে পারতেন। তিনিই আমাদের প্রিয় শিক্ষক সরদার ফজলুল করিম, যিনি কখনো ক্ষমতার কাছে থেকে লাভালাভের হিসাব-নিকাশ করেননি, যিনি ছিলেন বিনীত, প্রচারবিমুখ। ক্লাসে কিংবা রাজনীতির পাঠচক্রে সবসময়ই তাঁর দর্শনগুরু সক্রেটিসের কথা টেনে বলতেন, ‘আমি জানি যে, আমি কিছু জানি না; কিন্তু এরা জানে না যে, এরা কিছু জানে না।’

‘অনেক জানেন’ সেটি হোক শিক্ষকতা কিংবা বুদ্ধিজীবিতা— দুই ক্ষেত্রেই গতানুগতিক খোলসের বাইরের মানুষ ছিলেন তিনি। প্রয়াত এ দার্শনিক-বুদ্ধিজীবী-শিক্ষকের ক্লাসের ছাত্র হিসেবে, রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার জায়গা থেকে যারা তাঁর সান্নিধ্যে এসেছেন, তারা নিশ্চয়ই বিষয়টি মালুম করতে পারবেন। ক্লাসে পাঠ্যজ্ঞানের পাশাপাশি তিনি চেষ্টা করতেন রাষ্ট্রীয় দর্শন ও বিশ্বজ্ঞান হাজির করার। আর সে চেষ্টায় তার অবস্থান ছিল নির্মোহ। ক্ষমতা কাঠামোর বাইরে থেকে স্যার নৈর্ব্যক্তিকভাবে বিশ্লেষণ করতেন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা। রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি শিক্ষক-বুদ্ধিজীবী-চিন্তাবিদদের দায়দায়িত্ব কী, তা কখনো ভুলে যাননি সরদার স্যার? খুব সাবলীলভাবে তার লেখায়, কথায়, বক্তৃতায় আসত সাধারণ মানুষ, মানুষের কথা। কখনো দায় এড়াতে চাইতেন না। বলতেন, ‘রাজনীতিবহির্ভূত কোনো কিছুই নয়।’ তাঁর কথায়, রাজনীতির মধ্যে থেকেই বদলাতে হবে রাজনীতিকে।

এমন মানুষ কোত্থেকে হাজির হলেন আমাদের মাঝে। যেতে হবে বরিশালের আটিপাড়া গ্রামে; ১৯২৫ সালে যেখানে তাঁর জন্ম। বাবা খবিরউদ্দিন সরদার কৃষিকাজ করতেন। মা সফুরা বেগম ছিলেন গৃহিণী। আত্মজীবনীতে তিনি বলেছেন, ‘কৃষক পরিবারের ছেলে আমি। আমাদের পরিবারকে মধ্যবিত্ত পরিবার বলা চলে না। নিম্নমধ্যবিত্ত বললে ঠিক হয়। বছরের খোরাক হয় কিংবা কিছু কম পড়ে। বাজারে তরিতরকারি বিক্রি করেছি ছোটবেলায়।’

নিজেকে তিনি কৃষকের ছেলে বলতেই ভালোবাসতেন। গাঁও-গ্রামের মাটির সোঁদা গন্ধ শরীর থেকে কখনো ঝেড়ে ফেলেননি শিকড়সন্ধানী মানুষটি। তাই তিনি ভুলছেন না লেহাজ মামাকে। দূরসম্পর্কের এ আত্মীয়র কাছেই তার লেখাপড়ার হাতেখড়ি। সে স্মৃতি বর্ণনা করে বলছেন, ‘বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি কলম দিয়ে এই মামা হাতে ধরে আমাদের বর্ণমালা লিখতে শেখাতেন তালপাতায়। কাঠকয়লা গুঁড়ো করে পানিতে মিশিয়ে তৈরি হতো কালি। সেই কালিতে কঞ্চির কলম ডুবিয়ে সিদ্ধ করা তালপাতার ওপর বড় বড় করে অ, আ, ই ইত্যাদি অক্ষর লিখে দিতেন আর আমাদের সেই সব অক্ষরের ওপর লিখে লিখে হাত মকশো করতে হতো।’

