প্রথমদিকে মানুষের টেস্টটিউব বেবি নিয়ে একটি ভুল ধারণা ছিল, হয়তোবা এ বেবি কার ডিম বা কার স্পার্ম নিয়ে তৈরি করা হয় তা ভেবে। কিন্তু মূলত এতে ভয়ের কিছু নেই। পেশেন্টের নিজের ডিম্বাণু ও হাজব্যান্ডের স্পার্ম থেকে একটি ল্যাবের ভেতরে কৃত্রিমভাবে ডিম্বাণুটি বের করে স্পার্মের সঙ্গে মিশিয়ে আইভিএফ পদ্ধতিটি সম্পন্ন হয়। প্রথমে পেশেন্টকে ইনজেকশন দিয়ে ডিম্বাণুগুলো বড় করা হয়। এরপর একটি নির্দিষ্ট দিনে ডিম্বাণু একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে বের করে এনে ল্যাবে হাজব্যান্ডের স্পার্মের সঙ্গে বিশেষ পদ্ধতিতে মিক্স করার পর ভ্রূণ তৈরি হয়। তারপর সেই ভ্রূণটা পেশেন্টের জরায়ুতে দুদিন বা তিনদিনের দিন প্রতিস্থাপন করা হয়। এই পদ্ধতিকে ফ্রেশ ট্রান্সফার বলে। আগে এ পদ্ধতি বেশি প্রচলিত ছিল।
এখন আমরা বেশির ভাগ পেশেন্টের ক্ষেত্রে ফ্রোজেন এমব্রায়ো ট্রান্সফার করে থাকি। যেই সময় ভ্রূণটি তৈরি হয়েছে সেই সাইকেলে পেশেন্ট অনেক সময় টেনশনে থাকে, তার জরায়ুর কন্ডিশন অনেক সময় ভালো নাও থাকতে পারে, অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা ভ্রূণটিকে ফ্রিজ করে রেখে দিই। এক্ষেত্রে পেশেন্ট দশ থেকে পনেরো বছর তার ভ্রূণটিকে ফ্রিজ করে রাখতে পারবেন, লিকুইড নাইট্রোজেনের মাঝে ভ্রূণ এক্ষেত্রে ফ্রিজ করে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে যখন পেশেন্ট ভ্রূণ ট্রান্সফারের জন্য প্রিপেয়ারড হবেন, তখন হিমায়িত ভ্রূণ ‘থ’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রেডি করে জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। এ পদ্ধতিকে ফ্রোজেন এমব্রায়ো ট্রান্সফার বলা হয়। ফ্রেশ ট্রান্সফারের চেয়ে এ পদ্ধতিতে সাকসেস রেট বেশি।
সাকসেস রেট উন্নত বিশ্বে যেমন আমাদের সেন্টারেও তাই বজায় আছে। আমাদের এখানে আইভিএফ, এমব্রায়ো ফ্রিজিং, স্পার্ম ফ্রিজিং ইত্যাদি করছি। কেউ যদি তার ফার্টিলিটি প্রিজারভ করতে চায় সেক্ষেত্রে আমরা তার ডিম্বাণু প্রিজারভ করে রাখতে পারি। আনম্যারিড পেশেন্ট, সেলেব্রিটি ইত্যাদি অনেকেই অনেক সময় চাইলে আমরা ডিম্বাণু প্রিজারভ করে রাখি। আবার ক্যান্সারের পেশেন্টের ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি দেয়া হলে অনেক সময় ডিম্বাণু নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদের ওভারিয়ান টিস্যু আমরা চাহিদা মোতাবেক প্রিজারভ করে রাখতে পারি।
- এমব্রায়োলজিস্ট, স্কয়ার ফার্টিলিটি সেন্টার






