স্মার্ট কিচেনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় বোর্ডের। কিচেনে স্মার্ট লুক আনতে সবকিছু সুসংগঠিত রাখার প্রয়োজন হয়। আর এ কাজে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে বোর্ড। পাশাপাশি ক্যাবিনেটবিহীন স্মার্ট কিচেনের কথা তো ভাবাই যায় না।
ক্যাবিনেট বানানো, কাটাকাটি করার সারফেস ইত্যাদি জায়গায় বোর্ডের ব্যবহার দুনিয়াজুড়ে হচ্ছে। বাংলাদেশেও সম্প্রতি এর ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। কারণ বোর্ডের ব্যবহার দিয়ে স্মার্ট কিচেনের বেশ বড় অংশ ডেকোরেট করা যায়। এছাড়া যেকোনো ধরনের ক্যাবিনেট সলিউশন বোর্ড দিয়ে করা সম্ভব।
বোর্ডের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশেও বেড়েছে এর উৎপাদন। সেই সঙ্গে দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানিও করা হচ্ছে বোর্ড। এ বিষয়ে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান আকিজ বশির গ্রুপের অপারেশন্স ডিরেক্টর (বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, ‘টেবিলওয়্যার উৎপাদনে বাংলাদেশ অনেক আগে থেকেই বেশ উন্নত। আমাদের দেশ অনেক আগে থেকেই ইউরোপের বাজারে টেবিলওয়্যার পাঠাচ্ছে। আকিজ বশির গ্রুপ থেকে আমরাও আমাদের মোট উৎপাদনের ৪০ শতাংশ বিদেশে রফতানি করছি। আমরা আশা করছি, এ হার দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাবে।’
বিভিন্ন ধরনের বোর্ড বিক্রি করলেও স্মার্ট কিচেনের জন্য প্লাইউড, বেয়ার বোর্ড বা প্লেইন পার্টিক্যাল বোর্ড, মেলামাইন ফেস বোর্ড, এমডিএফ বোর্ডসহ আরো অনেক ধরনের বোর্ড আকিজ বশির গ্রুপ তৈরি করে থাকে। তবে স্মার্ট কিচেনের জন্য তারা মূলত ইউভি বোর্ড তৈরি করছে। খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমাদের দেশীয় ডিজাইনাররা রান্নাঘরে অনেক ধরনের বোর্ড ব্যবহার করে থাকেন। তবে এইচপিএল বা অ্যাক্রেলিক বোর্ডের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে এইচপিএল বা অ্যাক্রেলিকের শিটটা উঠে যায় বা সাইডের দিকে একটু হলদে ভাব চলে আসে। ইউভি বা হাইগ্লাস বোর্ডে এ সমস্যা থাকে না। যদিও আমাদের কাছে অ্যাক্রেলিক, হাইগ্লাস ও এইচপিএল এ তিন ধরনের বোর্ডই আছে এবং গ্রাহক তার প্রয়োজনমতো যেকোনো ধরনের বোর্ডই ব্যবহার করতে পারেন। তবে আমরা গ্রাহককে হাইগ্লাস বোর্ড ব্যবহারেরই পরামর্শ দিই। কারণ এর স্থায়িত্ব অন্যান্য বোর্ডের তুলনায় অনেক বেশি।
বোর্ডের ব্যবহার রান্নাঘরে বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। যেহেতু রান্নাঘরে পানি ও তেলের ব্যবহার বেশি হয় সেহেতু এর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায়ও একটু নজর রাখা উচিত। বোর্ডের সুবিধা হলো যেকোনো ধরনের ক্লিনার ব্যবহার করলেও এর সারফেসের কোনো ক্ষতি হয় না। কালার ও টেক্সচার যেমন ছিল, তেমনই থাকে। তবে খুব হাইলি অ্যাসিড টাইপের কোনো কিছু ব্যবহার না করাটাই উত্তম। সাবান বা এ টাইপের কোনো কিছু ব্যবহার করলে এটি সহজে পরিষ্কার করা যায়। তাই পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয় না। নিয়মিত পরিষ্কার করলেও কোনো সমস্যা হয় না। তবে পানিতে যেন বোর্ড ডুবে না থাকে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখলেই বোর্ড দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই হবে।
লোয়ার পার্টের স্টোরেজ হোক কিংবা ওপরের ক্যাবিনেট হোক অথবা ওভেন রাখার স্পেস হোক, স্মার্ট কিচেনের যেকোনো কিছু এখন বোর্ড দিয়ে করা যাচ্ছে।