বাঁশের কঞ্চির কলম আর কাঠকয়লার কালি দিয়ে শিক্ষার প্রথম পাঠ নেয়া এলাকার মেধাবী ছাত্রটি ১৯৪০ সালে বরিশাল জেলা স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক (এসএসসি) পাস করেন। ম্যাট্রিকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছিলেন। এর পর তাঁর গন্তব্য ঢাকায়। ভর্তি হন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে। ঢাকা কলেজ নামেই প্রতিষ্ঠানটির দেশজোড়া পরিচিতি।

উচ্চমাধ্যমিক পড়ার সময় কমিউনিস্ট আদর্শের সংস্পর্শে আসতে থাকেন কিশোর ফজলুল করিম। কিন্তু রাজনীতিতে তখনো জড়াননি। হাতে লেখা পত্রিকা বের করেছেন, হলের ভেতরেই নিজের ব্যক্তিগত লাইব্রেরি গড়ে তুলেছেন। আর এসবের মাঝে অনন্যকৃতী গড়লেন পরীক্ষার ফলাফলেও। ঢাকা বোর্ডে ইন্টারমিডিয়েটে (এইচএসসি) দ্বিতীয় হলেন। কোনো মুসলমান ছাত্র এ রকম রেজাল্ট করেনি এর আগে কখনো। সেই সুখস্মৃতি বয়ান করতে গিয়ে সরদার স্যার বলছেন, ‘ইন্টারমিডিয়েটে দ্বিতীয় হওয়ার পর আমার ইংরেজির অধ্যাপক আমাকে সাথে করে ক্লাসে ক্লাসে নিয়ে ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন। সবাইকে বলেছিলেন, দেখো একে কিন্তু আমি আবিষ্কার করেছি।’

আবিষ্কৃত এ ছাত্রের উচ্চশিক্ষার গন্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৪২ সালে ভর্তি হন। তখন এমন ফলাফলে যখন অনেকেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়মুখী, তখন সরদার ফজলুল করিম কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন? বড় ভাই, মুরব্বি মঞ্জে আলীর সিদ্ধান্তই এক্ষেত্রে মাথা পেতে নেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি প্রথমে ভর্তি হয়েছিলেন ইংরেজি বিভাগে, কিন্তু কিছুদিন পরই পরিবর্তন করে দর্শন বিভাগে চলে যান। এর ব্যাখ্যা সরদার দিচ্ছেন, ‘সব ক্লাসের পাশ দিয়ে ঘুরতাম। করিডোর দিয়ে গেলে এপাশ-ওপাশে বিভিন্ন ক্লাস দেখতে পেতাম। দর্শনের হরিদাস ভট্টাচার্যের বক্তৃতা শুনে খুব ভালো লাগল। সাংঘাতিক বক্তৃতা। সত্য কী, মিথ্যা কী— এসব বিষয় নিয়ে তিনি সেদিন আলোচনা করছিলেন। হরিদাস বাবুর কাছে গিয়ে বললাম, স্যার আমি দর্শনে পড়তে চাই।’

এভাবে দর্শনের ছাত্র বনে যাওয়া সরদার ইংরেজিতেও কম ঝানু ছিলেন না। স্মৃতিচারণ করে বলছেন, ‘হাদী সাহেব ছিলেন দর্শনের শিক্ষক। তিনি হাউজ টিউটর ছিলেন। তাঁর ইংরেজি বক্তৃতা আমি বাংলায় অনুবাদ করে দিয়েছি রেডিওতে পড়ার জন্য। তিনি আমাকে তাঁর বক্তৃতার ইংরেজি কপি দিয়ে বলতেন, ফজলুল করিম আপনি দেখেন তো কিছু করতে পারেন কিনা। স্যার আমার লেখা পড়ে খুব প্রশংসা করলেন।’

এর মাঝেই বামপন্থী রাজনীতির দিকে ঝুঁকতে থাকেন সরদার ফজলুল করিম। আসেন প্রখ্যাত সব কমিউনিস্ট নেতার সংস্পর্শে। আত্মজীবনীতে বলছেন, ‘রণেশ দাস গুপ্ত, সত্যেন সেন, অমৃত দত্ত, সরলানন্দ সেন ও অন্যরা নিয়মিত একটা পাক্ষিক সভায় মিলিত হতেন।... সেখানে আমরা মাঝে মাঝে যেতাম। আমার প্রধান দায়িত্ব ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে সৈয়দ নুরুদ্দীন, মুনীর চৌধুরী, সানাউল হক, আবদুল মতিন এদের মিটিংয়ে নিয়ে যাওয়া।’

রাজনীতির পাশাপাশি প্রগতি লেখক সংঘের সংগঠক হিসেবেও কাজ করতে থাকেন। লেখক সংঘের পত্রিকা ক্রান্তিতে সোমেন চন্দের ওপর তার লেখা ছাপা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পত্রিকায় লেখেন সাহিত্যের সমস্যা নিয়ে। কবি আহসান হাবীব কলকাতার সওগাত পত্রিকায় লেখাটি রিপ্রিন্ট করেন। নিজের ‘হবি’ হিসেবে সোভিয়েত সাহিত্যের অনুবাদও চালিয়ে যান। তাঁর রাজনীতি ও সাহিত্যচর্চা কিন্তু বাধা হয়নি লেখাপড়ায়। অনার্স ও মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণী পেয়েছিলেন। ১৯৪৬-এ মাস্টার্স পাস করতে না করতেই দর্শন বিভাগের শিক্ষক হয়ে গেলেন। কীভাবে শিক্ষক হলেন স্মৃতিচারণে বলছেন, ‘হরিদাস ভট্টাচার্য তখন অবসরে ছিলেন। তার পর এসএন রায়ের ভাই বিনয় রায় বিভাগীয় প্রধান। তিনি আমাকে বললেন, তুমি কাল থেকে ক্লাস নেবে। আমি পরদিন ক্লাস নিতে শুরু করলাম দর্শন বিভাগে।’

শিক্ষকতাকেই শুধু ধ্যান-জ্ঞান করেননি সরদার ফজলুল করিম, জড়িয়ে পড়েন মানুষের মুক্তির স্বপ্ন বাস্তবায়নের রাজনীতিতে। তাই তখনকার কাঙ্ক্ষিত বিলাতের স্কলারশিপ, রিজার্ভড ফর মুসলিমস পেয়েও শেষ পর্যন্ত যাননি ইন্টারভিউ বোর্ডে। স্মৃতিচারণে বলছেন, ‘ইন্টারভিউ কার্ড নিয়ে আমি কলকাতায় যাই। কলকাতায় গিয়ে আমি রাইটার্স বিল্ডিংয়ে না গিয়ে প্রথমে গেলাম কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে। ৮ নং ডেকার্স লেনে, এটাই ছিল কমিউনিস্ট পার্টির হেডকোয়ার্টার। সেখানে মুজাফফর আহমেদ, নৃপেণ চক্রবর্ত্তী। আমি হাসতে হাসতে বললাম। আমি তো বিলেতে যাচ্ছি। আমি ফিলসফিতে এমএ ও অনার্সে প্রথম শ্রেণী পেয়েছি, আমি মুসলিম। স্কলারশিপটা ফিলসফি ও মুসলমানদের জন্য রিজার্ভড।’ তরুণ সরদারের কথা শুনে হাসতে হাসতে কমিউনিস্ট নেতারা তাকে ঠাট্টার ছলে বললেন, ‘আপনি বিলেতে যাবেন আর আমরা এখানে বসে ভেরেণ্ডা ভাজব? আমি বললাম, আমাকে কী করতে হবে? ওঁরা বললেন, কাঁথা-কম্বল নিয়ে পার্টি অফিসে চলে আসেন। কী করতে হবে বোঝেন না? তো কাঁথা-কম্বল নিয়ে পরদিন পার্টি অফিসে আমি যাইনি, কিন্তু ইন্টারভিউ কার্ডটা ছিঁড়ে ফেলেছিলাম।’

‘(কমিউনিস্ট) পার্টি একদিন আমাকে বলে, তুমি তো চাকরি করে (পার্টির) কাজ করতে পারবে না। পুলিশ তোমাকে খোঁজ করছে। চাকরি ছেড়ে দাও। আমি তো বাধ্য কর্মী। একদিন বিভাগীয় প্রধানের কাছে একটি দরখাস্ত দিলাম। দরখাস্ত খুলে তিনি অবাক হলেন। তিনি বললেন, হোয়াট ডু ইউ মিন বাই ইট? আমি বললাম, স্যার একটা ডিসিশন হয়ে গেছে। এটা আর বদলানো যাবে না। আমি যেমন সহজে শিক্ষক হয়েছিলাম, তেমন সহজে শিক্ষকতার কাজ ছেড়েও দিলাম।’ এ সিদ্ধান্তে তার শিক্ষক হরিদাস ভট্টাচার্য বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ নেভার সিন এ বয় লাইক হিম।’

এভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার চাকরি ছুড়ে ফেলে তিনি ফুলটাইম কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন। এ কারণে তত্কালীন পাকিস্তান সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল, ‘হোয়াই সরদার ফজলুল করিম হ্যাজ রিজাইনড? তার ঠিকানা কোথায়, তোমরা আমাদের জানাও।’ চলে গেলেন কষ্টের আন্ডারগ্রাউন্ড জীবনে। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গোপনে পার্টির কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন এ সময়। ১৯৪৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর সাংবাদিক সন্তোষ গুপ্তের বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন। পাকিস্তান আমলের ১১ বছর কারাগারেই কাটাতে হয়েছে তাঁকে। কখনো দমে যাননি। কারাবন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণের দাবিতে অংশ নিয়েছিলেন ৫৮ দিনের অনশনে। সেখানে থেকেই পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে খবর পৌঁছেছে আমেরিকার ওয়াশিংটনেও, ‘ওয়াশিংটনে আমার নির্বাচনের খবরটা আসে এভাবে: ওয়ান কমিউনিস্ট ফ্রম জেইল ইলেক্টেড টু কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেমব্লি।’

স্বীকৃতিকে আমলে না নেয়ার মানুষটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদক পেয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের স্বীকৃতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। ওসমান নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন লাইব্রেরি অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর জেলখানা থেকে মুক্তি পেয়ে সরদার স্যার লাইব্রেরিতে গেলেন। সেখানে ওসমানের স্বীকৃতি, ‘ওসমান আমাকে যেভাবে ওয়েলকাম করল, সেটা খুব সিগফিক্যান্ট: স্যার আপনি তো একটা ডেঞ্জারাস লোক। আপনি সেই যে পাকিস্তান ভাঙবেন বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লেন, পাকিস্তান না ভাইঙ্গা আপনি আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরলেন না। আমার জীবনটাকে আমি এ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখিনি। কিন্তু ওর অবজার্ভেশনটায় কিছুটা সত্য যে আছে, তা অস্বীকার করি কী করে?’

দীর্ঘদিন লড়াকু, বিপ্লবী জীবন কাটিয়ে তিনি লেখালেখিকে লড়াই সংগ্রামের হাতিয়ার করেছিলেন। এ মনীষী জ্ঞানের যেসব ক্ষেত্রের সঙ্গে আমাদের পরিচিত করিয়েছেন, আর কেউ সেভাবে ভাবেননি। রচনা করেছেন ‘দর্শনকোষ’ লেখার মতো পরিশ্রমসাধ্য কাজ। এতে স্থান পেয়েছে দর্শন, ধর্ম, রাষ্ট্র ও তাত্ত্বিকদের ওপর বাংলা পরিভাষাসহ প্রায় ৫০০ ব্যাখ্যামূলক প্রবন্ধ। সরদার স্যারের মৌলিক ও অনুবাদগ্রন্থের তালিকায় নজর দিলে বোঝা যাবে জ্ঞান সাধনা ও শিক্ষাক্ষেত্রের দৈন্য দূর করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রয়াস। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, ‘প্লেটোর রিপাবলিক’, ‘এরিস্টটলের পলিটিকস’, ‘প্লেটোর সংলাপ’, ‘এঙ্গেলসের অ্যান্টিডুরিং, ‘রুশোর সোস্যাল কন্ট্রাক্ট’, ‘নানা কথার পরের কথা’, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজ’, ‘চল্লিশের দশকের ঢাকা’, ‘সেই সে কাল’।

সরদার স্যারের পুরো জীবনকে এক কথায় চমত্কারভাবে বর্ণনা করেছেন মার্জিয়া লিপি। ২০১৪ সালের ১৫ জুন এ মহাজ্ঞানীর মহাপ্রয়াণের পর তাঁর ‘দিনলিপি’ প্রকাশ হয়। এর সম্পাদক মার্জিয়া বলছেন, ‘১১ বছরের জেলজীবন, ৫৮ দিনের অনশন, বিলেতে বৃত্তির আমন্ত্রণপত্র ছিঁড়ে ফেলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাওয়া— এসব অভিজ্ঞতার কোনো কিছুই তাঁর হিসাবে লোকসান নয়।’ কেননা বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত্ সরদার ফজলুল করিম মনে করতেন, ‘তাঁর পুরো জীবনটাই লাভের।’

 

লেখক: সাংবাদিক